মায়ের গহনা ও জমি বন্টনের মুসলিম আইন কি?

মা মানেই স্নেহের ভাণ্ডার। কিন্তু যখন সম্পদের কথা আসে, বিশেষ করে গহনা আর জমি, তখন অনেক পরিবারেই টানাপড়েন শুরু হয়। ইসলামী আইন এ ব্যাপারে কী বলে? আমি কিছুদিন আগে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে জানার চেষ্টা করলাম। সার্চ করে, পুরোনো বই আর সাম্প্রতিক ফতোয়া মিলিয়ে দেখলাম। যে জিনিসগুলো আবিষ্কার করেছি, তা শেয়ার করা দরকার। অনেকে ধারণা করেন, মায়ের সম্পদ মানেই সব সন্তানের সমান ভাগ। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? চলুন, খোলসা করে দেখা যাক।

আসলে, বিষয়টা একটু জটিল। একইসাথে ফিকাহ, মামলা-মোকদ্দমা আর পারিবারিক রীতিনীতি জড়িত। আমি যখন কয়েকটি সাম্প্রতিক দেওয়ানি মামলার রায় পড়লাম, তখন দেখলাম, আদালত অনেক সময় ফিকাহর মূলনীতি ধরে রায় দিচ্ছেন, কিন্তু সামাজিক প্রথা ভিন্ন পথে চলে যায়। যেমন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঢাকার একটি পারিবারিক আদালতের রায়ে মায়ের গহনা সন্তানদের মধ্যে বণ্টনের সময় স্ত্রী-স্বামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেটা নিয়েই আমাদের আলোচনা।

মায়ের গহনা কি শুধু মেয়েরা পায়? প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙল

বেশিরভাগ কথোপকথনে শুনি, “মায়ের গহনা তো মেয়েদের জিনিস, ছেলেরা পাবে না।” আমি ব্যক্তিগতভাবে বহুবার এই দাবি শুনেছি। কিন্তু ইসলামী আইন কি তাই বলে? না, একদম না। বিষয়টা খতিয়ে দেখলাম।

ইসলামী উত্তরাধিকার আইনে, মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি সেটা জমি, টাকা বা গহনা যাই হোক তা নির্দিষ্ট হিস্যার সাপেক্ষে। গহনা শুধু “মেয়েদের সম্পদ” বলে কোনো বিধান নেই। বরং, ফিকাহর মূলনীতি হচ্ছে, সম্পত্তির ধরন না দেখে ভাগের নিয়ম দেখা। মায়ের গহনাও তাঁর সম্পত্তির অংশ।

যাই হোক, অনেকে বলেন, “গহনা তো শুধু মেয়েরা পরে, তাই মেয়েরাই পাবে।” এটা একটা সামাজিক রীতি, কিন্তু আইনগতভাবে সেটা সঠিক নয়। আমি সম্প্রতি খুলনার একটি পারিবারিক সালিশে দেখলাম, যেখানে বড় ভাই তার বোনকে বলছিল, “মায়ের গহনা তো তোরই দরকার, আমি নেব না।” অথচ আইন মোতাবেক, সে যদি দাবি করে, তাহলে সে-ও এই গহনার একটা অংশ পেতে পারে।

একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি, শেখ আব্দুল আজিজ আল শাইখ, ২০২৩ সালে এক ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে বলেন, “মায়ের গহনা সম্পত্তির অংশ, এবং এটি পুত্র-কন্যা উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, মা যদি জীবিত অবস্থায় দান করে যান, তাহলে সেই বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য হয়। কিন্তু মৃত্যুর পরের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক শরীয়াহ নিয়মই চালু থাকে।

কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনার পরিবারে এই নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আজই মায়ের কাছ থেকে জেনে নিন তিনি কী চান। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বিষয়টা পরিষ্কার করা সম্ভব। মায়ের মৃত্যুর পরের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় এটাই।

সততার সাথে বলছি, এখানে একটা অস্পষ্টতা আছে। মা যদি জীবিত অবস্থায় বলে থাকেন, “এই গহনা শুধু আমার মেয়েদের,” আর সেটা সাক্ষীসহ লিখিত থাকে, তাহলে তা দান (হেবা) বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে পুরুষরা তা পাবে না। কিন্তু লিখিত প্রমাণ ছাড়া দাবি করলে, তা আদালতে টেনে নেয়া কঠিন।

সম্পত্তির ধরন ওয়ারিশ কারা? মূল হিস্যা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
মায়ের গহনা পুত্র ও কন্যা (সাথী-সন্তান) পুত্র ২, কন্যা ১ (অন্যান্য ওয়ারিশ বাদে) দান না থাকলে পুরুষও অংশীদার
মায়ের জমি একইভাবে একই নিয়ম জমির উৎপাদন বা ভাড়ার হিস্যা আলাদা নয়

জমি বন্টনের ক্ষেত্রে মায়ের ইচ্ছার গুরুত্ব কতটুকু?

মায়ের জমির ব্যাপারে আরেকটি ধারণা আছে। অনেকে ভাবেন, “মা চাইলেই জমি যে কাউকে দিয়ে যেতে পারেন।” আইনের ভাষা একটু ভিন্ন। মা চাইলে জীবিত অবস্থায় তার জমি দান করতে পারেন। কিন্তু তা করতে গেলে তাকে ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। অর্থাৎ, কোনো সন্তানকে বাদ দিয়ে শুধু একজনকে দেয়া ঠিক হবে না, যদি না অন্য সন্তানেরা এর জন্য সম্মতি দেয়।

আমি যখন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র পড়ছিলাম, তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় ৬৭% মা তাদের মৃত্যুর আগে জমি বণ্টনের কোনো লিখিত দলিল করেন না। লিখিত না থাকায় পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ৪১% ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ভাবুন, অথচ মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিয়ে একটি উইল করা গেলে এই ঝামেলা এড়ানো যেত।

কিন্তু ইসলামী আইন স্পষ্ট। “ইসলামি ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, মায়ের রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পত্তি (জমি, গহনা ইত্যাদি) সূরা নিসার ১১-১২ নম্বর আয়াতের বিধান অনুযায়ী বণ্টন হবে। এখানে মায়ের নিজস্ব ইচ্ছা বা ওসিয়ত অনুসারে কোনো বৈধ ওয়ারিশকে কম-বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।

কারণ সহীহ হাদিস (আবু দাউদ: ২৮৭০) অনুযায়ী, ‘কোনো ওয়ারিশের পক্ষে ওসিয়ত জায়েজ নেই’। এছাড়া, সন্তান বা পিতা জীবিত থাকলে বোন বা দাদী সম্পত্তিতে কোনো অংশ পায় না। তাই সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে সুনির্দিষ্ট ওয়ারিশদের তালিকা ধরে অভিজ্ঞ ফকীহ বা আলেমের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।”

একটা সূক্ষ্ম বিষয় আছে। মা যদি চান, তার সব সম্পত্তি শুধু একজন ছেলেকে দিয়ে যেতে, সেটা কি সম্ভব? অধিকাংশ ফকিহের মতে, সেটা সম্ভব নয়, যদি অন্য সন্তানরা বঞ্চিত হয়। তবে, যদি মা অসুস্থ অবস্থায় বা মৃত্যুশয্যায় এই দান করেন, তাহলে সেটা বৈধ হবে যদি তা তার মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশের জন্য স্বাভাবিক ওয়ারিশী আইন প্রযোজ্য।

কার্যকরী পরামর্শঃ মায়ের জমি বণ্টন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিবারের সব সদস্যকে একসাথে বসতে বলুন। এই ছোট মিটিংয়ের খরচ জিরো। কিন্তু এতে করে ভবিষ্যতে হাজার হাজার টাকার মামলা এড়ানো যায়।

গহনা বন্টনে স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি?

এই প্রশ্নটা অনেকের মনে ঘোরাফেরা করে। মায়ের গহনার ভাগাভাগির সময় বাবার অবস্থান কী? সহজ উত্তর হলো, বাবা সেখানে একজন ওয়ারিশ। কিন্তু তাঁর ভাগ সরাসরি মায়ের সম্পত্তিতে আলাদা। মা বেঁচে থাকতে বাবা যদি মারা যান, তাহলে বাবার ভাগ আলাদা করে দিতে হবে। মা মারা গেলে বাবা ও সন্তানেরা যৌথভাবে অংশীদার।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অনেক আইনজীবীর দাবি, তারা মামলা পান যেখানে বাবা মায়ের গহনায় নিজের অংশ দাবি করেন। কিন্তু বাস্তবে, বাবা প্রায়ই তাঁর ভাগ নিতে চান না, কারণ পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। আমি রাজশাহীর একটি পারিবারিক মামলায় দেখলাম, বাবা তাঁর স্ত্রীর গহনার অংশ নিজের জন্য না নিয়ে সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু আদালত রায় দেয়, বাবার অধিকার আইনত বাধ্যবাধকতা, না চাইলেও তিনি যদি চান, দিতে পারেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বাবা সাধারণত এ বিষয়ে অধিকার ত্যাগ করাটাই সমীচীন। কিন্তু আইনগতভাবে, তিনি চাইলে নিজের হিস্যা নিয়ে সেটা অন্যত্র দান করতে পারেন।

একটা ঘটনা বলি। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি মামলায়, মায়ের সোনার গহনা (প্রায় ২৫ ভরি) বন্টনের সময় স্বামী তার নিজের ভাগের পাশাপাশি সন্তানদের বঞ্চিত করে পুরোটাই নিজের নামে করে নিতে চেয়েছিলেন। আদালত তা খারিজ করে দেয়। কারণ, স্ত্রীর সম্পত্তি স্বামীর একক সম্পত্তি নয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ বাবা যদি মায়ের গহনা নিজের কাছে রাখতে চান, তাহলে তিনি সেটা বাবা হিসেবে নয়, বরং ওয়ারিশ হিসেবে পান। তাই, এই নিয়ে আলোচনা করার সময় তাকে ওয়ারিশদের তালিকায় বসান।

বাবার সম্পত্তিতে মায়ের অধিকার ও তার প্রভাব

মায়ের গহনা ও জমির বন্টন পুরোপুরি বুঝতে হলে আগে জানতে হবে বাবার সম্পত্তিতে মায়ের কী অধিকার। কারণ, মায়ের সম্পদ অনেক সময় বাবার সম্পত্তির অংশবিশেষ হয়।

শরীয়াহ আইন মতে, বাবা মারা গেলে তাঁর সম্পত্তির এক-অষ্টমাংশ মা পান, যদি সন্তান থাকে। আর যদি সন্তান না থাকে, তাহলে মা পান এক-চতুর্থাংশ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, মায়ের এই অংশ নির্ভর করে বাবার সম্পত্তির মোট পরিমাণের ওপর।

এই অধিকার মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ওয়ারিশদের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ, মায়ের নিজস্ব গহনা ও জমির পাশাপাশি তিনি বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমিও রেখে যেতে পারেন। ফলে, তাঁর সম্পত্তির বন্টনে বাবার সম্পত্তির ভাগ মিশে যায়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে নেত্রকোনার একটি ঘটনা দেখেছি। বাবার মৃত্যুর পর মা তাঁর অংশের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেন। পরে মা মারা গেলে তাঁর গহনা ও সেই জমি বন্টন নিয়ে ঝামেলা বাঁধে। এখানে মূল প্রশ্ন ছিল, মায়ের গহনা ও তাঁর বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমি এগুলো কি একই নিয়মে ভাগ হবে? উত্তর হলো, হ্যাঁ। সবই মায়ের সম্পত্তি।

কার্যকরী পরামর্শঃ বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সম্পত্তি বন্টনের আগে মায়ের কাছ থেকে বাবার সম্পত্তির হিস্যা নিয়ে সঠিক হিসাব নিন। যদি জমি গরমিল থাকে, তাহলে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মাত্র ৩০ মিনিটে জমির খতিয়ানের তথ্য নেওয়া যায়।

সাম্প্রতিক সালিশ ও মামলার প্রবণতা: কী বলছে আদালত?

গত ২-৩ মাসের কিছু তথ্য আমি খুঁজে পেলাম। ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬-এ বাংলাদেশের পারিবারিক আদালতে মায়ের গহনা ও জমি সংক্রান্ত মামলা সংখ্যা বেড়েছে। এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫% বেশি মামলা হয়েছে। এর মূল কারণ দাঁড়াচ্ছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আইনের স্পষ্ট ধারণার অভাব।

এই মামলাগুলোর মধ্যে ৬৫%-ই গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা। গ্রামীণ এলাকায় মায়ের গহনার মূল্যায়ন প্রায়ই সঠিক হয় না। আবার জমির মূল্য নির্ধারণে গরমিল হয়।

আমি একটি মামলা ফলো আপ করেছিলাম, যেখানে মায়ের গহনার পরিমাণ ১০ ভরি হলেও মামলায় তা ১৮ ভরি দেখানো হয়। এটা ফরেনসিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে। আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। এর থেকে শিক্ষা নেয়া ভালো বাস্তব সংখ্যা প্রকাশ করাই শ্রেয়।

অন্য একটি প্রবণতা হলো, আদালত এখন সব পক্ষকে মধ্যস্থতার জন্য উৎসাহিত করছে। সালিশের মাধ্যমে মামলা শেষ হলে সময় ও খরচ দুটোই কমে। কিন্তু তাতে অনেকেই রাজি নন। কারণ, তারা মনে করেন, সালিশে ন্যায্যতা আসে না।

ঠিক এটাই কথা। সালিশে কমপক্ষে ৩ জন সদস্য থাকতে হবে, যাদের মধ্যে অন্তত একজন ফিকাহ বিশেষজ্ঞ। কিন্তু বাস্তবতায়, গ্রামের মুরব্বিরা অনেক সময় নিজের প্রথা মেনে রায় দেন, যা ইসলামী আইন থেকে ভিন্ন।

কার্যকরী পরামর্শঃ মামলা করার আগে স্থানীয় সালিশি বোর্ডে যান। সেখানে ফিকাহ ও পারিবারিক আইনের সমন্বয়ে মধ্যস্থতা চেষ্টা করুন। পারিবারিক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে যান। খরচ হবে হাজার দুই-তিন, কিন্তু মামলার খরচ থেকে শতভাগ কম।

কাঙ্ক্ষিত ওয়ারিশ বাদ দিতে কি মায়ের উইল লিখে রাখা ঠিক?

একটা প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, মা যদি চান তার একমাত্র ছেলেই সব পাক, তিনি উইল লিখে দিতে পারেন। ইসলামী আইন স্পষ্ট ওয়ারিশদের মধ্যে অসাম্য সৃষ্টি করে উইল করা জায়েজ নয়। অর্থাৎ, আপনি নিজের ইচ্ছায় একজন সন্তানকে বাদ দিয়ে অন্যকে দিতে পারবেন না। তবে, অসুস্থ অবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ অন্যত্র দান করা যাবে।

কিন্তু এখানে একটা চমক আছে। মা যদি তার সম্পত্তি জীবিত অবস্থায় মৌখিকভাবে দান করে যান, তবে সেটা বৈধ হতে পারে, যদি তিনি সেটা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করেন। যেমন, তিনি যদি তার গহনা জীবিত অবস্থায় এক মেয়েকে দিয়ে দেন, আর সেটা বেশি দিন আগে হয়ে থাকে, তাহলে শরীয়াহ তাতে আপত্তি করে না। তবে সেটা নেক নিয়তে দান হতে হবে।

এই বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত দ্বিমত আছে। বেশিরভাগ ফতোয়ায় বলা হয় উইল না করাই ভালো। আমি একমত নই, কারণ আমি লক্ষ্য করেছি, উইল না থাকায় পরিবারে শত্রুতা তৈরি হয়। উইল না থাকার কারণে সম্পত্তি নিয়ে মিথ্যা দাবি ওঠে। কিন্তু যদি একটি ন্যায়সঙ্গত উইল করা হয় (যেখানে সব ওয়ারিশের হিস্যা সংরক্ষিত থাকে), তাহলে সেটা দ্বন্দ্ব কমায়।

কার্যকরী পরামর্শঃ মা যদি চান উইল করতে, তাহলে ন্যায়সঙ্গত উইল করুন। সব ওয়ারিশকে জানিয়ে উইল করুন, তাদের অংশ লেখা থাকুক। উইলটি একজন আইনজীবী বা কাজীর মাধ্যমে লিখিয়ে নিন। সময় নেয় মাত্র ২০ মিনিট, কিন্তু চিরস্থায়ী শান্তি এনে দেয়।

শেষ কথা

মায়ের গহনা ও জমি বন্টনের নিয়ম আসলে এত কঠিন নয়, যতটা আমরা জটিল করে ফেলি। স্পষ্ট কথা ইসলামী আইনে সবকিছু নির্দিষ্ট, কিন্তু মানুষের লোভ আর অজ্ঞতা সমস্যা সৃষ্টি করে। আমি যা দেখলাম, তাতে মনে হয়েছে, আইনের সহজ নীতিগুলো বোঝার অভাবেই পরিবারগুলো ভেঙে পড়ে।

তাই আজই একটা কথা মনে রাখুন পরিবারে কোনো বৈষম্য বা গোপনীয়তা না রেখে, খোলামেলা আলোচনায় বসুন। মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে সবার অংশ নির্ধারণ করে দিন। এটা শুধু সম্পত্তির বন্টন নয়, এটি একটি পারিবারিক বন্ধনকে টিকিয়ে রাখার উপায়। মায়ের সম্পদ নিয়ে হাতাহাতি না করে, শান্তিপূর্ণ ভাবে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করুন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *