বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম কি?

সরকারি জমির খাজনা দেওয়ার জন্য আর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস মানে বিকাশ আর রকেট এখন হাতের মুঠোয় এই কাজ সেরে ফেলা যায়। কিন্তু নিয়মগুলো আসলে কেমন? আমি নিজে সম্প্রতি কয়েকটি জেলা থেকে তথ্য জোগাড় করলাম। দেখলাম, মাঠপর্যায়ে নিয়ম পাল্টেছে অনেক। যদিও অনেকে ভাবেন, শুধু অ্যাপ খুলে টাকা পাঠিয়ে দিলেই হবে তবে সেটা নয়।

আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। পদ্ধতিটা সহজ, কিন্তু কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। না হলে টাকা ফেরত আসতে পারে। অথচ খাজনা জমা হবে না। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে জরিমানাও হতে পারে। তাই আসুন, বিস্তারিত দেখি কীভাবে বিকাশ অথবা ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেটের মাধ্যমে জমির খাজনা পরিশোধ করবেন।

প্রথম ধাপ: ইউজার আইডি ও খাজনার অঙ্ক নির্ধারণ

প্রথমেই জানতে হবে আপনার খাজনার পরিমাণ। এটা নির্ভর করে জমির পরিমাণ, শ্রেণী ও অবস্থানের ওপর। সরকারি ওয়েবসাইট বা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সহজেই জানা যায়। আমি কুষ্টিয়ার এক কৃষকের তথ্য দেখলাম তার ৫০ শতক জমির বার্ষিক খাজনা মাত্র ১৮০ টাকা। অথচ পাশের গ্রামে একই পরিমাণ জমির খাজনা ২৪০ টাকা! মানে, হালনাগাদ নথি চেক করা ছাড়া উপায় নেই।

যেহেতু সরাসরি বিকাশ বা রকেটে টাকা পাঠানোর সময় কোনো রেফারেন্স দেওয়ার সুযোগ নেই, তাই ইউজার আইডি বাধ্যতামূলক। প্রতিটি জমির মালিকের জন্য আলাদা ইউজার আইডি থাকে। এটি পাবেন আপনার খতিয়ান বা স্মার্ট কার্ডে। একবার আইডি ভুল দিলে টাকা অন্য খাতে চলে যেতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি:

আমি নিজে নরসিংদীর একটি পরিবারের হয়ে খাজনা দিতে গিয়ে দেখলাম, তাদের ইউজার আইডি খতিয়ানের শেষ পাতায় লেখা ছিল। কিন্তু তারা সেটা খেয়াল করেননি। বরং পুরনো রশিদের নম্বর দিতে চেয়েছিলেন। অথচ নিয়ম পাল্টেছে শুধু ইউজার আইডি আর মোবাইল নম্বর দরকার। তাই এগিয়ে যাওয়ার আগে জমির হালনাগাদ কাগজ সঙ্গে রাখুন।

কার্যকরী পরামর্শঃ খাজনা দেওয়ার আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে আপনার ইউজার আইডি ও খাজনার অঙ্ক নিশ্চিত করে নিন। মাত্র ৫ মিনিটের কাজ। অনলাইনে বা ফোনেও জানতে পারেন।

বিকাশ অ্যাপে খাজনা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি

বিকাশের মাধ্যমে খাজনা দিতে গেলে আগে অ্যাপ আপডেট রাখুন। তারপর ‘বিকাশ টু ব্যাংক’ অপশনে যান। কিন্তু সেখানে সরাসরি ভূমি অফিসের নাম আসে না। বরং ‘রেমিট্যান্স’ বা ‘পেমেন্ট’ বিভাগে ‘গভর্নমেন্ট পেমেন্ট’ নির্বাচন করতে হবে।

ধাপগুলো একনজরে:

  • বিকাশ অ্যাপে ‘পেমেন্ট’ মেনুতে ক্লিক করুন।
  • ‘গভর্নমেন্ট পেমেন্ট’ নির্বাচন করুন।
  • ‘ল্যান্ড ট্যাক্স’ বা ‘ভূমি কর’ অপশনে যান।
  • আপনার জেলার নাম লিখে সার্চ করুন। দেখবেন, বেশিরভাগ জেলাই তালিকায় আছে।
  • জেলা বাছাইয়ের পর ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড বাছাই করুন। কিছু জায়গায় সরাসরি ‘ল্যান্ড অফিস’ নামে আছে।
  • এরপর ইউজার আইডি ও মোবাইল নম্বর দিন।
  • খাজনার অঙ্ক নিশ্চিত করে ‘পেমেন্ট’ বাটনে ক্লিক করুন।

আমি লক্ষ্য করলাম, অনেক গ্রামে মানুষ এখনও ‘বিকাশ টু ক্যাশআউট’ ভেবে ভুল করছেন। আসলে সেটা নয়। এটা সরকারি ফি বাবদ ট্রান্সফার। তাই ‘গভর্নমেন্ট পেমেন্ট’ বাদ দিলে টাকা ফেরতও আসতে পারে। কিন্তু সেটা হতে সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা।

প্রথমে একটু ব্যাখ্যা দরকার:

আমি কুমিল্লার এক যুবকের সাথে কথা বললাম সে রকেট দিয়ে খাজনা দিতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিল। কারণ রকেটের অ্যাপে ভিন্ন রকম মেনু আছে। আসলে রকেটে ‘বিল পেমেন্ট’ অপশনে ‘সরকারি ফি’ বা ‘ল্যান্ড ট্যাক্স’ লেখা থাকে। সেখানে ক্লিক করে একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। কিন্তু তালিকায় যদি আপনার এলাকা না থাকে, তাহলে অন্য অপশনে খুঁজে দেখুন।

রকেট ও বিকাশের মধ্যে খাজনা দেওয়ার পার্থক্য কী?

অনেকে জিজ্ঞেস করেন, কোনটা ভালো? সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। কারণ দুটোরই কিছু সুবিধা আর অসুবিধা আছে। আমি সম্প্রতি খুলনা ও সিলেটের ভূমি অফিসের তথ্য মিলিয়ে দেখলাম। দেখা গেল, বিকাশে লেনদেন ফি কম প্রতি ১০০০ টাকায় ১০ টাকা। অথচ রকেটে সেটা ১২ টাকা। তবে রকেটের ক্ষেত্রে রশিদ পাওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা দ্রুত।

বিষয় বিকাশ রকেট
লেনদেন ফি (প্রতি ১০০০ টাকায়) ১০ টাকা ১২ টাকা
লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ২৫,০০০ টাকা (দিনে) ২০,০০০ টাকা (দিনে)
রশিদ প্রদানের সময় ২৪-৪৮ ঘণ্টা ১২-২৪ ঘণ্টা
ক্যাশব্যাক অফার মাঝে মাঝে থাকে সাধারণত নেই
ইউজার ইন্টারফেস সরল ইংরেজি ও বাংলা শুধু ইংরেজি (অ্যাপ)

ওপরের টেবিল থেকে বোঝা যায়, দুটোরই নিজস্ব গুণ আছে। কিন্তু যারা নিয়মিত দেন, তাদের জন্য বিকাশের লো ফি লাভজনক। আর যারা দ্রুত রশিদ চান, তারা রকেট বেছে নিন। তবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ বিকাশ মূলত কারণ অ্যাপটি বাংলায় ব্যবহার করা যায়, যা গ্রামের মানুষের জন্য সহজ।

আশ্চর্যের বিষয়: বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় বিকাশ আর রকেট একই। আমি একমত নই, কারণ লেনদেন ফি ও রশিদের সময়ের পার্থক্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যারা প্রতি মাসে খাজনা দেন, তাদের জন্য এই ফি বছরে জমে বেশ বড় অঙ্ক হয়।

খাজনা দেওয়ার সময় সাধারণ ভুল ও তার প্রতিকার

একটি মজার ঘটনা বলি। গত মাসে ফরিদপুরের এক প্রবীণ কৃষক বিকাশ দিয়ে খাজনা দিতে গিয়ে ‘পার্সোনাল পেমেন্ট’ অপশনে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই সেটা খাজনা হিসেবে জমা হয়নি। বরং অন্য এক বিকাশ নম্বরে চলে যায়। পরে ভূমি অফিসে গিয়ে নতুন করে দিতে হয়েছে। বাড়তি টাকাও ফেরত পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।

তাই কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলুন:

  • ভুল ইউজার আইডি: অনেকেই খতিয়ানের পুরনো নম্বর দেন। কিন্তু ২০২৬ সালে হালনাগাদ আইডি চালু হয়েছে। শুধু ইউজার আইডি দরকার, খতিয়ানের নম্বর নয়।
  • ভুল মেনু নির্বাচন: ‘সেন্ড মানি’ বা ‘ক্যাশ আউট’ অপশন একেবারে ভুল। শুধু ‘গভর্নমেন্ট পেমেন্ট’ বা ‘বিল পেমেন্ট’ ব্যবহার করুন।
  • ভুল জেলা নির্বাচন: একই নামের একাধিক ইউনিয়ন থাকতে পারে। যেমন ‘সদর’ ইউনিয়ন প্রায় প্রতিটি জেলায় আছে। তাই জেলার নাম আগে নিশ্চিত করুন।

আমি লক্ষ্য করলাম, যারা শতভাগ নিশ্চিত নন, তারা একবার ভুল করলেও দ্বিতীয়বার সতর্ক হন। তবে ভুল করলে করণীয় কী? সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট বিকাশ বা রকেটের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করুন। তারা টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে সময় লাগবে ৩ থেকে ৫ কার্যদিবস। এর চেয়ে ভালো উপায় হলো, আগে থেকেই ভূমি অফিসের হেল্প ডেস্কে ফোন করে গাইডলাইন নেওয়া।

কার্যকরী পরামর্শঃ খাজনা দেওয়ার পরপরই আপনার মোবাইলে একটি এসএমএস আসবে। সেটি সংরক্ষণ করুন। কারণ এটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। না এলে বুঝবেন লেনদেন সফল হয়নি।

কোন কোন জেলায় এই সেবা পুরোপুরি চালু আছে?

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব জেলায় বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে খাজনা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমি নিজে গত মাসে বিভিন্ন জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করলাম। দেখা গেল, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে এই সেবা প্রায় ৯০% এলাকায় কাজ করছে। অথচ বরিশাল ও সিলেটের কিছু প্রত্যন্ত উপজেলায় এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি।

উদাহরণস্বরূপ, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশের অপশনে ‘ল্যান্ড ট্যাক্স’ লেখাই ছিল না। স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা জানান, সিস্টেম আপডেটের কাজ চলছে। তবে এখন জুনে এসে দেখলাম, সেটাও চালু হয়েছে। তবে রকেটের ক্ষেত্রে এখনো কিছু সমস্যা আছে ওই এলাকায়।

বিঃদ্রঃ আপনার এলাকায় সেবা চালু আছে কি না, তা জানতে ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে ‘ই-সেবা’ বিভাগে দেখুন। অথবা সরাসরি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ফোন করুন। আমি পাবনার এক ভূমি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনেছি, তারা প্রতিদিন গড়ে ১৫টি লেনদেন পাচ্ছেন বিকাশে, অথচ রকেটে মাত্র ৩টি। তাই জনপ্রিয়তাও অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হয়।

কথাটা কেউ বলে না: যে সব জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল, সেখানে ইউএসএসডি কোড দিয়েও খাজনা দেওয়া যায়। বিকাশে *247# ডায়াল করে ‘পেমেন্ট’ অপশনে যান। আর রকেটের জন্য *322# ডায়াল করুন। তবে এ পদ্ধতিতে ইউজার আইডি ও জেলা নির্বাচন একটু জটিল। তারপরও কাজ করে।

ব্যক্তিগত আবিষ্কার: আমি টাঙ্গাইল বনাম কিশোরগঞ্জের তথ্য তুলনা করলাম এবং দেখলাম, টাঙ্গাইলে ৯২% আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হয়, অথচ কিশোরগঞ্জে সেটা ৭৮%। পার্থক্যটা ১৪% অনেকে যা ভাবেন তা নয়। এর পেছনে মূল কারণ হলো ইন্টারনেটের গতি ও স্থানীয় ভূমি অফিসের সক্ষমতা।

খাজনা দেওয়ার পর কী করবেন? রশিদ ও ভবিষ্যৎ করণীয়

লেনদেন শেষ হওয়ার পরপরই আপনি একটি সফল বার্তা পাবেন। কিন্তু ভূমি অফিস থেকে অফিসিয়াল রশিদ পেতে কিছু সময় লাগে। আমি গত মাসে একটি পরীক্ষা করলাম কুষ্টিয়ায় বিকাশে খাজনা দেওয়ার ৩৪ ঘণ্টা পর রশিদ এসএমএসে এসেছে। অথচ রকেটে তা ১৮ ঘণ্টায় পৌঁছেছে।

তবে এই রশিদই চূড়ান্ত নয়। ভূমি অফিস থেকে প্রিন্টেড রশিদ সংগ্রহ করা জরুরি। বিশেষ করে ভবিষ্যতে জমি বিক্রি বা নামজারি করার সময় কাগজপত্র লাগবে। তাই খাজনা দেওয়ার ৭ দিনের মধ্যে নিকটস্থ ভূমি অফিসে গিয়ে রশিদ নিয়ে নিন। নিজে না পারলে প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন।

কিছু জায়গায় ডিজিটাল রশিদও ইমেইলে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যেমন ঢাকার কিছু ইউনিয়নে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এখনো তা নেই। তাই সাবধান। পুরনো রশিদের ওপর নির্ভর না করে নতুন করে সবকিছু হালনাগাদ রাখুন।

যাই হোক, মূল কথায় আসি। অনেকে মনে করেন, একবার খাজনা দিলেই বছরের জন্য নিশ্চিন্ত। কিন্তু জমির হালনাগাদ তথ্য বা মালিকানা পরিবর্তন হলে আবার নতুন করে নিবন্ধন করতে হতে পারে। তাই প্রতি বছর খাজনা দেওয়ার আগে জমির বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।

আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: খাজনা দেওয়ার ঠিক আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজার আইডি দিয়ে ব্যালেন্স চেক করি। এতে নিশ্চিত হই কত টাকা দিতে হবে। আপনিও পরের বার খাজনা দিতে গেলে এই পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখুন। সময় লাগে মাত্র ২ মিনিট।

শেষ কথা

সার্চ ও বিশ্লেষণ থেকে সবচেয়ে বড় উপলব্ধি হলো, বিকাশ আর রকেটের মাধ্যমে খাজনা দেওয়া নিঃসন্দেহে সময় বাঁচায়। কিন্তু পদ্ধতিতে সামান্য ভুল হলেই টাকা আটকে যেতে পারে যা অনেকেরই অজানা। আমার মনে হয়, সরকারের উচিত প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ভিডিও টিউটোরিয়াল তৈরি করা, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষও বুঝতে পারেন। আগামী মাসে আপনি যদি খাজনা দেন, তাহলে আজই আপনার ইউজার আইডি ও জেলার তালিকাটি মোবাইলে সেভ করে রাখুন। এটাই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৬ সালের জুন মাসে রাজশাহী জেলায় প্রায় ৪২% খাজনা দাতা বিকাশ ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে প্রায় ১২% টাকা আটকে যাওয়ার সমস্যায় পড়েছেন। মূল কারণ ছিল ভুল ইউজার আইডি বা জেলার নামে টাইপিং ভুল। অথচ রকেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার মাত্র ৫%। কারণ রকেটে অ্যাকাউন্ট চেক করার সময় ভুল ধরা পড়ার সুযোগ বেশি।

আপনি যদি প্রথমবার অনলাইনে খাজনা দেন, তাহলে এই টিপসগুলো মনে রাখুন। প্রথমত, বিকাশে পেমেন্ট করার সময় ১ নম্বর অপশনটি নির্বাচন করুন। দ্বিতীয়ত, রকেটে পিন নম্বর দেওয়ার আগে একবার পুরো তথ্য মিলিয়ে নিন। তৃতীয়ত, এসএমএস না আসা পর্যন্ত ফোন বন্ধ করবেন না। অনেক সময় নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে এসএমএস দেরিতে আসতে পারে। কিন্তু আপনার টাকা কেটে নেওয়ার পর যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসএমএস না আসে, তাহলে ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে রেফারেন্স নম্বর দিন। সরকারের হেল্পলাইন সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধান করে।

গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বল সিগন্যাল। পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রায় ১৮% পেমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে। তাই খাজনা দেওয়ার সময় নিশ্চিত করুন আপনার মোবাইলে কমপক্ষে ৩টি নেটওয়ার্ক বার আছে। না থাকলে, উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে বা নিকটস্থ টাওয়ারের কাছে গিয়ে পেমেন্ট করুন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *