স্ত্রী ও মেয়েরা সম্পত্তির কতটুকু অংশ পায়?

পরিবারের কোনো সদস্য মারা যাওয়ার পর সম্পত্তি বণ্টনের সময় সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো সামনে আসে, তার একটি হলো স্ত্রী ও মেয়েরা সম্পত্তির কতটুকু অংশ পাবে। অনেক পরিবারে এখনো ধারণা আছে যে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে বাবার সম্পত্তিতে তার অধিকার কমে যায় বা থাকে না। আবার কেউ মনে করেন, স্ত্রী সব পরিস্থিতিতেই স্বামীর সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পাবেন। বাস্তবে উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম এতটা সরল নয়।

বাংলাদেশে উত্তরাধিকার বণ্টনের নিয়ম ধর্মভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই নিবন্ধে শুধু বাংলাদেশের মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উত্তরাধিকার বিধানের আলোকে স্ত্রী ও কন্যার অংশ সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তথ্যগুলো ১৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আইনভান্ডার, সরকারি উত্তরাধিকার পোর্টাল এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্ত্রী বা মেয়ের অংশ নির্ধারণ করতে শুধু তাদের সংখ্যা জানলেই যথেষ্ট নয়। মৃত ব্যক্তির ছেলে, বাবা, মা, ভাই, বোন, নাতি, নাতনি এবং অন্য যোগ্য উত্তরাধিকারী জীবিত আছেন কি না, সেটিও দেখতে হয়। তাই নিচের ভগ্নাংশগুলো মূল নিয়ম বোঝায়, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের চূড়ান্ত বণ্টন করার আগে সম্পূর্ণ উত্তরাধিকারী তালিকা তৈরি করা জরুরি।

  • গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য জানার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট পরিবারের সম্পত্তি শুধু এখানে দেওয়া উদাহরণ দেখে চূড়ান্তভাবে বণ্টন করা উচিত নয়। বাস্তব বণ্টনের আগে সব উত্তরাধিকারী, দেনা, ওসিয়ত, আগের সম্পত্তি হস্তান্তর এবং মৃত ব্যক্তির প্রকৃত মালিকানার তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

বাংলাদেশে মুসলিম উত্তরাধিকার কোন আইনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়?

বাংলাদেশে মুসলিমদের উত্তরাধিকার বিষয়ে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তির অংশ। ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ৪ ধারায় পূর্বমৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তানদের উত্তরাধিকার সম্পর্কেও বিশেষ বিধান রয়েছে। সরকারি উত্তরাধিকার পোর্টালে স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, বাবা, মা এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারীর অংশ নির্ণয়ের নিয়ম ও উদাহরণ দেওয়া রয়েছে।

তবে উত্তরাধিকার আইনকে শুধু একটি ভগ্নাংশের তালিকা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কে জীবিত, কে আগে মারা গেছেন এবং কোনো উত্তরাধিকারী অন্য কাউকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিচ্ছেন কি না, এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করেই চূড়ান্ত হিসাব করতে হয়।

স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কতটুকু অংশ পান?

মুসলিম উত্তরাধিকার বিধান অনুযায়ী মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে স্ত্রী সাধারণভাবে বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির ১/৮ অংশের অধিকারী হন। অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবে ১২.৫ শতাংশ। সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকলে স্ত্রীর সাধারণ নির্ধারিত অংশ ১/৪ বা ২৫ শতাংশ।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্বামীর একাধিক স্ত্রী জীবিত থাকলে প্রত্যেক স্ত্রী আলাদাভাবে ১/৮ বা ১/৪ পান না। স্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত অংশটি তাদের মধ্যে ভাগ হয়। ফলে উত্তরাধিকার হিসাব করার সময় স্ত্রীর সংখ্যা এবং মৃত ব্যক্তির সন্তান আছে কি না, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মাত্র মেয়ে থাকলে সে কতটুকু সম্পত্তি পায়?

মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্র না থেকে একজন মাত্র কন্যা থাকলে ওই কন্যার সাধারণ নির্ধারিত অংশ ১/২। তবে এটিকে সব পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত ৫০ শতাংশ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্য উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি, অবশিষ্ট সম্পত্তি এবং প্রযোজ্য ফেরত বণ্টনের নিয়মের কারণে চূড়ান্ত প্রাপ্ত অংশ ভিন্ন হতে পারে।

এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি। উত্তরাধিকার আইনে “নির্ধারিত অংশ” এবং সব উত্তরাধিকারীর হিসাব শেষ হওয়ার পর “চূড়ান্ত প্রাপ্ত অংশ” সব সময় একই নাও হতে পারে।

দুই বা ততোধিক মেয়ে থাকলে তারা কতটুকু পায়?

মৃত ব্যক্তির কোনো পুত্র না থাকলে এবং দুই বা ততোধিক কন্যা থাকলে কন্যাদের সম্মিলিত সাধারণ নির্ধারিত অংশ ২/৩। এই অংশ কন্যাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়। তবে বাবা, মা বা অন্য যোগ্য উত্তরাধিকারী থাকলে তাদের অংশও একই হিসাবের মধ্যে বিবেচনা করতে হবে।

ছেলে ও মেয়ে উভয়েই থাকলে মেয়ের অংশ কীভাবে হিসাব হয়?

মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে উভয়েই থাকলে কন্যার জন্য একক ১/২ বা কন্যাদের জন্য সম্মিলিত ২/৩ নির্ধারিত অংশের নিয়ম প্রযোজ্য থাকে না। অন্যান্য নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর সন্তানদের জন্য যে অবশিষ্ট সম্পত্তি থাকে, সেখানে প্রত্যেক পুত্র প্রত্যেক কন্যার দ্বিগুণ অংশ পায়। অর্থাৎ একই স্তরের পুত্র ও কন্যার বণ্টনের অনুপাত হয় ২:১।

এর মানে কোনো কন্যা সম্পত্তি থেকে বাদ পড়ে না। বরং একই স্তরের একজন ছেলে ও একজন মেয়ের মধ্যে বণ্টনের সময় ছেলের দুটি অংশের বিপরীতে মেয়ের একটি অংশ নির্ধারিত হয়।

২৪ লাখ টাকার সম্পত্তির একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি বণ্টনযোগ্য ২৪ লাখ টাকার সম্পত্তি রেখে মারা গেলেন। তার উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী, একজন ছেলে এবং একজন মেয়ে রয়েছেন। সন্তান থাকার কারণে স্ত্রী প্রথমে ১/৮ অংশ পাবেন, অর্থাৎ ৩ লাখ টাকা। এরপর অবশিষ্ট থাকবে ২১ লাখ টাকা।

এই ২১ লাখ টাকা ছেলে ও মেয়ের মধ্যে ২:১ অনুপাতে ভাগ হবে। মোট তিনটি অংশ ধরলে ছেলে পাবে দুটি অংশ অর্থাৎ ১৪ লাখ টাকা এবং মেয়ে পাবে একটি অংশ অর্থাৎ ৭ লাখ টাকা। ফলে স্ত্রী ৩ লাখ, ছেলে ১৪ লাখ এবং মেয়ে ৭ লাখ টাকা পাবে। সরকারি উত্তরাধিকার পোর্টালেও স্ত্রী, এক ছেলে এবং এক মেয়ের এমন বণ্টনের গাণিতিক কাঠামো দেখানো হয়েছে।

১/৮ বা ২/৩ জানলেই কেন সব উত্তরাধিকার হিসাব করা যায় না?

এটি উত্তরাধিকার হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক দিক। স্ত্রীর ১/৮ এবং দুই মেয়ের ২/৩ অংশ আলাদাভাবে জানলেই চূড়ান্ত বণ্টন করা যায় না। বাবা, মা বা অন্য নির্ধারিত অংশের উত্তরাধিকারী থাকলে মোট অংশের যোগফল একের বেশি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত অংশগুলো আনুপাতিকভাবে সমন্বয় করা হয়, যা আউল নীতি নামে পরিচিত।

আবার নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে অবশিষ্টভোগী বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফেরত বণ্টনের নিয়ম কার্যকর হতে পারে। তাই কোনো বাস্তব পরিবারের সম্পত্তি ভাগ করার সময় শুধু একটি ভগ্নাংশ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব উত্তরাধিকারীর পূর্ণ তালিকা অনুযায়ী হিসাব করা উচিত।

সম্পত্তি ভাগের আগে কোন বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে হয়?

মৃত ব্যক্তির মোট সম্পদই সরাসরি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ করা হয় না। প্রথমে তার প্রকৃত মালিকানাধীন সম্পদ নির্ধারণ করতে হয়। এরপর প্রযোজ্য দাফন ও কাফনের যুক্তিসংগত ব্যয়, বৈধ দেনা এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কার্যকর ওসিয়ত নিষ্পত্তির পর যে নিট সম্পত্তি থাকে, সেটিই উত্তরাধিকার বণ্টনের ভিত্তি হয়।

বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ, ব্যক্তিগত ধার, অপরিশোধিত দেনমোহর বা অন্য বৈধ আর্থিক দায় থাকলে এগুলো উপেক্ষা করে জমি ভাগ করলে পরে বিরোধ তৈরি হতে পারে। তাই প্রথম কাজ হওয়া উচিত সম্পত্তির তালিকার পাশাপাশি দেনার তালিকাও তৈরি করা।

বিবাহিত মেয়ে কি বাবার সম্পত্তির অধিকার হারায়?

না। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেই বাবার সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকার অধিকার শেষ হয় না। বাবার মৃত্যুর সময় সে কন্যা হিসেবে উত্তরাধিকারী হলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী তার অংশ নির্ধারিত হবে। বিয়ের সময় গয়না, টাকা, আসবাব বা অন্য উপহার পাওয়া মাত্রও তার উত্তরাধিকার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না।

বাবা জীবিত থাকতেই সম্পত্তি ভাগ করে দিলে সেটি কি উত্তরাধিকার?

বাবা জীবিত অবস্থায় নিজের মালিকানাধীন সম্পত্তি বৈধভাবে হেবা বা অন্য আইনসম্মত পদ্ধতিতে হস্তান্তর করলে সেটি উত্তরাধিকার বণ্টন নয়। উত্তরাধিকার সাধারণভাবে মালিকের মৃত্যুর পর কার্যকর হয়। তাই জীবদ্দশায় সম্পত্তি হস্তান্তর এবং মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়া দুটি পৃথক বিষয়।

শুধু মৌখিকভাবে ভবিষ্যতে কে কী পাবে বলে ঘোষণা করা এবং আইনগতভাবে মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন করা এক বিষয় নয়। জমি বা বাড়ির ক্ষেত্রে দলিল, দখল এবং প্রযোজ্য নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়ে বা ছেলে আগে মারা গেলে তার সন্তানদের কী হবে?

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ছেলে বা মেয়ে উত্তরাধিকার কার্যকর হওয়ার আগেই মারা গেলে এবং তার সন্তান জীবিত থাকলে, সেই সন্তানরা শাখাভিত্তিকভাবে তাদের মৃত বাবা বা মা জীবিত থাকলে যে অংশ পেতেন, সেই অংশের সমপরিমাণ অংশ পাওয়ার অধিকারী হয়।

এই বিধানের হিসাব সাধারণ পুত্র ও কন্যার ২:১ অনুপাতের সরল হিসাবের থেকে আলাদা হতে পারে। তাই পূর্বমৃত ছেলে বা মেয়ের সন্তান থাকলে তাদের শাখা এবং অন্যান্য উত্তরাধিকারী একসঙ্গে বিবেচনা করে হিসাব করা উচিত।

প্রাপ্য অংশ পাওয়ার পর জমির ক্ষেত্রে কী করা উচিত?

উত্তরাধিকারীর অংশ নির্ধারিত হওয়ার পর জমির সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জিত জমির নামজারির আবেদন করা যায়। আবেদন করার আগে ওয়ারিশসংক্রান্ত কাগজপত্র, খতিয়ান, দাগ, জমির পরিমাণ এবং মৃত ব্যক্তির মালিকানার তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

জমির পরিমাণ, দাগ, খতিয়ান ও মালিকানা ইতিহাসে অসঙ্গতি থাকলে ভাগের আগে সেগুলো যাচাই করা ভালো। কারণ গাণিতিকভাবে অংশ ঠিক হলেও মৃত ব্যক্তির মালিকানায় প্রকৃতপক্ষে কতটুকু জমি ছিল সেটি ভুল হলে পুরো বণ্টনই ভুল হয়ে যেতে পারে।

স্ত্রী ও মেয়েদের সম্পত্তির অংশ নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. সন্তান থাকলে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির কত অংশ পান?

মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে স্ত্রী সাধারণভাবে বণ্টনযোগ্য সম্পত্তির ১/৮ অংশের অধিকারী হন। তবে মৃত ব্যক্তির নামে থাকা মোট সম্পদ সরাসরি বণ্টনের ভিত্তি নয়। প্রযোজ্য দেনা এবং অন্যান্য বৈধ দায় নিষ্পত্তির পর যে সম্পত্তি উত্তরাধিকারযোগ্য থাকে, তার ভিত্তিতে অংশ নির্ণয় করা হয়।

২. কোনো সন্তান না থাকলে স্ত্রী কতটুকু পান?

মৃত স্বামীর সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকলে স্ত্রীর সাধারণ নির্ধারিত অংশ ১/৪। বাকি সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির বাবা, মা, ভাই, বোন বা অন্য যোগ্য উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি অনুযায়ী বণ্টিত হতে পারে। স্ত্রী ১/৪ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি অবশিষ্ট ৩/৪ অংশেরও মালিক হবেন।

৩. একমাত্র মেয়ে কি বাবার সম্পত্তির অর্ধেক পায়?

যদি কোনো পুত্র না থাকে এবং একজন মাত্র কন্যা থাকে, তাহলে তার নির্ধারিত অংশ সাধারণভাবে ১/২। তবে অন্য উত্তরাধিকারীর উপস্থিতি ও অবশিষ্ট সম্পত্তি বণ্টনের নিয়মের কারণে চূড়ান্ত হিসাবে তার মোট প্রাপ্তি কিছু পরিস্থিতিতে ভিন্ন হতে পারে।

৪. দুই মেয়ে এবং কোনো ছেলে না থাকলে তারা কতটুকু পায়?

দুই বা ততোধিক কন্যা এবং কোনো পুত্র না থাকলে কন্যাদের সম্মিলিত নির্ধারিত অংশ সাধারণভাবে ২/৩। দুই মেয়ে থাকলে এই অংশ দুজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়। তবে বাবা, মা বা অন্য উত্তরাধিকারী থাকলে তাদের অংশও আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।

৫. ছেলে থাকলে কি মেয়ে বাবার সম্পত্তি পায় না?

অবশ্যই পায়। ছেলে থাকার কারণে মেয়ে উত্তরাধিকার থেকে বাদ পড়ে না। ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে উত্তরাধিকারী হলে প্রাসঙ্গিক অবশিষ্ট সম্পত্তি সাধারণভাবে এমন অনুপাতে বণ্টিত হয় যেখানে একজন ছেলে একজন মেয়ের দ্বিগুণ অংশ পায়।

৬. বিয়ের সময় সম্পদ দিলে কি মেয়ের উত্তরাধিকার শেষ হয়ে যায়?

শুধু বিয়ের সময় গয়না, টাকা, আসবাব বা অন্য উপহার দেওয়া হয়েছে বলে মেয়ের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না। উপহার এবং উত্তরাধিকার আইনগতভাবে পৃথক বিষয়। কোনো সম্পত্তির মালিকানা বৈধভাবে আগেই হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে সেটি আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়।

৭. মেয়ে কি নিজের প্রাপ্য অংশ ভাইকে দিয়ে দিতে পারে?

উত্তরাধিকারসূত্রে কোনো সম্পত্তির মালিক হওয়ার পর একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের অংশ আইনসম্মতভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। তবে কোনো দলিলের মাধ্যমে অংশ হস্তান্তরের আগে দলিলের প্রকৃতি, মালিকানা, দখল এবং আইনগত প্রভাব বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য দলিল ও নিবন্ধন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

৮. স্ত্রী ও মেয়ের অংশ কি সব পরিবারে একই থাকে?

না। মূল নির্ধারিত ভগ্নাংশ থাকলেও চূড়ান্ত বণ্টন নির্ভর করে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী কারা তার ওপর। বাবা, মা, ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী এবং অন্য উত্তরাধিকারীর সমন্বয় পরিবর্তন হলে সম্পূর্ণ হিসাবও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই দুটি পরিবারের সম্পত্তির মূল্য সমান হলেও উত্তরাধিকার বণ্টন এক নাও হতে পারে।

৯. উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য নামজারি করা কি গুরুত্বপূর্ণ?

জমির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের অধিকার সরকারি ভূমি রেকর্ডে প্রতিফলিত করার জন্য নামজারি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক পদক্ষেপ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় উত্তরাধিকারসূত্রে অর্জিত জমির নামজারির আবেদন করা যায়। আবেদন করার আগে মৃত ব্যক্তির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশদের পরিচয়, খতিয়ান, দাগ এবং সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য যাচাই করা উচিত।

১০. উত্তরাধিকার নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ হলে কী করা উচিত?

প্রথমে মৃত ব্যক্তির সব উত্তরাধিকারীর পূর্ণ তালিকা, সম্পত্তির কাগজপত্র, দেনার তথ্য এবং আগের কোনো হস্তান্তর বা ওসিয়তের তথ্য সংগ্রহ করুন। এরপর সম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বণ্টনের হিসাব করুন। বড় সম্পত্তি, একাধিক বিয়ে, পূর্বমৃত সন্তান, জটিল জমির রেকর্ড বা পারিবারিক বিরোধ থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

উপসংহার

বাংলাদেশের মুসলিম উত্তরাধিকার বিধান অনুযায়ী সন্তান থাকলে স্ত্রী সাধারণভাবে ১/৮ এবং সন্তান না থাকলে ১/৪ নির্ধারিত অংশ পান। ছেলে না থাকলে একজন কন্যার নির্ধারিত অংশ সাধারণভাবে ১/২ এবং দুই বা ততোধিক কন্যার সম্মিলিত নির্ধারিত অংশ ২/৩। ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে থাকলে প্রাসঙ্গিক অবশিষ্ট অংশ সাধারণভাবে ২:১ অনুপাতে ভাগ হয়।

তবে এগুলোকে চূড়ান্ত হিসাব মনে করা উচিত নয়। সঠিক বণ্টনের জন্য মৃত ব্যক্তির সব উত্তরাধিকারী, দেনা, সম্পদের প্রকৃত মালিকানা এবং প্রযোজ্য বিশেষ নিয়ম একসঙ্গে বিবেচনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *