জমি কেনার পর অনেকেই মনে করেন দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে গেলেই সব কাজ শেষ। কিন্তু বাস্তবে সরকারি ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত না হলে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্যই দলিল সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব খারিজ বা নামজারি সম্পন্ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক মানুষ বিশেষ করে প্রথমবার জমি কিনলে একটি প্রশ্নই বেশি করেন বর্তমানে ১ শতাংশ জমি খারিজ করতে কত টাকা লাগে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পান। বাস্তবে সরকারি নির্ধারিত ফি জমির পরিমাণ অনুযায়ী নয়, বরং নির্ধারিত নামজারি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
এই নিবন্ধে বর্তমান সরকারি নির্ধারিত ফি, আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয়, সাধারণ ভুল এবং আবেদন করার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য সরকারি নির্দেশনার আলোকে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে ১ শতাংশ জমি খারিজ করতে সরকারি কত টাকা লাগে?
বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ শতাংশ জমি খারিজ করার জন্য আলাদা কোনো নির্ধারিত ফি নেই। সরকারি খরচ নির্ধারিত হয় একটি নামজারি আবেদন বা মামলার ভিত্তিতে। সরকারি নির্ধারিত ফি বর্তমানে মোট ১,১৭০ টাকা।
- আবেদন ফি (কোর্ট ফি): ২০ টাকা
- নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা
- ডিসিআর ও খতিয়ান ফি: ১,১০০ টাকা
- মোট সরকারি ফি: ১,১৭০ টাকা
এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয় এবং নামজারি অনুমোদনের পর ডিসিআর ও নতুন খতিয়ান সংগ্রহের সময় নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে সরকারি ফি সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা একটি ভালো অভ্যাস।
জমির পরিমাণ অনুযায়ী কি সরকারি খরচ পরিবর্তন হয়?
এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর একটি। অনেকেই মনে করেন ১ শতাংশ জমির জন্য কম টাকা এবং ২০ শতাংশ জমির জন্য বেশি টাকা দিতে হবে। বাস্তবে সরকারি নামজারি ফি জমির আয়তনের ওপর নির্ভর করে না।
যদি একই মালিক, একই দলিল এবং একই মৌজার জমি একসঙ্গে একটি আবেদন হিসেবে দাখিল করা হয়, তাহলে সাধারণত একই সরকারি ফি প্রযোজ্য হয়। তবে ভিন্ন মৌজা, ভিন্ন দলিল অথবা একাধিক আবেদন করতে হলে পৃথকভাবে সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
এ কারণে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। এতে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।
সরকারি ফি ছাড়া আর কোনো খরচ হতে পারে কি?
সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। তবে এগুলো সরকারি নির্ধারিত নামজারি ফি নয়। বরং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত প্রয়োজন, নথিপত্র সংগ্রহ কিংবা সেবার ধরন অনুযায়ী এই ব্যয় পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি, ছবি তোলা, যাতায়াত ব্যয় কিংবা কোনো ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দরকার হতে পারে।
যদি আবেদনকারী নিজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত থাকে, তাহলে সাধারণত সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার প্রয়োজন হয় না। তবে নথি সংগ্রহ, সত্যায়িত অনুলিপি বা ব্যক্তিগত যাতায়াতের মতো খরচ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
খারিজ করার জন্য কোন কোন কাগজপত্র প্রয়োজন?
নামজারি আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসম্পূর্ণ নথি থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে।
- রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের অনুলিপি
- বিক্রয় বা হস্তান্তরের দলিল
- সর্বশেষ খতিয়ানের কপি
- দাগ নম্বর ও মৌজার তথ্য
- জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি
- মোবাইল নম্বর
- প্রয়োজন হলে উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কাগজপত্র
কিছু ক্ষেত্রে জমির ধরন, মালিকানা পরিবর্তনের কারণ বা উত্তরাধিকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।
বিশেষ পরিস্থিতিতে ভূমি অফিস অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় অথবা সরকারি ই-নামজারি সেবার নির্দেশিকা দেখে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে খারিজ আবেদন করার সুবিধা
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ এলাকায় ই-নামজারি সেবার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়। এতে আবেদনকারীর সময়, শ্রম এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
অনলাইনে আবেদন করলে আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করা যায় এবং পরে আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটিও সহজে অনুসরণ করা সম্ভব। এছাড়া আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন ধাপের তথ্য পাঠানো হয়, ফলে আলাদাভাবে বারবার অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
যদিও আবেদন অনলাইনে করা যায়, তবুও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস মূল কাগজপত্র যাচাই করতে আবেদনকারীকে উপস্থিত হতে বলতে পারে।
অনলাইনে আবেদন করার সময় আবেদন নম্বর, জমা দেওয়া তথ্য এবং প্রাপ্ত রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত। পরবর্তীতে আবেদন অনুসন্ধান বা প্রয়োজনে সংশোধনের ক্ষেত্রে এগুলো সহায়ক হয়
খারিজ আবেদন অনুমোদন হতে সাধারণত কত সময় লাগে?
সব ধরনের নথি সঠিক থাকলে এবং কোনো আপত্তি না থাকলে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়। তবে বাস্তবে সময় বিভিন্ন কারণে কম বা বেশি হতে পারে।
নথিতে ভুল, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন হলে আবেদন সম্পন্ন হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ও নথি ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। এতে অতিরিক্ত তদন্ত বা সংশোধনের প্রয়োজন কমে যায় এবং আবেদন প্রক্রিয়াও তুলনামূলক সহজ হয়।
কোন পরিস্থিতিতে নামজারি আবেদন জটিল হয়ে যেতে পারে?
সব আবেদন একই রকম সহজে সম্পন্ন হয় না। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। যেমন—একই জমি নিয়ে একাধিক দাবি থাকলে, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ থাকলে, দলিলের তথ্য ও খতিয়ানের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে অথবা আদালতে সংশ্লিষ্ট কোনো মামলা চলমান থাকলে নামজারি প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
এছাড়া দলিলে ভুল দাগ নম্বর, ভুল মৌজার নাম বা ভুল মালিকানার তথ্য থাকলেও আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি নথি মনোযোগ দিয়ে যাচাই করা উচিত।
খারিজ আবেদন করার আগে যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন
খারিজ বা নামজারি আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করে নিলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা অনেকটাই কমে যায়। প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে জমির দলিলটি যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। এরপর দলিলে উল্লেখিত দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, মৌজার নাম এবং জমির পরিমাণ সর্বশেষ রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। যদি কোনো তথ্যের অসঙ্গতি থাকে, তাহলে আবেদন করার আগে তা সংশোধনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এছাড়া আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ আছে কি না সেটিও নিশ্চিত করা উচিত। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে নিষ্পত্তি বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খারিজ সম্পন্ন হওয়ার পর কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
নামজারি সম্পন্ন হলে সরকারি ভূমি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে জমির মালিকানা সম্পর্কিত প্রশাসনিক নথিতে আপনার তথ্য প্রতিফলিত হয়, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি ও আইনগত কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রম, ভবিষ্যতে জমি বিক্রয় বা হস্তান্তর এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে হালনাগাদ খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই জমি ক্রয়ের পর অপ্রয়োজনীয় দেরি না করে নামজারি সম্পন্ন করা সাধারণভাবে একটি ভালো অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
সচেতন থাকুন: অপ্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকুন
সরকার নামজারি সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্ধারিত ফি সম্পর্কে ধারণা থাকলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তা সহজেই বুঝতে পারবেন। প্রয়োজনে সরকারি ই-নামজারি সেবা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।
কোনো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারি রসিদ সংগ্রহ করুন এবং আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন। ভবিষ্যতে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজে আসে।
খারিজ আবেদন করার সময় মানুষ যেসব ভুল বেশি করে
অনেক আবেদনকারী দলিলের তথ্য, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর বা মৌজার নাম যাচাই না করেই আবেদন জমা দেন। আবার কেউ কেউ অসম্পূর্ণ নথি সংযুক্ত করেন বা সরকারি নির্ধারিত ফির পরিবর্তে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভর করেন। এসব কারণে আবেদন বিলম্বিত হতে পারে। আবেদন করার আগে প্রতিটি তথ্য পুনরায় যাচাই করলে অধিকাংশ সাধারণ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
সরকারি তথ্য কোথায় যাচাই করবেন?
সরকারি ফি, আবেদন পদ্ধতি বা প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সরকারি ই-নামজারি সেবা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অথবা সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তথ্য অনুসরণ করা উচিত। এতে পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি কমে যায়।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১। বর্তমানে ১ শতাংশ জমি খারিজ করতে সরকারি মোট কত টাকা লাগে?
বর্তমান সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী একটি সাধারণ নামজারি আবেদনের জন্য মোট সরকারি খরচ ১,১৭০ টাকা। এর মধ্যে আবেদন ফি, নোটিশ জারি ফি এবং ডিসিআর ও খতিয়ান ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারি নীতিমালা পরিবর্তিত হলে ভবিষ্যতে এই পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে।
২। ১ শতাংশ ও ১০ শতাংশ জমির খারিজ ফি কি আলাদা?
সাধারণভাবে নয়। সরকারি নামজারি ফি জমির পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় না। একই আবেদন ও একই মামলার ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ভিন্ন হলেও সরকারি নির্ধারিত ফি সাধারণত একই থাকে।
৩। অনলাইনে নামজারি আবেদন করা যায় কি?
হ্যাঁ। বর্তমানে সরকারি ই-নামজারি ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগও রয়েছে।
৪। আবেদন করতে কি নিজে উপস্থিত থাকতে হবে?
অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব হলেও প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস মূল কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীকে উপস্থিত হতে বলতে পারে। বিষয়টি এলাকার প্রশাসনিক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে।
৫। নামজারি সম্পন্ন হতে কতদিন সময় লাগতে পারে?
নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও বাস্তবে আবেদনভেদে সময় ভিন্ন হতে পারে। কাগজপত্র সঠিক থাকলে দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হলেও তথ্যগত ভুল, আপত্তি বা তদন্তের প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে।
৬। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রেও কি খারিজ করতে হয়?
হ্যাঁ। উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পরিবর্তিত হলে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সম্পর্কিত অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।
৭। নামজারি না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
সরকারি রেকর্ডে পূর্বের মালিকের নাম থেকে যেতে পারে। ভবিষ্যতে ভূমি কর প্রদান, জমি বিক্রয়, উত্তরাধিকার কার্যক্রম অথবা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৮। আবেদন বাতিল হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করা যায়। তবে পুনরায় আবেদন করার আগে বাতিলের কারণ ভালোভাবে বুঝে প্রয়োজনীয় নথি সংশোধন করা উচিত।
৯। সরকারি ফি কোথায় জমা দিতে হয়?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সরকারি কোষাগারে ফি জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ডিসিআর ও খতিয়ান সংগ্রহের সময়ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হয়।
১০। খারিজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা কীভাবে জানা যাবে?
অনলাইনে আবেদন করলে আবেদন নম্বর ব্যবহার করে ই-নামজারি সেবার মাধ্যমে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। এছাড়া প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকেও আবেদন নিষ্পত্তির তথ্য জানা যায়।
সম্পাদকীয় নোট
এই নিবন্ধে উল্লেখিত তথ্য সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি নির্দেশনা ও ই-নামজারি সেবার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস অথবা সরকারি তথ্যসূত্র থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।
উপসংহার
বর্তমানে ১ শতাংশ জমি খারিজ করার জন্য আলাদা কোনো সরকারি ফি নির্ধারিত নেই। সরকারি নামজারি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত ফি অনুযায়ী আবেদন সম্পন্ন হয়। তবে নীতিমালা পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি ফিও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা, সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়। সঠিকভাবে নামজারি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

