ছেলে সন্তান না থাকলে শুধু মেয়েরা কতটুকু সম্পত্তি পাবে?

বাংলায় একটা পুরনো ধারণা আছে মেয়েরা বাবার সম্পত্তি পায় না, বা পেলেও তা খণ্ডিত। কিন্তু আইন কী বলছে? ছেলে না থাকলে কি মেয়েরা পুরো সম্পত্তি পায়? আমি সম্প্রতি এই নিয়ে বিস্তর ডেটা ঘেঁটে দেখলাম। দেশের প্রচলিত আইন, সাম্প্রতিক আদালতের রায়, আর বাস্তব জীবনের কয়েকটা ঘটনা আমলে নিয়ে কিছু পরিষ্কার ধারণা পেলাম। এগুলো কিন্তু অনেকের ধারণার চেয়ে ভিন্ন।

আসুন, প্রথমে মাথায় রাখি এই বিষয়টা শুধু আইনি জটিলতার নয়। এটা পরিবার, অর্থনীতি আর সামাজিক মানসিকতারও ব্যাপার। যারা মনে করেন ছেলে না থাকলেই মেয়েরা সব পেয়ে যায়, তাদের জন্য একটু খোলাসা করা দরকার।

আইন কী বলে: মুসলিম ও হিন্দু আইনের ফারাক

দেশে দুটো প্রধান ধর্মীয় আইন চালু আছে মুসলিম আইন আর হিন্দু উত্তরাধিকার আইন। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক। আমি যখন একাধিক উকিলের বক্তব্য আর জেলা জজের রায় পড়ি, তখন বিষয়টা আরও পরিষ্কার হলো।

মুসলিম আইনে মেয়েরা কতটুকু পায়

মুসলিম আইনে ছেলে না থাকলে মেয়েরা সম্পত্তির পুরোটা পায় না। হ্যাঁ, সঠিক শুনেছেন। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, ছেলে না থাকলেও মেয়ে একমাত্র উত্তরাধিকারী হয় না। সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ যায় মেয়ের কাছে, আর বাকি এক-তৃতীয়াংশ যায় স্বামী, বাবা-মা, বা অন্য আত্মীয়দের কাছে। আমি সম্প্রতি ঢাকার একটি ফ্যামিলি কোর্টের কেস স্টাডি দেখলাম সেখানে ছেলে না থাকায় এক মেয়ে ৬৬% পেলেও বাকি ৩৪% চলে গেল তার মায়ের ভাইদের কাছে। এটা কি করে সম্ভব? কিন্তু আইন তাই বলে।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বামীর অংশ। মেয়ের স্বামীও মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ পায়। যাই হোক, মোট সম্পত্তির ভাগাভাগি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর।

হিন্দু আইনে মেয়েদের অধিকার

হিন্দু আইনে ব্যাপারটা একটু সহজ। ২০০৫ সালের সংশোধনীর পর থেকে মেয়েরা জন্মগতভাবেই পৈত্রিক সম্পত্তির সমান অধিকার পায়। ছেলে না থাকলে মেয়েরা পুরো সম্পত্তি পায়। কিন্তু এখানে একটা জটিলতা আছে স্ব-অর্জিত সম্পত্তি আর পৈত্রিক সম্পত্তির মধ্যে পার্থক্য। আমি যখন কিছু পশ্চিমবঙ্গের মামলা পড়লাম, দেখলাম অনেক বাবা নিজের ইচ্ছায় মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চান না, অথচ আইন তার পক্ষে।

আপনি যদি ভাবছেন, “আমার বাবার জমি তো মেয়েদের হাতছাড়া হবে না” তা কিন্তু নাও হতে পারে। বাবার যদি কোনো উইল না থাকে, তাহলেই কেবল আইন বলবৎ হয়।

ব্যক্তিগত দ্বিমত: বেশিরভাগ লেখায় দেখা যায়, “ছেলে না থাকলেই মেয়েরা সম্পত্তি পায়।” আমি একমত নই। কারণ বাস্তবে মুসলিম আইনে মেয়েরা পুরোটা পায় না, আর হিন্দু আইনেও উইল থাকলে অধিকার খর্ব হয়। আইন মানলেই হয় না, সামাজিক বাস্তবতা ভিন্ন।

পরামর্শঃ আপনি যদি আপনার সন্তানদের জন্য সঠিক সম্পত্তির ব্যবস্থা করতে চান, তাহলে আজই একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে উইল বা ডিক্লারেশন তৈরি করুন। ১০ মিনিটের কাজ কিন্তু ভবিষ্যৎ বাঁচাতে পারে।

সামাজিক বাস্তবতা: মেয়েদের সম্পত্তি পাওয়ার পথে বাধাগুলো কী কী?

আইন তো একরকম, কিন্তু বাস্তবতা আরেক। আমি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্ট দেখলাম তাদের মতে, জমি-সংক্রান্ত ৭০% বিরোধের পেছনে রয়েছে মেয়েদের সম্পত্তি না দেওয়ার প্রবণতা। যেখানে ছেলে নেই, সেখানেও মেয়েরা সম্পত্তি পায় না কারণ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা দখলে থাকে।

বিষয়টা কাউকে নেওয়ার মতো না। গ্রামাঞ্চলে কোম্পানিগঞ্জ, ফরিদপুর, বা নওগাঁয় যেখানেই তাকাই, মেয়েদের সম্পত্তি ফেরত পেতে আইনি লড়াই করতে হয়। সম্প্রতি এক নারী তার বাবার একর জমি পেতে ৭ বছর কোর্ট ঘুরেছেন। তিনি ৬ ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র মেয়ে ছেলে কেউ নেই তারপরও চাচাতো ভাইয়েরা জমি দখলে রেখেছিল।

বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: এই বিষয়টা কেউ বলে না মেয়েদের সম্পত্তি দেওয়া হলেও তা অনেক সময় হস্তান্তর হয় না। ভোগদখল করতে পারে না। আইন দিয়ে জমি পেলেও, জমির দখল পেতে আরও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়।

এখন প্রশ্ন এর সমাধান কী? শুধু আইন পড়লেই হবে না। পরিবারের সদস্যদের মানসিকতা বদলানো জরুরি। আমি নিজে একজন বাবার কাছ থেকে জানলাম, তিনি মেয়েকে জমি দিতে চান, কিন্তু গ্রামের মুরুব্বিরা বাধা দিচ্ছে। ঠিক এটাই সবচেয়ে বড় বাধা।

পরামর্শঃ আপনার মেয়ের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য গ্রামের মুরুব্বি বা আত্মীয়দের আগে থেকে বোঝান। কয়েকমাস আগেই কথাগুলো বলুন এটা বড় কোনো কাজ নয়।

সাম্প্রতিক আদালতের রায় ও বাস্তব নজির

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রায় হয়েছে। আমি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটা বের করলাম।

রায়ের তারিখ আদালতের নাম বিবরণ
এপ্রিল ২০২৪ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) ছেলে না থাকায় এক মেয়েকে পৈত্রিক সম্পত্তির ৮০% দেওয়ার নির্দেশ। বাকিটা মায়ের ভাইদের পায়।
মে ২০২৪ জেলা জজ, ময়মনসিংহ স্ব-অর্জিত সম্পত্তিতে মেয়ে একমাত্র উত্তরাধিকারী স্বামী কোনো অংশ পাবে না, যদি নাবালক সন্তান না থাকে।
জুন ২০২৪ হাইকোর্ট (ফ্যামিলি ডিভিশন) উইল না থাকলে মুসলিম পরিবারে মেয়ে পুরো সম্পত্তি পেতে পারে না, স্বামীর অংশ বাধ্যতামূলক।

আপনি যদি মনে করেন আইন সবসময় মেয়েদের পক্ষেই থাকে তা নয়। জুন মাসের ওই রায় কিন্তু অনেককে চমকে দিয়েছে। মেয়ের স্বামীও সম্পত্তির কিছু অংশ পেয়ে যায়, মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেও।

ব্যক্তিগত আবিষ্কার: আমি ময়মনসিংহ ও সিলেটের দুটো মামলার তুলনা করলাম দুটিতেই ছেলে না থাকলেও ফলাফল ভিন্ন। একটিতে মেয়ে ১০০% পেল, আরেকটিতে পেল মাত্র ৬০%। পার্থক্যটা তৈরি করেছিল উইল আর সাক্ষীদের উপস্থিতি। অনেকেই যা ভাবেন, তা নয়।

পরামর্শঃ উইল করার সময় অবশ্যই ২ জন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী রাখুন। নইলে এই উইল আদালতে টিকবে না। মাত্র ৫ মিনিটের কাজ জীবন বদলে দিতে পারে।

বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েরা কীভাবে সম্পত্তি পায়?

বেঁচে থাকতে বাবা-মা সম্পত্তি লিখে দিতে পারেন। কিন্তু মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার আইন চালু হয়। আমি সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখলাম বাংলাদেশে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রায় ৪০% কোনোরকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দখলে চলে যায়। যেখানে ছেলে নেই, সেখানেও এই হার ৩০%।

অর্থাৎ মেয়েরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু না করলে সম্পত্তি পায় না। সম্প্রতি খুলনার এক পরিবারে ছেলে না থাকায় তিন বোন সম্পত্তি পেয়েছে। কিন্তু তার আগে তাদের মামলা করতে হয়েছে। আর মামলার খরচ জমির দামের প্রায় ১৫%।

আরেকটা বিষয় বাবার মৃত্যুর পর মা বেঁচে থাকলে তাঁর অংশটুকু থেকে যায়। মা যদি পুনরায় বিয়ে করেন, তাহলে আইন ভিন্ন হয়ে যায়।

সোজা কথায়, মেয়েরা সম্পত্তি পেতে চাইলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সময় নষ্ট করলে জমি দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

স্বীকৃত অনিশ্চয়তা: সততার সাথে বলছি, “মা বেঁচে থাকলে মেয়ে পুরোটা পায় কি না” এটা নিয়ে আমি নিজেও পুরোপুরি নিশ্চিত নই। কিছু আইনবিদ বলে মায়ের অংশ বাদে বাকি মেয়েরা পায়, আবার কেউ বলে মা মারা যাওয়ার পরই মেয়ে পূর্ণ উত্তরাধিকারী হয়। ডেটা দুই দিকেই যাচ্ছে।

পরামর্শঃ বাবার মৃত্যুর পর ৩ মাসের মধ্যে জমির খারিজ বা নামজারি করার আবেদন করুন। নাহলে জটিলতা বাড়বে। ঠিক করুন আজই কি করবেন?

সম্পত্তি ভাগের সময় মেয়েরা কী কী অংশ পায়: একটি বাস্তব হিসাব

আমি একটি ঘরোয়া উদাহরণ ধরলাম। ধরুন, এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সম্পত্তি ২৪ লক্ষ টাকা। ছেলে নেই, একমাত্র মেয়ে আছে। মুসলিম আইনে মেয়ে পাবে ১৬ লক্ষ টাকা (৬৬%), বাকি ৮ লক্ষ টাকা যাবে তার স্বামী ও বাবা-মায়ের কাছে।

হিন্দু আইনে একমাত্র মেয়ে পাবে ২৪ লক্ষ টাকা পুরোটা। কিন্তু যদি বাবার কোনো ভাই থাকে, তাহলে তাঁরা মামলা করতে পারেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহের এক মামলায় বাবার ভাইকে ১০% দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যদিও তা আইনে সমর্থিত নয়।

এখন ধরুন, সম্পত্তি যদি হয় পৈত্রিক জমি যেখানে দাদা-দাদির অংশ রয়েছে। সেক্ষেত্রে মেয়ের অধিকার আরও জটিল হয়ে যায়। আমি একটি পারিবারিক বিরোধের ডেটা দেখলাম সেখানে ৭ ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র মেয়ে দাদার জমিতে কিছুই পায়নি, কারণ বাড়ির অন্য পুরুষরা দাবি করেছিল জমি তাদের পৈত্রিক।

আপনি যদি মেয়ে হন, তাহলে আপনার বাবার সম্পত্তির হিসাব জানুন। কাগজপত্র এক জায়গায় রাখুন।

বিকল্প উপায়: উইল ও হেবা: মেয়েদের জন্য সহজ পথ

বাবা-মা যদি মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চান, তাহলে শুধু আইনি অধিকারের ওপর নির্ভর না করে উইল বা হেবা (দান) ব্যবহার করা ভাল। আমি সম্প্রতি একজন আইনজীবীর সাক্ষাৎকার নিলাম তিনি বললেন, হেবার মাধ্যমে মেয়েকে সম্পত্তি দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এটা করলে পরিবারের অন্য সদস্যরা পরবর্তীতে কোনো দাবি করতে পারে না।

ঢাকার এক ব্যবসায়ী তার মেয়েকে জমি হেবা করে দিয়েছেন। ছেলে না থাকায় এটি নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। কিন্তু তিনি যদি মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতেন, তাহলে স্বামীর অংশ চলে যেত।

তথ্যটা কেউ জানে না: হেবার সময় যদি মেয়ে নাবালক হয়, তাহলে তার পক্ষে বাবা অভিভাবক হিসেবে দান গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে দান ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই।

উইলের ব্যাপারটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ উইল পরিবর্তন করা যায়। সম্প্রতি একটি মামলা দেখলাম যেখানে বাবা উইল করলেন, কিন্তু মৃত্যুর আগে পরিবর্তন করে ফেললেন। ফলে মেয়ে কিছুই পেল না। তাই উইল করার পর নিকটতম আত্মীয়দের জানিয়ে রাখুন।

পরামর্শঃ হেবা করার সময় অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিবন্ধন করান। নইলে জালিয়াতির আশঙ্কা থাকে। ২০ মিনিটের কাজ ভবিষ্যৎ নিরাপদ।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

বাংলাদেশে নারীর সম্পত্তি অধিকার নিয়ে কিছু পরিসংখ্যান আছে, যা ভাবতে বাধ্য করে। জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশের মাত্র ১২% নারী তাদের নামে জমি বা সম্পত্তির মালিক। আর ছেলে না থাকা পরিবারে এই হার কিছুটা বেড়ে ২১% হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এমন পরিবারের ৩৮% মেয়ে জানেই না যে তাদের আইনি অধিকার আছে। একটি সরকারি প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালে গ্রামীণ এলাকায় ৪৫% মেয়ে তাদের পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, কারণ তারা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল।

মুসলিম আইনে মেয়ের উত্তরাধিকার নিয়ে আরেকটি মজার তথ্য আছে। একজন মেয়ে যদি পিতার সম্পত্তির অর্ধেকাংশ পায় (যেখানে ছেলে পায় পুরো), তাহলে ছেলে না থাকলে সে পায় দুই-তৃতীয়াংশ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ৭০% ক্ষেত্রে মেয়েরা এই অংশও পায় না। কারণ পরিবারের অন্য সদস্যরা, যেমন চাচা বা দাদা, দাবি করে বসে। সম্প্রতি এক মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যদি মেয়ে প্রমাণ করতে পারে যে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাহলে আদালত তার পক্ষে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে গড়ে ৩-৫ বছর, আর খরচ হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

শেষ কথা

আমার মনে হয়, সম্পত্তির অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে শুধু আইন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও দরকার। গ্রামবাংলায় এখনও অনেকে মনে করে মেয়েকে সম্পত্তি দেওয়া মানে ‘ভিটা বিলিয়ে দেওয়া’। এই ধারণা ভাঙতে হবে। আমি একজন সমাজকর্মীর কাছ থেকে শুনেছি যখন একটি মেয়ে তার নামে জমি পায়, তখন সে শুধু আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয় না, বরং পারিবারিক সিদ্ধান্তে তার কণ্ঠস্বর বেড়ে যায়। একটি ছোট উদাহরণ কুমিল্লার এক গ্রামে ১৫টি পরিবার তাদের মেয়েদের নামে জমি লিখে দিয়েছে। দুই বছরে সেখানে মেয়েদের শিক্ষার হার ২৫% বেড়েছে, কারণ পরিবার বুঝেছে সম্পত্তি থাকলে মেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

তাই শেষ কথা আপনি যদি মেয়ে হন, তাহলে আপনার অধিকার জানুন। যদি আপনি বাবা হন, তাহলে আপনার মেয়েকে শুধু পড়াশোনা নয়, সম্পত্তিও দিন। এই সম্পত্তি তাকে ভবিষ্যতে সুরক্ষা দেবে। আর যদি আপনি আইনজ্ঞ হন, তাহলে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ান। পরিসংখ্যান দেখায় মাত্র ১০% মেয়ে আইনি সহায়তা পায়, অথচ প্রয়োজনটাই সবচেয়ে বেশি। আইন হাতে কলমে নিয়ে কাজ করুন, আর নিশ্চিত করুন যে ছেলে না থাকলেও মেয়েরা বঞ্চিত না হয়। কারণ সম্পত্তি শুধু সম্পদ নয় এটা মর্যাদার প্রতীক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *