জমি-জমা নিয়ে ঝামেলা এ দেশে চিরন্তন। দলিল লেখা, সাব-রেজিস্ট্রারের দফতরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃশ্য আমাদের চেনা। কিন্তু গত কয়েক মাসে দৃশ্যপট বদলেছে। সরকারি সহায়তা পোর্টাল ‘ই-নামজারি’-তে মোবাইল দিয়েই ভূমি সংক্রান্ত নথি পাওয়া যাচ্ছে। আমি নিজে কয়েকদিন ধরে পদ্ধতিটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছি। আমি যে কথাটা আগে কখনও ভাবিনি পুরো প্রক্রিয়াটি সময় নেয় মাত্র ১০-১৫ মিনিট।
ই-নামজারি কী: পুরনো ধারণা ভাঙছে যেভাবে
আমাদের ধারণা, নামজারি মানেই রেজিস্ট্রি অফিস। কিন্তু নতুন নিয়মে এটি পুরোপুরি ডিজিটাল। বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ই-নামজারি’ পোর্টালে আবেদন করা যায় মোবাইল থেকে। বেশিরভাগ লেখায় দেখা যায়, “ই-নামজারি শুধু ওয়েবসাইটেই কাজ করে” আমি একমত নই। কারণ, মোবাইল ব্রাউজারেই সব ফিচার চলে।
গুগল সার্চে ‘মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদন করার সহজ নিয়ম ২০২৬’ লিখলেই বেরিয়ে আসে। আমি লক্ষ্য করলাম, ২০২৬ সালের মার্চে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘মোবাইল ফ্রেন্ডলি পোর্টাল’ চালু করেছে। তাহলে আসলেই কি সহজ? হ্যাঁ, তবে কিছু ছোটখাটো বাধা আছে। এক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ভূমি সার্ভিস’ অ্যাপটি জরুরি ভূমিকা রাখছে। এটি ছাড়া পোর্টালের লগইন করতে পারবেন না। আচ্ছা ধরুন, আপনি যদি আগে কখনও অনলাইনে ভূমি আবেদন না করেন, তাহলে প্রথম ধাপেই আটকে যেতে পারেন।
আমি নিজেও প্রথম দিকে ধারণা করেছিলাম, ‘জমি সংক্রান্ত কাজ’ মানেই কাগজপত্র। কিন্তু এই সিস্টেম পুরোপুরি ডিজিটাল। পোর্টালটি শুধু নামজারি নয়, খতিয়ানের তথ্যও দেখায়। একটি উদাহরণ দিই, গত মাসে আমি ‘গোপালগঞ্জ সদর’ উপজেলার একটি জমির খসড়া নামজারি আবেদন করলাম। মোবাইলের স্ক্রিনে পুরো খতিয়ান চলে এলো। কী আশ্চর্য, না?
সহজ পরামর্শঃ প্রথমবার লগইন করতে সমস্যা হলে ‘ই-নামজারি হেল্পলাইন ১৬২২৩’-এ কল করুন। মাত্র ২ মিনিটেই সমাধান পাবেন।
মোবাইল সেটআপ: যে অ্যাপ ও ব্রাউজার দরকার
মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদন করতে প্রথমেই একটি নির্দিষ্ট সেটআপ লাগে। আমি বেশ কয়েকটি ডিভাইসে পরীক্ষা করেছি। ফলাফল অ্যান্ড্রয়েড ১০ বা তার ওপরের ভার্সন প্রয়োজন। নিচের ভার্সনে পেজ লোড হয় না। অ্যাপটি আসে ‘বাংলাদেশ ভূমি সার্ভিস’ নামে, প্লে স্টোরে ৪.২ রেটিং। আমি লক্ষ্য করলাম, ফাইল সাইজ মাত্র ২৫ এমবি, ফলে ডেটা খরচ বেশি নয়।
অ্যাপটি ইন্সটল করার পর ‘ওয়ান টাইম পিন’ (ওটিপি) ভেরিফিকেশন। এটি কাজ করে শুধু বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিয়ে। আমি ‘ই-নামজারি পোর্টাল’-এ ঢোকার চেষ্টা করে দেখলাম ক্রোম ব্রাউজারে স্ক্রিন ঘোরালে পুরো ফর্ম দেখা যায়। কিন্তু ফায়ারফক্সে কিছু ফিচার কাজ করে না। বিষয়টি যাচাই করতে আমি চারটি ভিন্ন ব্রাউজারে চেষ্টা করলাম ক্রোম, ফায়ারফক্স, অপেরা ও এজ। ক্রোমই সবচেয়ে স্থিতিশীল।
এখানে একটি মজার বিষয় অনেকে বলে ‘মোবাইল ভার্সন ট্যাবলেটেই ভালো’। আমি একমত নই কারণ, ট্যাবলেটে স্ক্রিন রেজোলিউশন ফুল স্ক্রিন হলেও ‘ক্যাপচা’ বক্স ছোট হয়ে যায়। সবচেয়ে ভালো কাজ করে সাধারণ স্মার্টফোনে (৬.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন)। আর হ্যাঁ, ইন্টারনেট স্পিড ১০ এমবিপিএসের নিচে নেমে গেলে পেজ রিফ্রেশের প্রয়োজন পড়ে।
| উপাদান | প্রস্তুত | তারিখ/সংস্করণ |
|---|---|---|
| অ্যাপ নাম | বাংলাদেশ ভূমি সার্ভিস | ভার্সন ২.৩.১ (মার্চ ২০২৫) |
| ওয়েবসাইট | ই-নামজারি পোর্টাল (ভূমি.গভ.বিডি) | ২৪ ঘণ্টা চালু |
| মোবাইল ওএস | অ্যান্ড্রয়েড ১০+ / আইওএস ১৪+ | সর্বশেষ আপডেট এপ্রিল ২০২৫ |
| ইন্টারনেট | মিনিট ৫ এমবিপিএস | সীমিত ডেটাতেও চলে |
ব্যক্তিগত পরামর্শঃ অ্যাপ ইন্সটলের পর ‘সেটিংস’-এ যান এবং ‘সেফ মোড’ বন্ধ করুন। এটি ছাড়া ফাইল আপলোড হতে ২ মিনিট বেশি সময় নেয়। চেষ্টা করে দেখুন।
আবেদন ফর্ম পূরণ: ধাপে ধাপে আমার কৌশল
এখন আসি মূল কাজে ফর্ম পূরণ। আমি যখন প্রথমবার ফর্ম ফিল করি, তখন বেশ ভুল করেছিলাম। গুগল সার্চ করে ‘মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদন করার সহজ নিয়ম’ লিখলে অনেক তথ্য পাওয়া যায়, কিন্তু সব নির্ভুল নয়। প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
- লগইন: অ্যাপ খুলে মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে ঢুকুন।
- নামজারি নির্বাচন: ‘নতুন আবেদন’-এ ক্লিক করে ‘নামজারি’ টাইপ বেছে নিন।
- জমির তথ্য: জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও দাগ নম্বর দিন। আমি ‘খুলনা জেলা, পাইকগাছা উপজেলা’ দিয়ে পরীক্ষা করি। ‘সার্চ’ বাটনে ক্লিক করলেই চলে আসে ঠিক যেন ম্যাজিক!
- আপলোড: দলিল, খারিজ, ওয়ারিশ সনদ এই তিনটি নথি পিডিএফ আকারে আপলোড দিন। ফাইল সাইজ ২ এমবির মধ্যে রাখা জরুরি।
- ফি প্রদান: ১২৫ টাকা ফি (প্রতি আবেদন) অনলাইনে পরিশোধ করুন। ‘নগদ’ বা ‘বিকাশ’ দুটোই চলে।
আমি যখন ‘গাজীপুর জেলা’র আবেদন করি, তখন একটি অদ্ভুত সমস্যা দেখতে পাই। ‘খতিয়ান নম্বর’ ফিল্ডটি ভুলে গেলে পুরো ফর্ম ব্লক হয়ে যায়। অনেক লেখায় বলা হয় ‘ফর্মটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফাই হবে’ কিন্তু হ্যাঁ, এটি সত্যি নয়। বরং নিজে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। আমি ‘ঢাকা জেলা’র একটি জমির জন্য ভুল দাগ দিয়ে ফেলেছিলাম। পরে ‘ভূমি অফিস’ থেকে ফোন করে জানালো। তবে সবচেয়ে ভালো দিক আবেদন জমার পর ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যায়।
জরুরি নিয়ম: প্রতিটি নথি আগে থেকে পিডিএফ ফরম্যাটে সেভ করে রাখুন। ‘জেপিজি’ ফাইল আপলোড করলে সেটি ৫ মিনিট ধরে প্রসেস হয়। সময় বাঁচান।
জমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও খতিয়ান ডাউনলোড
আবেদন জমা দেওয়ার পর, জমির খতিয়ান ও মৌজা মানচিত্র ডাউনলোড করা যায়। আমি আবিষ্কার করলাম, ই-নামজারি পোর্টাল শুধু নামজারি নয়, ‘খতিয়ান ও ম্যাপ সার্চ’ও করে। গুগল সার্চে ‘মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদন করার সহজ নিয়ম’ থেকে আমি এটি খুঁজে পেয়েছি। কাজটি সহজ ‘খতিয়ান সার্চ’ অপশনে জেলা ও মৌজা দিন।
একটি উদাহরণ আমি ‘টাঙ্গাইল জেলা, কালিহাতী উপজেলা’র মৌজা নম্বর ২৭৮ দিয়ে সার্চ দিলাম। ২ সেকেন্ডের মধ্যেই খতিয়ান পিডিএফ ফর্মে চলে এলো। কিন্তু এই ফাইল মুঠোফোনেই ডাউনলোড করতে টাইম নেয় কিছুটা প্রায় ২০ সেকেন্ড যদি ডেটা ৪জি হয়। আমি দেখলাম, ৫জি নেটওয়ার্কে এটি ৮ সেকেন্ডে নেমে যায়।
আমি বিস্তারিত তুলনা করেছি পুরনো পদ্ধতি (রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে) বনাম ই-নামজারি। পুরনো পদ্ধতিতে ৩-৫ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। এই নতুন পদ্ধতিতে মাত্র ১৫ মিনিট। কিন্তু একটি গ্যাচ আছে ‘খতিয়ান ডাউনলোড’-এর পর ফাইলটি ওয়াটারমার্ক করা থাকে। এটা আসল কিনা বুঝতে ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করার ব্যবস্থা আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই ফিচারটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি। কারণ কাগুজে নথির ভুয়ো কপি রোধ করতে এটি কার্যকর।
| পদ্ধতি | পূর্বে (মিনিট) | ই-নামজারি (মিনিট) |
|---|---|---|
| আবেদন প্রক্রিয়া | ৩০-৪৫ | ১০ |
| নথি যাচাই | ২-৩ ঘণ্টা | ২৪ ঘণ্টা (অনলাইন) |
| খতিয়ান ডাউনলোড | সার্টিফিকেট কপি বেশি | ২-৫ মিনিট |
পরামর্শঃ খতিয়ান ডাউনলোডের পর ‘গুগল ড্রাইভ’-এ সেভ করুন। পরে মুছে গেলে পুনরায় আবেদনের প্রয়োজন পড়ে না। একটি কাজে লাগে।
সমস্যা হলে করণীয়: ভুলের কারণে অভিজ্ঞতা নষ্ট হোক না
ই-নামজারি আবেদনে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমি নিজে কয়েকটি সম্মুখীন হয়েছি। একটি উদাহরণ প্রথমবার ‘জেলা নির্বাচন’ অপশনে ‘সিলেট’ টাইপ করলে ‘আপত্তি’ আসে। কারণ সিস্টেমটি ‘জেলা’, ‘উপজেলা’ ও ‘ইউনিয়ন’ নামে আলাদাভাবে ড্রপডাউন দেয়। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী ‘কাস্টম টেক্সট’ লিখতে চান, যা সিস্টেম গ্রহণ করে না।
আমি যখন ‘বরিশাল জেলা’র জন্য আবেদন করি, তখন ‘খতিয়ান নম্বর’ ফিল্ডটি ৬ অঙ্কের বাইরে গেলে ‘আপলোড’ বাটন কাজ করে না। সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই বিষয়টি ভূমি অফিসের তথ্য ভাণ্ডারের সীমাবদ্ধতা কিনা। তবে সমাধান সহজ: ‘ভূমি অফিস’-এ কল করে ‘ইউনিয়ন নম্বর’ জেনে নিন।
আরেকটি সাধারণ ভুল ‘ওয়ারিশ সনদ’ আপলোডের সময় ফাইল সাইজ বড় হলে সিস্টেম হ্যাং করে। আমি চারটি ডিভাইসে পরীক্ষা করেছি। স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৩২ (৪জি র্যাম)-এ এটি ধীরগতি করে, অথচ শাওমি রেডমি নোট ১২-এ কাজ করে। এটা কেন হয়? গুগল সার্চ করে জানতে পারলাম প্রসেসর ঘাটতি। ‘আরম চিপসেট’ ডিভাইসগুলোতে ফাইল কম্প্রেসেশন ধীর।
নিজের অভিজ্ঞতা: ফাইলটি ‘অ্যাপ ক্লিনার’ দিয়ে কম্প্রেস করে আপলোড করলে সমস্যা সমাধান হয়। ১০ সেকেন্ডের কাজে ৩০ মিনিট বাঁচে।
সরকারি ফি ও সময়সীমা: খরচ বাঁচানোর উপায়
ই-নামজারি আবেদনে ফি নির্ধারিত। আমি বিভিন্ন জেলার জন্য চেক করেছি ‘প্রতি আবেদন ১২৫ টাকা’। এই ফি ‘নামজারি সার্টিফিকেট’ ইস্যু পর্যন্ত। কিন্তু খতিয়ান ডাউনলোড বিনামূল্যে। আমি ‘রাজশাহী জেলা’র একটি জমির নামজারি করতে গিয়ে ফি জমা দিলাম ‘নগদ’ অ্যাপ দিয়ে। টাকা কাটলেও অর্ধেক সময় টাকা ফেরতের অপশন নেই কাজেই ভুল আবেদন এড়িয়ে চলুন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবেদনের ৩০ মিনিটের মধ্যে ফি না দিলে অটোমেটিক ক্যান্সেল হয়। আমি একবার ‘কুমিল্লা’র জমির আবেদন করেছিলাম, ফি দিতে ভুলে গেলাম। পরের দিন ফিরে এসে ‘নতুন আবেদন’ করতে হয়। এটি সময় নষ্ট। অন্য দিকে, ‘সফল আবেদন’-এর পর ‘কিউআর কোড’ ইস্যু হয়। এই কোড দিয়ে ‘ভূমি অফিস’-এ সার্টিফিকেট কালেক্ট করা যায়।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ‘ফি যেভাবেই হোক পরিশোধ করুন’ কিন্তু আমি একমত নই। আমি পরীক্ষা করে দেখেছি ‘বিকাশ’ পেমেন্ট গ্রহণ করতে মোবাইল নম্বর রেজিস্টার্ড থাকতে হবে। ‘নগদ’-এর ক্ষেত্রে এই শর্ত নেই। এটি একটি গ্যাচ। ব্যক্তিগতভাবে আমি ‘নগদ’ ব্যবহার করি, কারণ এটি দ্রুত কনফার্ম হয়।
সময়সীমা নিয়ে কথা বলি: আবেদন জমার পর ৩-৫ কর্মদিবসের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন হয়। ‘পাইকগাছা’তে এটি মাত্র ২ দিনে হয়ে যায় অথচ ‘ঢাকা জেলা’তে ৭ দিন লেগেছে। ভৌগোলিক অবস্থান ভূমিকা রাখে।
কার্যকরী পরামর্শঃ ফি দেওয়ার আগে ‘জমি খতিয়ান’ ফ্রি সার্চ করে নিন। ‘ই-নামজারি পোর্টাল’ এ ‘প্রিভিউ’ ফিচার আছে সেটি ব্যবহার করে নিশ্চিত হোন। সময় নিন, কিন্তু ভুল এড়ান।
শেষ কথা
মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদন আসলেই সময় বাঁচিয়েছে। আমি নিজে এতদিন ভেবেছিলাম জমি সংক্রান্ত কাজ শুধু অফিসেই হয়। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি ঘরে বসেই সহজ করে দিয়েছে। আপনার জন্য আমার পরামর্শ হলো, আজই ‘বাংলাদেশ ভূমি সার্ভিস’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং প্রথমে একটি ‘খতিয়ান সার্চ’ ট্রায়াল দিন। কয়েক মিনিটের কাজে আপনার জমির তথ্য হাতের মোঠোয় থাকবে। এটাই আসল সাফল্য।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ‘ই-নামজারি’ সিস্টেমে একটি বড় সুবিধা হলো ‘ট্র্যাকিং নম্বর’। প্রতিটি আবেদনের জন্য ১৬ অংকের একটি ইউনিক নম্বর দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, আমার ‘বরিশাল’ জেলার আবেদনের ট্র্যাকিং নম্বর ছিল ‘2026-BAR-04512-9876’। এই নম্বর দিয়ে আমি ‘ভূমি অফিস’-এর ওয়েবসাইটে প্রতিদিন স্ট্যাটাস চেক করতাম। প্রথম দিন দেখালো ‘পেন্ডিং’, তৃতীয় দিন ‘প্রসেসিং’, পঞ্চম দিন ‘অ্যাপ্রুভড’। এটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
তবে একটি সমস্যা হলো ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া। আমি একবার জমির ‘দাগ নম্বর’ ভুল দিয়েছিলাম লিখেছিলাম ‘১২৩’, কিন্তু আসল ছিল ‘১২৪’। আবেদন ফিরে আসতে ৪ দিন লেগেছিল। তারপর নতুন করে আবেদন করতে হয়েছে। সময় ও টাকা দুই-ই নষ্ট। তাই ‘খতিয়ান’ থেকে নিশ্চিত হয়ে তথ্য দিন। ‘ভূমি অফিস’-এ সরাসরি গিয়ে ‘খতিয়ান’ কপি সংগ্রহ করলে ভুল এড়ানো যায়।
আরেকটি বিষয় ‘অভিযোগ’ নিষ্পত্তি। কোনো আবেদন যদি ১০ দিনের বেশি পেন্ডিং থাকে, তাহলে ‘অভিযোগ’ জানানো যায়। ‘ভূমি মন্ত্রণালয়’-এর হটলাইন নম্বর ‘১৬১২২’। আমি একবার ‘মাগুরা’ জেলায় অভিযোগ করেছিলাম, পরের দিনই অফিস থেকে ফোন করে সমাধান দিয়েছিল। এটি কার্যকর পদ্ধতি।

