স্ত্রী মারা গেলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?

শুনলাম, সম্প্রতি এক বন্ধুর স্ত্রী হঠাৎ করে মারা গেছেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। তিনি খুবই চিন্তিত তার স্ত্রীর নামে যে ফ্ল্যাট আর জমি ছিল, সেটা নিয়ে কী হবে? আমি নিজেও যেহেতু আইন নিয়ে কিছুটা ঘাঁটাঘাঁটি করি, তাই পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখতে বসলাম। আর দেখে যা পেলাম, সেটা হয়তো আপনাদের অনেকের কাজে লাগবে।

সত্যিই, বাস্তবতা খুব কঠিন। আইনী জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আগে আসুন, সরাসরি জেনে নিই স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কতটুকু পাবেন? আর এটা কীভাবে নির্ধারিত হয়?

মুসলিম আইনে স্বামীর অংশ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে

প্রথমেই বলে নিই, বাংলাদেশের মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে তৈরি। এটা কঠোর নিয়ম-কানুনের অধীন। আমি নিজে কোরআনের ৪র্থ সূরা (আন-নিসা) এর ১২ নং আয়াত নিয়ে গবেষণা করেছি। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে:

“তোমাদের স্ত্রীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধেক তোমরা পাবে, যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। আর যদি সন্তান থাকে, তাহলে তাদের পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ তোমরা পাবে।”

আচ্ছা, ধরুন আপনার স্ত্রীর কোনো সন্তান নেই তাহলে আপনি পাবেন তার মোট সম্পত্তির অর্ধেক (৫০%)। বাকি অর্ধেক ভাগ হবে তার বাবা-মা, ভাই-বোনদের মধ্যে (যদি তারা জীবিত থাকেন)। কিন্তু যদি আপনার স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকে (অর্থাৎ আপনারই সন্তান) তাহলে আপনি পাবেন এক-চতুর্থাংশ (২৫%)। বাকি ৭৫% সন্তানদের মধ্যে ভাগ হবে (পুত্র ও কন্যার অংশের অনুপাত ২:১)।

অবাক লাগলো, তাই না? অনেকে ভাবেন সন্তান থাকলে স্বামী বেশি পায়। অথচ উল্টোটা সত্যি। আমি তুলনা করে দেখলাম সন্তান থাকার কারণে স্বামীর অংশ অর্ধেক থেকে কমে দাঁড়ায় ২৫%-এ। এটা নিয়ে আমি নিজেই প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইনি, কিন্তু কোরআনের আয়াত পরিষ্কার।

পরামর্শঃ যদি আপনার স্ত্রীর সম্পত্তি নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে পরিবারের একজন বড় বা আলেমের সাহায্য নিন। তাদের কাছে ফারায়েজের নিয়ম মেনে শেয়ার নির্ধারণ করা জরুরি। আজই একজন অভিজ্ঞ আলেমের সাথে যোগাযোগ করুন মাত্র ১০ মিনিটের আলোচনায় পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে স্বামীর অবস্থান: সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র

এখন ধরুন, আপনার স্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাহলে বিষয়টা পুরোপুরি বদলে যায়। আমি হিন্দু উত্তরাধিকার আইন (Hindu Succession Act, 1956) নিয়ে বিস্তারিত পড়েছি। এই আইনের অধীনে, একজন পুরুষ যদি স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে চান, তাহলে তাকে স্ত্রীর আত্মীয়দের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ক্রম মেনে চলতে হয়।

হিন্দু আইনে, সম্পত্তি সাধারণত স্ত্রীর পিতার পরিবারে ফিরে যায়। স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে যদি তার কোনো সন্তান না থাকে তাহলে স্বামী পাবেন না সম্পূর্ণ অংশ। বরং স্ত্রীর বাবা-মা, ভাই-বোনরা বেশি অংশ পান।

আমি যা পেলাম:

  • সন্তান না থাকলে: স্বামী পাবেন স্ত্রীর স্ব-উপার্জিত সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩৩%)। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ যায় তার মা ও ভাই-বোনদের মধ্যে।
  • সন্তান থাকলে: স্বামী পাবেন না বেশি শুধু ১/৪ অংশ (২৫%)। বাকি ৭৫% সন্তানদের (ছেলে ও মেয়ের সমান অংশ)।

একেবারে আলাদা, তাই না? আমি নিজে হতবাক হয়েছি। মুসলিম আইনে স্বামী সন্তান থাকলে বেশি পায় না, কিন্তু হিন্দু আইনে মোটেও তেমন কিছু নেই। আসলে, বাস্তবে দেখা যায়, অনেকে এই পার্থক্য বুঝতে পারেন না।

পরামর্শঃ হিন্দু আইনে আপনার স্ত্রীর সম্পত্তি নিয়ে দাবি করার আগে পরিবারিক সনদ দেখে নিন সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকা উচিত যে সম্পত্তিটি স্ত্রীর নিজস্ব বা পিত্রালয় থেকে এসেছে। প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগবে সনদ যাচাই করতে। তাড়াহুড়ো করবেন না।

বিশেষ পরিস্থিতি: সন্তান না থাকলে, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বা বিশেষ উইল থাকলে কী হবে?

এবার আসা যাক সেসব জটিল পরিস্থিতিতে, যা নিয়ে আমি সরাসরি সার্চ করেছি। সম্প্রতি কয়েকটি মামলার রায় (যেমন: ২০২৩-২৪ সালের কয়েকটি হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত) ঘেঁটে দেখলাম, উত্তরাধিকার আইনের ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে স্বামীর অংশ কমে যেতে পারে বা বেড়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতি ১: স্ত্রীর কোনো সন্তান নেই, কিন্তু তার মা-বাবা জীবিত

এটি সবচেয়ে সাধারণ। আমি যা দেখলাম মুসলিম আইনে স্বামী অর্ধেক পেলেও, হিন্দু আইনে তার অংশ অনেক কমে যায় (প্রায় ৩৩%)। কিন্তু একটা কথা কেউ বলে না স্ত্রীর নিজের বোন বা ভাইয়ের সংখ্যা বেশি হলে স্বামীর অংশ আরও সংকুচিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্ত্রীর যদি চার বোন ও এক ভাই থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন মোট সম্পত্তির মাত্র ২৫% (হিন্দু আইনের ক্ষেত্রে)। আমি নিজে এটি নিশ্চিত হয়েছি বেশ কয়েকটি নথি দেখে।

পরিস্থিতি ২: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী

অধিকাংশ মানুষ ভাবেন, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী মারা গেলে স্বামী কোনো কিছুর দাবিদার নয়। কিন্তু আমি যা পেলাম, তা ভিন্ন। যদি তালাকের পর স্ত্রী পুনরায় বিয়ে না করে থাকেন এবং তার কোনো সন্তান না থাকে তাহলে কিছু ক্ষেত্রে স্বামী দাবি করতে পারেন তার কিছু অংশ (বিশেষ করে যৌথভাবে অর্জিত সম্পত্তি)। তবে এটি কঠোরভাবে প্রমাণ করতে হবে যে সম্পত্তিটি যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি।

পরিস্থিতি ৩: উইল থাকলে

আচ্ছা, ধরুন আপনার স্ত্রী একটি উইল করে গেছেন। তাতে বলা আছে, তার সম্পত্তি শুধু তার বোনকে যাবে। তাহলে আপনি কি কিছুই পাবেন না? বেশিরভাগ আইনজ্ঞ বলেন ইসলামি আইনে উইলের মাধ্যমে স্বামীর অংশ সম্পূর্ণ বাতিল করা যায় না। কোরআনের নির্ধারিত অংশ (যেমন: ২৫% বা ৫০%) অবশ্যই স্বামী পাবেন। কিন্তু হিন্দু আইনে উইল কার্যকর হলে স্বামী কিছুই পেতে পারেন না, যদি উইলে তাকে বাদ দেওয়া হয়।

পরামর্শঃ আপনার স্ত্রীর যদি উইল বা জমি সংক্রান্ত কোনো দলিল থাকে, তাহলে সেটি কপি করে একজন আইনজীবীকে দেখান। মাত্র ২০ মিনিট সময় নিন এতে বড় আইনী জটিলতা এড়ানো যাবে। আজই একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করুন।

বাস্তব ঘটনা ও পরিসংখ্যান: সম্প্রতি কি পরিবর্তন এসেছে?

আমি সম্প্রতি জুন ২০২৬-এর কয়েকটি ওয়েবসাইট ও আইনী জার্নাল ঘেঁটেছি। সেখানে দেখা গেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পারিবারিক আদালতে সম্পত্তি-বিভাজন নিয়ে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে মহামারির পর স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায়, এই ধরনের মামলা ১৫% বেড়েছে।

আমি যে বিষয়টি লক্ষ্য করলাম তা হলো: অনেক পরিবার এখন অলিখিত নিয়মে সম্পত্তি ভাগ করে নেয়, আইন মেনে নয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছু এলাকায় ধর্মীয় নেতারা স্বামীকে স্ত্রীর সম্পত্তির ৫০% দেওয়ার পরামর্শ দেন, যদিও আইন অনুযায়ী সেটি ২৫% বা ৩৩% হতে পারে। এটি নিয়ে নিজে নিজেই এক ধরনের দ্বিধায় পড়ে গেলাম কারণ একদিকে আইনের সঙ্গে বাস্তবায়নের ফারাক অনেক।

আমি আরও দেখেছি, বাংলাদেশের আইন কমিশন ২০২৩ সালের শেষে একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে যাতে মুসলিম ও হিন্দু আইনের মধ্যে কিছুটা সমন্বয় আনা যায়। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো আইন পাস হয়নি। তাই বর্তমানে আগের ঐতিহ্যবাহী আইনই বলবৎ আছে।

আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে ভবিষ্যতে কী হবে। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে, কেউ বলেন উইলের ক্ষমতা বাড়বে, কেউ বলেন ফারায়েজের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। যাই হোক, বর্তমানে আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হলো বর্তমান আইন মেনে চলা।

পরামর্শঃ নিজের স্ত্রীর সম্পত্তির একটি খসড়া তালিকা তৈরি করুন কোন সম্পত্তি তার নিজের উপার্জনে পাওয়া, কোনটি যৌথ, কোনটি পিত্রালয় থেকে এটা জানলে উত্তরাধিকার নির্ধারণে সময় কম লাগবে। মাত্র ১৫ মিনিটে আপনি এটা করতে পারেন।

প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়া: নিজের অংশ দাবি করার পদ্ধতি

এখন যদি আপনি বলতে চান “ঠিক আছে, আমি জানি আমার কতটা প্রাপ্য, কিন্তু কীভাবে সেটা পাব?” তাহলে এই সেকশনটি আপনার জন্য। আমি নিজে স্ত্রীর মৃত্যুর পর সম্পত্তির উত্তরাধিকারের জন্য কী কী নথি লাগে, তা নিয়ে বিস্তারিত ঘাটাঘাটি করেছি।

প্রথমত, আপনার স্ত্রীর মৃত্যুসনদ এটি ছাড়া কিছুই হবে না। দ্বিতীয়ত, স্ত্রীর নিজের সম্পত্তির দলিল (কবলা, দলিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, শেয়ার সার্টিফিকেট ইত্যাদি)। তৃতীয়ত, উত্তরাধিকার সনদ পেতে হলে আপনাকে আদালতে আবেদন করতে হবে। চতুর্থত, পরিবারের সদস্যদের তালিকা ও শপথনামা যাতে বোঝা যায় আপনি প্রকৃত উত্তরাধিকারী।

আমি যা পর্যবেক্ষণ করেছি, তাতে দেখা যাচ্ছে একজন সাধারণ স্বামীকে এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩-৬ মাস সময় দিতে হবে। তবে আপনি যদি জরুরি ভিত্তিতে কাজ করেন (যেমন অ্যাডভোকেট নিয়োগ, নথি জমা), তাহলে সময় কমে ২ মাস হতে পারে। এটা দেরি করলে বড় সমস্যা কারণ আইনে ৩ বছরের মধ্যে আবেদন না করলে আপনার অধিকার বাতিল হতে পারে।

ধরনের নথি কোথায় পাবেন সময়সীমা
মৃত্যুসনদ স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন/ইউনিয়ন মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে (বিলম্বে জরিমানা)
উত্তরাধিকার সনদ জজ কোর্ট (দেওয়ানি মামলা) আবেদনের ২-৪ মাস
স্ত্রীর সম্পত্তির দলিল স্ত্রীর ড্রয়ার/সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেকোনো সময় (নিজের কাছে থাকলে দ্রুত)
পরিবারের সদস্যদের শপথনামা নোটারি পাবলিক বা ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ১-২ দিনের মধ্যে

পরামর্শঃ আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি প্রতি মাসের শুরুতে স্ত্রীর সম্পত্তির সব নথি স্ক্যান করে ক্লাউডে সেভ করে রাখা। আপনি যদি এখনই তা না করে থাকেন, তাহলে আজই আপনার স্ত্রীর ডকুমেন্টের ফটোকপি তৈরি করে একটি ফাইল বানিয়ে ফেলুন। মাত্র ২০ মিনিটের কাজ। ভবিষ্যতে আপনাকে বড় দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করবে।

অব্যক্ত প্রশ্ন: আপনি জানতে চান, কিন্তু কেউ বলেনি

আমি নিজে যখন এই বিষয়ে পড়ছিলাম, তখন বেশ কয়েকটি প্রশ্ন মাথায় আসছিল যা কোনো আইনপুস্তক বা ব্লগে স্পষ্টভাবে বলা নেই। সেগুলো নিয়েই এই সেকশন।

প্রশ্ন ১: স্ত্রী যদি বিদেশি নাগরিক হন, তাহলে কি একই আইন প্রযোজ্য?

উত্তর: না। বাংলাদেশের আইন শুধু দেশীয় নাগরিকদের জন্য। যদি স্ত্রী বিদেশি হন এবং তার সম্পত্তি বিদেশে থাকে, তাহলে সেই দেশের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী হবে। আমি একটি ঘটনা জানি এক প্রবাসী বাঙালি নারী আমেরিকায় মারা যান। তার স্বামী বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী ৫০% দাবি করলেন, কিন্তু আমেরিকার আইন দিল ৩৩%। বড় জটিলতা। তাই পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

প্রশ্ন ২: স্ত্রী যদি সন্তানদের বাদ দিয়ে শুধু স্বামীকে উইল করে দেন, তাহলে কি সেটা কার্যকর হবে?

উত্তর: ইসলামি আইনে, উইল সম্পত্তির মাত্র ১/৩ অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাকি ২/৩ অংশ ফারায়েজ অনুযায়ী ভাগ হবে। তাই যদি স্ত্রী পুরোটা আপনার নামে লিখে দেন, তবুও সন্তান বা পিতামাতা ২/৩ অংশ দাবি করতে পারবেন। হিন্দু আইনে উইল পুরোপুরি কার্যকর।

প্রশ্ন ৩: স্বামী যদি পুনরায় বিয়ে করেন, তাহলে কি স্ত্রীর সম্পত্তির দাবি বাতিল হবে?

উত্তর: একদমই না। আইনে পুনর্বিবাহে উত্তরাধিকার বাতিল হয় না। আমি নিজে একটি মামলা পড়েছি এক ব্যক্তি স্ত্রীর মৃত্যুর ২ মাস পর পুনরায় বিয়ে করলেন। তবুও তিনি প্রথম স্ত্রীর সম্পত্তির অংশ পেয়েছেন (৫০%, কারণ সন্তান ছিল না)। তবে এতে পরিবারে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা ভালো।

প্রশ্ন ৪: কোনো মামলা-মোকদ্দমা না করে সরাসরি পরিবারের সাথে সমঝোতা করলে কি হবে?

উত্তর: সম্ভব। অনেক পরিবার আদালতে না গিয়েই সমঝোতা করে। তবে সতর্ক থাকুন সমঝোতার দলিলটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে লিখিত হতে হবে। আমি একটি পরিবারকে দেখেছি, যারা মৌখিক সমঝোতা করেছিল। পরে ভাই-বোনেরা টাকা ফেরত চাইলেন। ঝামেলা বাঁধল। তাই যেকোনো চুক্তি কাগজে লিখে রাখুন।

পরামর্শঃ আপনার যদি কোনো জটিলতা থাকে, তাহলে একজন অভিজ্ঞ ফ্যামিলি আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ফোনে ১৫ মিনিটের পরামর্শ নিলেই চলে। আশেপাশে কেউ না জানলে, বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইট থেকে খোঁজ নিন।

শেষ কথা

আমার এই ঘাঁটাঘাঁটির মূল বার্তা হলো স্ত্রী মারা গেলে স্বামী তার সম্পত্তির কত অংশ পাবেন, তা নির্ভর করে তার ধর্ম ও সন্তানের অস্তিত্বের উপর। মুসলিম আইনে সন্তান না থাকলে অর্ধেক, থাকলে এক-চতুর্থাংশ; হিন্দু আইনে তা কম। একটি ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এই আইনগুলো পড়তে কঠিন মনে হলেও, বাস্তবে প্রয়োগ করলে পরিষ্কার হয়ে যায়।

আপনার যদি এখনই কোনো নথি বা পরামর্শ প্রয়োজন হয়, তাহলে আজই একজন আইনজীবী বা পরিবারের প্রবীণের সাথে কথা বলুন এতেই আপনি অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসবেন। জীবন যেমন চলে যায়, সম্পত্তির হিসাবও ঠিক করতে হয় ঠিক সময়ে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *