অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করার নিয়ম

বাংলাদেশে ভূমি উন্নয়ন করকে সাধারণভাবে খাজনা বলা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে জমির মালিকরা নিবন্ধন, জমির তথ্য যাচাই এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধের মতো কাজ অনলাইনে করতে পারেন। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও জমির তথ্য প্রস্তুত থাকলে সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়।

তবে প্রথমবার অনলাইনে খাজনা দিতে গিয়ে অনেক জমির মালিক সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে নিবন্ধন, খতিয়ান সংযুক্ত করা, হোল্ডিং তৈরি বা অনুমোদন এবং করের দাবি যাচাইয়ের ধাপগুলো না জানলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। শুধু টাকা পরিশোধের ধাপ জানলেই তাই যথেষ্ট নয়; আগে নিজের জমির তথ্য অনলাইন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এই নির্দেশিকায় অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের প্রস্তুতি, নাগরিক নিবন্ধন, খতিয়ান সংযুক্তি, হোল্ডিং যাচাই, কর পরিশোধ এবং দাখিলা সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যগুলো সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল ও ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। তবে সরকারি অনলাইন সেবার নিয়ম বা ইন্টারফেস পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কোনো ধাপে ভিন্নতা দেখা গেলে পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা কী?

ভূমি উন্নয়ন কর হলো জমির জন্য প্রযোজ্য সরকারি কর, যা সাধারণভাবে খাজনা নামেও পরিচিত। জমির অবস্থান, শ্রেণি, ব্যবহার এবং প্রযোজ্য সরকারি বিধি ও হারের ভিত্তিতে ভূমি উন্নয়ন করের দাবি নির্ধারিত হতে পারে। নিজের জমির ক্ষেত্রে কত টাকা কর প্রযোজ্য তা জানতে সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের তথ্য ও প্রদর্শিত দাবি যাচাই করা উচিত।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের পর প্রাপ্ত দাখিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমি-সংক্রান্ত নথি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দাখিলা জমির মালিকানা-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে নামজারি, জমি কেনাবেচা এবং অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত কাজে প্রয়োজন হতে পারে। তাই কর দেওয়ার পাশাপাশি দাখিলার কপি নিরাপদে সংরক্ষণ করাও জরুরি।

অনলাইনে খাজনা দিতে কী কী প্রয়োজন?

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের কাছে রাখলে নিবন্ধন ও জমির তথ্য যুক্ত করার কাজ সহজ হয়। সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী মালিকানাধীন জমির হোল্ডিং নিবন্ধনের জন্য সাধারণত নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হয়।

  • সচল মোবাইল নম্বর
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর
  • জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ
  • দাখিলা অথবা খারিজ খতিয়ানের তথ্য

তথ্য দেওয়ার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির প্রাসঙ্গিক নথিতে থাকা নাম, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং জমির রেকর্ড ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অমিল দেখা গেলে অনুমান করে তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি ভূমিসেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নেওয়া ভালো।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সরকারি ওয়েবসাইট

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সরকারি পোর্টালের ঠিকানা হলো www.ldtax.gov.bd। এটি বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনার সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা অর্থ পরিশোধের বিষয় জড়িত থাকায় অন্য কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে এসব তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

  • গুরুত্বপূর্ণ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্য ও নির্দেশনামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় বা ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নয়। করের পরিমাণ, জমির তথ্য, আবেদন বা লেনদেনসংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্যের জন্য সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য ও নির্দেশনাকেই প্রাধান্য দিন।

ধাপ ১: ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে নিবন্ধন করুন

প্রথমে সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে প্রবেশ করে নাগরিক নিবন্ধনের অপশন নির্বাচন করুন। নিবন্ধনের সময় সচল মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। মোবাইল নম্বরটি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভালো, কারণ পরবর্তী সময়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ, তথ্য যাচাই বা সেবা-সংক্রান্ত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তথ্য দেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে তথ্য রয়েছে সেভাবেই দেওয়া উচিত। জন্মতারিখ বা পরিচয়পত্রের নম্বরে একটি সংখ্যাও ভুল হলে যাচাই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই সাবমিট করার আগে তথ্য আবার মিলিয়ে দেখা একটি কার্যকর অভ্যাস।

ধাপ ২: নিজের খতিয়ান সংযুক্ত করুন

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের জমির খতিয়ান প্রোফাইলে সংযুক্ত করা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে খতিয়ান সংযুক্ত করে সেটি অনুমোদিত হওয়ার পর অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যায়।

খতিয়ান যোগ করার সময় পোর্টালে চাওয়া বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং খতিয়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জমির নথি অনুযায়ী পূরণ করুন। কোনো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে অনুমান করে দেওয়ার পরিবর্তে নিজের প্রাসঙ্গিক ভূমি রেকর্ড যাচাই করুন অথবা প্রয়োজন হলে সরকারি ভূমিসেবা সহায়তা নিন।

ধাপ ৩: হোল্ডিং তৈরি ও তথ্য যাচাই করুন

খতিয়ান যুক্ত করার পর সেটি সংশ্লিষ্ট ভূমি ব্যবস্থাপনার তথ্যের সঙ্গে যাচাই ও হোল্ডিংয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এখানেই অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন খতিয়ান যোগ করলেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা দেওয়া যাবে। বাস্তবে খতিয়ান সংযুক্তি এবং কর পরিশোধযোগ্য হোল্ডিং প্রস্তুত হওয়া একই ধাপ নয়।

খতিয়ান যোগ করার পর প্রোফাইলে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের অবস্থা এবং জমির তথ্য যাচাই করুন। মালিকের নাম, জমির পরিমাণ, খতিয়ান বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে অসঙ্গতি দেখা গেলে কর পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই বা সংশোধনের জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ধাপ ৪: ভূমি উন্নয়ন করের দাবি যাচাই করুন

হোল্ডিং কর প্রদানের উপযোগী হলে সরকারি ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ভূমি উন্নয়ন করের দাবি দেখা যেতে পারে। অর্থ পরিশোধের আগে হোল্ডিং, জমির তথ্য, করের সময়কাল এবং পোর্টালে প্রদর্শিত মোট দাবির পরিমাণ ভালোভাবে যাচাই করুন। বর্তমান করের পাশাপাশি কোনো বকেয়া বা অন্য প্রযোজ্য অর্থ দেখানো হলে সেটিও পেমেন্টের আগে পরীক্ষা করুন।

নিজে হিসাব করে একটি অঙ্ক ধরে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে সরকারি ব্যবস্থায় প্রদর্শিত দাবি যাচাই করা বেশি নির্ভরযোগ্য। কারণ জমির শ্রেণি, ব্যবহার, অবস্থান এবং প্রযোজ্য হারের ভিত্তিতে কর নির্ধারণে পার্থক্য হতে পারে।

ধাপ ৫: অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করুন

কর দাবির তথ্য সঠিক থাকলে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত অনলাইন পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন। পেমেন্টের সময় পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত পেমেন্ট পাতায় প্রদর্শিত নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে তারপর লেনদেন সম্পন্ন করুন।

পেমেন্টের সময় পোর্টালে তখন যে অনুমোদিত মাধ্যমগুলো দেখাবে, সেখান থেকে সুবিধাজনক মাধ্যম নির্বাচন করুন। অর্থ পরিশোধের চূড়ান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট পাতায় অনুসরণ করাই নিরাপদ। কারণ সময়ের সঙ্গে উপলভ্য পেমেন্ট মাধ্যম বা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।

পেমেন্টের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে না পারলে সঙ্গে সঙ্গে একই কর আবার পরিশোধ করবেন না। প্রথমে নিজের অ্যাকাউন্টে কর ও লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন এবং ব্যবহৃত পেমেন্ট মাধ্যমেও অর্থ কাটা হয়েছে কি না দেখুন। পরিস্থিতি পরিষ্কার না হলে পুনরায় অর্থ পরিশোধের আগে সরকারি ভূমিসেবা সহায়তা নিন।

ধাপ ৬: অনলাইন দাখিলা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করুন

সফলভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট দাখিলা সংগ্রহ করুন। সম্ভব হলে দাখিলার ডিজিটাল কপি নিজের মোবাইল, কম্পিউটার বা নিরাপদ অনলাইন সংরক্ষণস্থলে রাখুন এবং গুরুত্বপূর্ণ জমির ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপিও সংরক্ষণ করতে পারেন।

দাখিলা পাওয়ার পর জমির পরিচিতি, হোল্ডিং, করের সময়কাল, পরিশোধিত অর্থ এবং মালিকানাসংশ্লিষ্ট দৃশ্যমান তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত। ভবিষ্যতে নামজারি, জমি হস্তান্তর বা অন্য কোনো ভূমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনে পুরোনো দাখিলা দ্রুত খুঁজে পাওয়া অনেক কাজে দেয়।

নিজে অনলাইনে করতে না পারলে কী করবেন?

নিজে স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে অসুবিধা হলে সরকারি সহায়তার বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে। সরকারি ভূমিসেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিচয় ও জমির তথ্য দিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমেও ভূমি উন্নয়ন কর-সংক্রান্ত সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেবা নেওয়ার সময় নিজের ব্যক্তিগত ও জমিসংক্রান্ত তথ্য কেবল অনুমোদিত সরকারি বা সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবস্থায় প্রদান করুন।

খাজনা দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

অর্থ পরিশোধের আগে জমির মালিকের নাম, খতিয়ান, মৌজা, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের তথ্য মিলিয়ে নিন। বিশেষ করে একাধিক জমি, যৌথ মালিকানা বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সঠিক হোল্ডিং নির্বাচন করা হয়েছে কি না সতর্কভাবে যাচাই করুন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি থাকলে সেটি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত পেমেন্ট সম্পন্ন না করাই ভালো।

অপরিচিত এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটের লিংকে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, ওটিপি বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দেবেন না। সম্ভব হলে ব্রাউজারে সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালের ঠিকানা নিজে লিখে প্রবেশ করুন। অর্থ পরিশোধের পর নিজের অ্যাকাউন্টে লেনদেনের অবস্থা এবং প্রাপ্ত দাখিলার তথ্যও যাচাই করুন।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর সম্পর্কে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর

১. অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর কোথায় পরিশোধ করা যায়?

বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল www.ldtax.gov.bd ব্যবহার করে অনলাইনে এ সেবা নেওয়া যায়। ব্যক্তিগত ও ভূমিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগে ওয়েব ঠিকানাটি সরকারি কি না যাচাই করা উচিত।

২. অনলাইনে খাজনা দিতে কি নিবন্ধন করতে হবে?

নিজের প্রোফাইল থেকে জমির খতিয়ান সংযুক্ত এবং পরবর্তী অনলাইন সেবা ব্যবহারের জন্য নাগরিক নিবন্ধন প্রয়োজন। নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য প্রোফাইলে যুক্ত করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কর দেওয়া যায়।

৩. নিবন্ধনের জন্য কী কী তথ্য লাগে?

সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী সচল মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্মতারিখ এবং দাখিলা বা খারিজ খতিয়ানের তথ্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। জমির পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত তথ্যের দরকার হতে পারে।

৪. খতিয়ান যোগ করলেই কি সঙ্গে সঙ্গে খাজনা দেওয়া যাবে?

সব ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে খতিয়ান সংযুক্ত করে অনুমোদিত হওয়ার পর অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে কর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই খতিয়ান যুক্ত করার পর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিং ও অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন।

৫. অনলাইনে খাজনা দিলে কি দাখিলা পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, সফলভাবে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট দাখিলা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। দাখিলা পাওয়ার পর জমি, হোল্ডিং, করের সময়কাল এবং পরিশোধসংক্রান্ত দৃশ্যমান তথ্য মিলিয়ে নিন। ভবিষ্যতের প্রয়োজনে এর একটি ডিজিটাল কপি নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারেন।

৬. জমির তথ্য ভুল দেখালে কি সঙ্গে সঙ্গে টাকা দেওয়া উচিত?

না। মালিকের নাম, জমির পরিমাণ, খতিয়ান বা হোল্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি থাকলে আগে সেটি যাচাই করা উচিত। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অর্থ পরিশোধ করলে পরে সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন।

৭. পেমেন্টের সময় টাকা কেটে গেলে কিন্তু দাখিলা না এলে কী করব?

একই অর্থ সঙ্গে সঙ্গে আবার পরিশোধ করবেন না। প্রথমে নিজের অ্যাকাউন্টে কর ও লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন এবং ব্যবহৃত পেমেন্ট মাধ্যমে অর্থ কাটা হয়েছে কি না দেখুন। দাখিলা না পাওয়া বা লেনদেনের অবস্থা পরিষ্কার না হলে সরকারি ভূমিসেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এর মাধ্যমে নির্দেশনা নিতে পারেন।

৮. মোবাইল দিয়ে কি অনলাইনে খাজনা দেওয়া সম্ভব?

ইন্টারনেট সংযোগ ও উপযুক্ত ব্রাউজার ব্যবহার করে মোবাইল থেকে সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে প্রবেশ করা যায়। মোবাইল দিয়ে পেমেন্ট করার সময় স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করুন এবং লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার আগে ব্রাউজার বা পেমেন্ট পাতা বন্ধ করা এড়িয়ে চলুন।

৯. নিজে অনলাইনে নিবন্ধন করতে না পারলে কী উপায় আছে?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ ও খতিয়ানের তথ্য প্রদান করে নিবন্ধন এবং ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত না হলেও সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা নেওয়া সম্ভব।

১০. ভূমি উন্নয়ন করের সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করব?

ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সরকারি হটলাইন ১৬১২২-এ যোগাযোগ করা যায়। সমস্যার সময় নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, খতিয়ান এবং হোল্ডিং-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কাছে রাখলে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা সহজ হতে পারে। ব্যক্তিগত গোপন তথ্য অচেনা ব্যক্তি বা অননুমোদিত মাধ্যমে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

উপসংহার

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক জমি ও হোল্ডিং শনাক্ত করা, সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত করের দাবি যাচাই করা এবং সফল পেমেন্টের পর দাখিলা সংরক্ষণ করা। কোনো তথ্য ভুল, অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট মনে হলে অর্থ পরিশোধের আগে সরকারি ভূমিসেবা সহায়তা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সরকারি সেবার নিয়ম বা অনলাইন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এলে পোর্টালে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *