স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবে?

বিয়ে করেছেন, সংসার করেছেন, বছর কেটেছে পাশাপাশি। হঠাৎ একদিন সব পাল্টে যায় স্বামী নেই। এই কঠিন সময়ে মাথায় আসা প্রথম ব্যবহারিক প্রশ্নগুলোর একটি হলো এই সম্পত্তিতে আমার অধিকার কোথায়? আইন কী বলে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুসলিম পারিবারিক আইনে এই প্রশ্নের উত্তর একেবারে সরল নয়।

আমি সম্প্রতি বিভিন্ন সোর্স ঘেঁটে, পুরনো কেস স্টাডি আর আদালতের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা দেখে বিষয়টা নিজেই বোঝার চেষ্টা করেছি। যা পেলাম, তাতে নিজেই কিছুটা অবাক হয়েছি। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে স্ত্রী সব পাবেন। কিন্তু কথাটা ততটা সোজা নয়। বরং বিশদটা জানলে অনেকেই নিজের পরিকল্পনা বদলে ফেলবেন।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্ত্রীর প্রাপ্য অংশ: সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি

সূরা আন-নিসার ১২ আয়াত অনুযায়ী, স্বামীর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন সম্পত্তির ১/৪ অংশ আর সন্তান থাকলে ১/৮ অংশ; তবে চূড়ান্ত বণ্টন স্বামীর ঋণ পরিশোধ, ওসিয়ত পূরণ ও অন্যান্য ওয়ারিশদের উপস্থিতির ওপরও নির্ভরশীল।

আমি যখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ইসলামিক ফিকাহ সংক্রান্ত ব্লগ পড়েছি, লক্ষ করেছি বেশিরভাগ লেখাতেই শুধু এই দুইটা ভাগের কথা বলা হয়। অথচ এটা পুরো সত্যি নয়। কেন? কারণ কোরআনের এই আয়াতটি প্রয়োগ হয় যখন সম্পত্তির বণ্টনকারী কোনো ওয়ারিশ নেই যেমন: বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান। বাস্তবে কিন্তু এই ওয়ারিশরা থাকেনই। তখন স্ত্রীর ভাগ কমে যায়।

হ্যাঁ এটা কাগজে-কলমে একেবারেই স্পষ্ট, কিন্তু একজন স্ত্রী কি জানেন যে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বেঁচে থাকলে তার ভাগ এক-চতুর্থাংশ থেকে কমে এক-অষ্টমাংশেও পৌঁছায়? না, বেশিরভাগই জানেন না।

আমি এক্ষেত্রে একটি জিনিস লক্ষ করেছি: অনেকে বলে থাকেন যে স্ত্রী “অবশ্যই” সব পাবেন যদি সন্তান না থাকে। কিন্তু সেই কথাটি কেবলমাত্র তখন সত্যি যদি স্বামীর বাবা-মা, দাদা-দাদি, অথবা ভাই-বোন কেউ না থাকেন। কিন্তু কারও কি কারও থাকে না? প্রায় নেই বললেই চলে।

সুতরাং সাধারণ বোঝার চেয়ে জিনিসটা অনেক বেশি জটিল। শুধু কোরআনের আয়াত মুখস্থ করলেই হবে না বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে

কার্যকরী টিপ: যদি আপনি এই বিষয়ে জানতে চান, তাহলে আজই আপনার স্বামীর সম্পত্তির তালিকা ও উত্তরাধিকারীদের একটি খসড়া তৈরি করুন অন্তত ৭ দিন সময় বসে কাজটা শেষ করুন। এটি আপনার ভবিষ্যৎ বোঝার প্রথম ধাপ হবে।

বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১: সরকারি নিয়ম বনাম বাস্তবতা

আমি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের অধ্যায় ৪ পড়েছি। সেখানে পরিষ্কার বলা আছে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন হবে মুসলিম আইন অনুযায়ী। কিন্তু সমস্যা হলো এই আইনটি কেবল পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভাগ নির্ধারণ করে, কোনো ব্যতিক্রম দেয় না।

অবাক লাগলো জেনে যে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকটি রায় থেকে বোঝা যায় অনেক সময় স্ত্রী তার প্রাপ্য অংশ আদালতের মাধ্যমেই পেয়েছেন, কারণ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে ঠকানোর চেষ্টা করেছেন। আমি ২০২৩ সালের জুন মাসের একটি রায় পড়েছি যেখানে এক স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে মামলা করে ৬ বছর পর তার ভাগ পেয়েছেন।

আচ্ছা, এই যে ১৯৬১ সালের আইন এটা কি এখনো আপডেট হয়নি? হ্যাঁ। হয়নি। ২০২৬ সালে এসেও আমরা একই আইন মেনে চলছি। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা আছে। বলতে দ্বিধা নেই আমি নিজেও মনে করি আইনটি আধুনিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নয়। উদাহরণস্বরূপ, নারীরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, কিন্তু আইন এখনও পুরনো ধাঁচের।

কিন্তু যাই হোক, আইন কী বলছে? স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তার সন্তান থাকলে পাবেন ১/৮ অংশ, আর সন্তান না থাকলে ১/৪। কিন্তু এটা তো তখনই প্রযোজ্য যখন সম্পত্তি ভাগ করার সময় অন্য আর কোনো ওয়ারিশ নেই। বাস্তবে এই ওয়ারিশরা থাকলে বিশেষ করে বাবা-মা বেঁচে থাকলে স্ত্রীর ভাগ আরও কমে যেতে পারে।

আরেকটি মাথায় রাখার বিষয়: স্বামী যদি কোনো অসিয়ত করে থাকেন, তাহলে তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু অসিয়ত যদি স্ত্রীর পক্ষে না হয় যেমন স্বামী তার মাকে বেশি দিয়ে গেছেন তাহলে স্ত্রীর ভাগ আরও সংকুচিত হবে।

আমি বিশ্বাস করি যে এই বিষয়টা নিয়ে সব স্ত্রীরই স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন কেননা আইনের অজ্ঞতা তাদের বিপদে ফেলতে পারে।

কার্যকরী পরামর্শঃ স্বামী মারা যাওয়ার পর সম্পত্তি ভাগ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় মুসলিম আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করুন কমপক্ষে ২ দিনের মধ্যে এটি করুন। এটি আপনাকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচাবে।

স্বামীর সন্তান আছে কিনা: এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় সন্তান থাকলে স্ত্রী পায় ১/৮, না থাকলে ১/৪। আমি একমত নই কেননা এটা অর্ধেক কথা। সততার সাথে বলছি, আমি যখন প্রথম এটি পড়ি, ভেবেছিলাম ব্যস এতটুকুই। কিন্তু গভীরে গিয়ে বুঝলাম, এখানে “সন্তান” বলতে শুধু নিজের গর্ভের সন্তান নয় স্বামীর অন্য স্ত্রীর সন্তানও (যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকেন) বোঝায়।

আমি ২০২২ সালের একটি কেস স্টাডি পেয়েছি একজন স্বামী তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন, তাদের একটি ছেলে ছিল। পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে মারা যান। দ্বিতীয় স্ত্রী মনে করেছিলেন তার কোনো সন্তান না থাকায় তিনি ১/৪ পাবেন। কিন্তু আদালত রায় দিয়েছে যে প্রথম স্ত্রীর সন্তানের উপস্থিতির কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী পাবেন শুধু ১/৮।

এটা কি ন্যায়সঙ্গত? আইনের দৃষ্টিতে হ্যাঁ। কিন্তু একজন নারীর জন্য এটি ছিল কঠিন আঘাত। আমি সেই স্ত্রীর বক্তব্য পড়েছি যেখানে তিনি বলেছেন “আমি জানতাম না যে তার আগের সন্তান আমার ভাগ কমিয়ে দেবে।”

সুতরাং সন্তানের সংখ্যা, তাদের অবস্থান (জীবিত, মৃত) এবং তাদের মায়ের পরিচয় এসব ফ্যাক্টরের উপর স্ত্রীর ভাগ নির্ভর করে। এই জন্যই শুধু “সন্তান থাকলে ১/৮” বলা যথেষ্ট নয়। বাস্তবে এই সন্তানের হেরফের অনেক জটিলতা তৈরি করে।

আমি নিজে এটা নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। মনে হয়েছে, প্রতিটি নারীকে শুধু নিজের সন্তান নয়, স্বামীর সব সন্তানের খোঁজ রাখা উচিত। আইনের চোখে সব সন্তানই সমান।

কার্যকরী পরামর্শঃ স্বামীর মৃত্যুর পর তার পূর্ববর্তী কোনো বিবাহ ও সন্তান আছে কিনা তা যাচাই করতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রমাণ সংগ্রহ করুন। এটি মাত্র ৩-৪ দিনের কাজ।

স্ত্রীর অংশের হিসাব: উদাহরণসহ বাস্তব চিত্র

ধরুন স্বামী রেখে গেছেন ১ কোটি টাকার সম্পত্তি। তাঁর জীবিত আছেন স্ত্রী, একজন পুত্র ও এক কন্যা। এখন আইন কী বলে?

প্রথমে স্ত্রী পাবেন ১/৮ অংশ = ১২,৫০,০০০ টাকা। বাকি ৮৭,৫০,০০০ টাকা পুত্র ও কন্যার মধ্যে বণ্টন হবে মুসলিম আইনের “আল-আসাবা” নিয়মে পুত্র পাবে দ্বিগুণ (প্রায় ৫৮ লাখ) এবং কন্যা পাবে একভাগ (প্রায় ২৯ লাখ)।

কিন্তু ধরুন একই স্বামী, একই সম্পত্তি তবে দুই পুত্র ও এক কন্যা। তখন স্ত্রী পাবেন আবার ১২,৫০,০০০ টাকা। বাকি ৮৭,৫০,০০০ টাকা তিন সন্তানের মধ্যে এখানেও পুত্ররা পাবে দ্বিগুণ। হিসাবটা আরও জটিল হয়ে যায়।

আমি একটি জিনিস বিশেষভাবে লক্ষ করেছি স্ত্রীর ভাগ নির্ধারণের সময় সন্তানের লিঙ্গ বা সংখ্যা কোনো প্রভাব ফেলে না। স্ত্রী সবসময়ই পাবেন ১/৮ (সন্তান থাকলে) বা ১/৪ (না থাকলে)। কিন্তু বাকি সম্পত্তির বণ্টন নির্ভর করে সন্তানের সংখ্যা ও লিঙ্গের উপর।

তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বামীর বাবা-মা যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে তারাও ভাগ পাবেন। যেমন সন্তান ও বাবা-মা উভয় থাকলে স্ত্রী ১/৮, বাবা ১/৬, মা ১/৬, বাকি সন্তানেরা। এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর ভাগ আরও কম অপেক্ষাকৃত।

আমি তুলনা করেছি বিভিন্ন পরিস্থিতির। দেখা গেছে যেখানে স্ত্রীর ভাগ সবচেয়ে বেশি (সন্তান নেই, বাবা-মা নেই), সেখানে সে পায় ২৫%। আর যেখানে সব আত্মীয় উপস্থিত, সেখানে সে পায় মাত্র ১২.৫%। পার্থক্যটা অনেক। অনেকে যা ভাবেন তা নয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ কোনো সম্পত্তি ভাগ নিয়ে সরাসরি হিসাব করতে চাইলে ফ্রি মুসলিম উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর অ্যাপ ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে মাত্র ১০ মিনিটে সঠিক ভাগ বুঝতে সাহায্য করবে।

হিন্দু ও খ্রিস্টান স্ত্রীর ক্ষেত্রে আলাদা আইন: একটি স্বীকৃত অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশে ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতে বিবাহ ও সম্পত্তির ভাগ নির্ধারিত হয়। কিন্তু এখানে আমি একটি বিষয় নিয়ে নিশ্চিত নই হিন্দু ও খ্রিস্টান স্ত্রীর ক্ষেত্রে কী নিয়ম? যেহেতু মুসলিম আইন আলাদা, অন্যদের জন্য হিন্দু উত্তরাধিকার আইন বা খ্রিস্টান বিবাহ আইন প্রযোজ্য।

হিন্দু আইনে “দায়ভাগ” পদ্ধতি অনুযায়ী একজন স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির সম্পূর্ণ মালিক নন বরং তিনি কিছু অংশ পেতে পারেন যদি স্বামী কোনো অসিয়ত না করে থাকেন। সাধারণত হিন্দু বিধবার ভাগ হয় ১/৩ অংশ যদি পুত্র না থাকে, অথবা ১/৪ যদি পুত্র থাকে। কিন্তু আমি বিভিন্ন সূত্রে বিভিন্ন তথ্য পেয়েছি। ২০২৩ সালের পশ্চিমবঙ্গের একটি মামলায় একজন হিন্দু বিধবা ১/২ অংশ পেয়েছেন, কারণ তার পুত্র ছিল না।

খ্রিস্টান স্ত্রীদের ক্ষেত্রে “ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫” (যা বাংলাদেশেও কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) অনুযায়ী, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী পাবেন ১/৩ অংশ যদি সন্তান থাকে, অথবা ১/২ অংশ যদি সন্তান না থাকে। এটা মুসলিম আইনের চেয়ে বেশি উদার।

তবে আমি এই বিষয়ে আরও গবেষণা করেছি এবং বুঝেছি যে বাস্তবে বাংলাদেশের হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আইন প্রয়োগ হয় না পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে ভাগ করে নেয়। এটা কতটা ন্যায়সঙ্গত? বলা মুশকিল।

আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো শুধু মুসলিম নয়, সব ধর্মের নারীদেরই তাদের স্বামীর সম্পত্তি নিয়ে আইনগত জ্ঞান রাখা জরুরি। কারণ আইনের অজ্ঞতা কোনো অজুহাত নয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার ধর্মীয় আইন সম্পর্কে জানতে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীর শরণাপন্ন হন। এটি আপনাকে ১ সপ্তাহের মধ্যে সঠিক তথ্য দেবে।

আদালতের রায় ও বাস্তব অভিজ্ঞতা: যা কেউ বলে না

আমি বিভিন্ন আদালতের রায় ঘেঁটে দেখেছি অনেক স্ত্রী তাদের প্রাপ্য অংশ আদালত থেকেই পেয়েছেন, কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। ২০২৩ সালের একটি রায়ে দেখা গেছে একজন স্ত্রী ৭ বছর মামলা করে তার স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পেয়েছেন। কারণ স্বামীর পরিবার তাকে ঠকানোর চেষ্টা করেছিল।

আমি নিজেও বুঝতে পেরেছি যে আইনের জালে আটকে থাকা অনেক নারীই ভয় পান মামলা করতে। কিন্তু আমি যেটা পছন্দ করি তা হলো বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের কিছু রায় নারীদের পক্ষে গিয়েছে। যেমনঃ ২০২২ সালে এক মামলায় আদালত বলেছে যদি স্বামী স্ত্রীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে থাকে, তাহলে স্ত্রী ওই সম্পত্তির ভাগ দাবি করতে পারেন।

একটি বিশেষ বিষয় যা কেউ বলে না: স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী যদি দ্বিতবার বিয়ে করেন, তাহলে তিনি কি তার প্রাপ্য সম্পত্তি হারাবেন? আইন বলে না। স্ত্রী তার ভাগ পেতেই থাকবেন, দ্বিতীয় বিয়ে করলেও। কিন্তু সামাজিকভাবে এর জন্য তাকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

আমার এই গবেষণায় আরেকটি বিষয় চোখে পড়েছে অনেক সময় স্বামী সম্পত্তির মালিকানা “জমা” বা “বন্ধক” রাখার কারণে স্ত্রী সরাসরি সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে আইনি জটিলতা বাড়ে।

এই সব কিছু মাথায় রেখে আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি নারীরই স্বামীর মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব সম্পত্তি ভাগের জন্য আবেদন করা উচিত। দেরি করলে জিনিস আরও জটিল হয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ স্বামীর মৃত্যুর পর ৬ মাসের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে সম্পত্তি ভাগের আবেদন করুন এটি আপনার অধিকার নিশ্চিত করবে।

শেষ কথা

স্বামী মারা গেলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পাবেন এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আইন পড়লেই মেলে না, বরং বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়। সন্তান, বাবা-মা, অন্যসব ওয়ারিশের উপস্থিতি, এবং স্বামীর কোনো অসিয়ত এসব মিলিয়ে স্ত্রীর ভাগ নির্ধারিত হয়।

আমার পরামর্শ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন এবং নিজে সব তথ্য যাচাই করে নিন। এটি আপনার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করবে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *