অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা বের করার নিয়ম ২০২৬

জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি যাচাই কিংবা নিজের জমির রেকর্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে খতিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। আগে একটি খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহ করতে অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা রেকর্ড রুমে যেতে হতো। বর্তমানে বাংলাদেশের ভূমিসেবার একটি বড় অংশ ডিজিটাল হওয়ায় ঘরে বসেই অনলাইনে ভূমি রেকর্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সঠিক তথ্য জানা থাকলে একজন সাধারণ জমির মালিকও নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় খতিয়ান খুঁজে দেখতে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন কপির জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় সঠিক জরিপ, মৌজা, খতিয়ান নম্বর কিংবা মালিকের তথ্য নির্বাচন নিয়ে। একই জমির বিভিন্ন সময়ে করা জরিপে আলাদা খতিয়ান নম্বর থাকতে পারে। তাই শুধু একটি নম্বর লিখে অনুসন্ধান করলেই সব সময় কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কোন ধরনের খতিয়ান প্রয়োজন, জমিটি কোন মৌজায় অবস্থিত এবং কোন জরিপের রেকর্ড খোঁজা হচ্ছে এই বিষয়গুলো আগে পরিষ্কার করে নিলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়।

এই নির্দেশিকায় সরকারি ভূমিসেবা পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট সরকারি উৎসে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি খতিয়ান খোঁজার আগে কোন তথ্যগুলো প্রস্তুত রাখবেন, অনলাইন কপি ও সার্টিফাইড কপির মধ্যে কী পার্থক্য এবং রেকর্ড নির্বাচন করার সময় কোন তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখবেন, সেগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি সেবার নিয়ম, ফি ও অনলাইন ব্যবস্থায় পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদন বা অর্থ পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টালের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করুন।

খতিয়ান বা পর্চা কী?

খতিয়ান হলো ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা এমন একটি রেকর্ড যেখানে নির্দিষ্ট জমি এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডীয় স্বত্বের বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। সাধারণভাবে এতে মালিক বা রেকর্ডীয় ব্যক্তির নাম, জমির দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ পাওয়া যেতে পারে। প্রচলিতভাবে খতিয়ানের অনুলিপিকেই অনেক মানুষ পর্চা নামে চেনেন। তাই অনলাইনে পর্চা বের করা এবং অনলাইনে খতিয়ান খোঁজা বলতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রায় একই ধরনের ভূমি রেকর্ড অনুসন্ধানকে বোঝান।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে খতিয়ানকে এককভাবে জমির চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র দলিল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বাস্তবে কোনো জমি যাচাই করার সময় দলিল, বর্তমান রেকর্ড, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য, দখল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমি কেনার আগে শুধু অনলাইনে পাওয়া একটি খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিগুলোর ধারাবাহিকতা যাচাই করা নিরাপদ পদ্ধতি।

অনলাইনে খতিয়ান বের করতে কী কী তথ্য জানা দরকার?

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধান শুরু করার আগে জমি সম্পর্কে যত বেশি সঠিক তথ্য হাতে থাকবে, কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড খুঁজে পাওয়া তত সহজ হবে। বিশেষ করে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, মৌজার নাম এবং কোন জরিপের খতিয়ান প্রয়োজন তা আগে জেনে রাখা ভালো। আপনার কাছে পুরোনো দলিল, নামজারি খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা আগের কোনো পর্চা থাকলে সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে অনুসন্ধান আরও সহজ হতে পারে। তবে নম্বর না জানলেও মালিকের নাম বা দাগ নম্বরসহ সেবাটিতে উপলব্ধ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সুযোগ থাকলে সেগুলো কাজে লাগানো যেতে পারে। এখানে নামের বানান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো রেকর্ডে একই ব্যক্তির নাম বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রের বানানের সঙ্গে সামান্য আলাদা হতে পারে। তাই প্রথম অনুসন্ধানে ফল না এলে পুরোনো দলিল বা রেকর্ডে ব্যবহৃত নামের বানানও মিলিয়ে দেখা কার্যকর হতে পারে।

সি এস, এস এ, আর এস ও বি এস খতিয়ান কেন আলাদা?

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত ভূমি জরিপের কারণে একই জমির জন্য একাধিক পর্যায়ের রেকর্ড পাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে সি এস, এস এ, আর এস এবং বি এসসহ বিভিন্ন জরিপের নাম প্রচলিত। ফলে একজন ব্যবহারকারী শুধু খতিয়ান নম্বর জানলেও সেটি কোন জরিপের খতিয়ান তা না জানলে ভুল রেকর্ড খুঁজে পেতে পারেন। অনলাইনে অনুসন্ধানের সময় তাই জরিপের ধরন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ধরা যাক, আপনার কাছে পারিবারিকভাবে সংরক্ষিত একটি পুরোনো খতিয়ান নম্বর আছে। সেটি যদি পুরোনো জরিপের রেকর্ড হয়, অথচ আপনি অনলাইনে অন্য একটি জরিপ নির্বাচন করে একই নম্বর খোঁজেন, তাহলে কাঙ্ক্ষিত তথ্য নাও আসতে পারে অথবা অন্য রেকর্ড সামনে আসতে পারে। এ কারণে দলিলে উল্লেখ থাকা খতিয়ান ও দাগ নম্বরের পাশাপাশি জরিপের ধরনটিও দেখে নেওয়া উচিত।

২০২৬ সালে অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাওয়া যায়?

অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের সরকারি ভূমি সেবা পোর্টাল থেকে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবায় প্রবেশ করা উচিত। সেখানে বর্তমানে উপলব্ধ সেবার মাধ্যমে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি রেকর্ড অনুসন্ধান, আবেদন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়। সেবার ঠিকানা বা ইন্টারফেস পরিবর্তিত হতে পারে বলে গুগল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অচেনা লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে সরকারি ভূমি পোর্টাল থেকে প্রয়োজনীয় সেবাটি নির্বাচন করুন।

  • তথ্যসূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই ওয়েবসাইট কোনো সরকারি ভূমি অফিস বা সরকারি সেবা পোর্টাল নয়। এখানে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহারকারীদের সরকারি ভূমিসেবা সম্পর্কে সহজভাবে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আবেদন, ফি পরিশোধ বা গুরুত্বপূর্ণ ভূমি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন।

অনলাইনে খতিয়ানের তথ্য দেখা, অনলাইন কপি সংগ্রহ করা এবং সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করা একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নাও হতে পারে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত প্রকাশনার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ড জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হস্তান্তর করা হয় এবং রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আদালত, সরকারি দপ্তর বা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক কাজে খতিয়ান জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের কপি গ্রহণ করে তা আগে নিশ্চিত করুন।

অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা বের করার নিয়ম ২০২৬

প্রথমে বাংলাদেশের সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়নে প্রবেশ করুন। সেখানে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সম্পর্কিত সেবাটি নির্বাচন করতে হবে। সেবার পাতার বিন্যাস বা বোতামের অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট কোনো পুরোনো লিংক সংরক্ষণ করে সেটির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে মূল সরকারি ভূমি পোর্টাল থেকে সেবাটিতে প্রবেশ করা ভালো। এতে নকল বা বিভ্রান্তিকর ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়ার ঝুঁকিও কমে।

ধাপ ১: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন

খতিয়ান অনুসন্ধানের শুরুতে জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক এলাকা নির্বাচন করতে হবে। এখানে নিজের বর্তমান ঠিকানা নির্বাচন করলে হবে না; যে জমির খতিয়ান খুঁজছেন, সেই জমির অবস্থান অনুযায়ী তথ্য দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, আপনি ঢাকায় বসবাস করলেও জমি যদি রাজশাহীতে হয়, তাহলে অনুসন্ধানে জমির প্রকৃত অবস্থান অনুযায়ী রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট এলাকা নির্বাচন করতে হবে।

ধাপ ২: সঠিক জরিপ নির্বাচন করুন

এরপর উপলব্ধ তালিকা থেকে প্রয়োজনীয় জরিপ নির্বাচন করুন। আপনার দলিল বা পুরোনো রেকর্ডে যদি সি এস, এস এ, আর এস, বি এস বা অন্য কোনো জরিপের উল্লেখ থাকে, সেটি দেখে নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো। জরিপ সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে একই খতিয়ান নম্বর বিভিন্ন জরিপে খোঁজার আগে জমির পুরোনো কাগজপত্র যাচাই করুন। এতে একই নম্বরের ভিন্ন রেকর্ড দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

ধাপ ৩: মৌজা নির্বাচন করুন

জরিপ নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট মৌজা নির্বাচন করতে হবে। ভূমি রেকর্ড অনুসন্ধানে মৌজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই উপজেলা বা থানায় একাধিক মৌজা থাকতে পারে এবং আলাদা মৌজায় একই খতিয়ান বা দাগ নম্বরের মতো সংখ্যা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। দলিলের তফসিল অংশে সাধারণত মৌজার নামসহ জমির পরিচয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। তাই অনলাইনে তথ্য দেওয়ার আগে দলিলের তফসিল সামনে রাখলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

ধাপ ৪: খতিয়ানের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন

প্রয়োজনীয় এলাকা, জরিপ ও মৌজা নির্বাচনের পর খতিয়ান নম্বর বা সেবাটিতে প্রদর্শিত অনুসন্ধানযোগ্য তথ্য ব্যবহার করে রেকর্ড খুঁজুন। ফলাফল পাওয়া গেলে শুধু মালিকের নাম দেখেই সেটিকে নিজের কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান ধরে নেবেন না। খতিয়ান নম্বর, রেকর্ডীয় ব্যক্তির নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মৌজাসহ প্রদর্শিত প্রাসঙ্গিক তথ্য আপনার কাছে থাকা দলিল বা পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এই ছোট যাচাইটি ভুল ব্যক্তির বা ভুল জমির খতিয়ান নির্বাচন করা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে।

অনলাইন খতিয়ান বা পর্চার সরকারি ফি কত?

এই নিবন্ধটি হালনাগাদ করার সময় সরকারি ভূমি সেবা পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকায় অনলাইনে খতিয়ান প্রাপ্তির ফি ১০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। সার্টিফাইড খতিয়ানের আবেদন ফি ১০০ টাকা এবং ডাকযোগে দেশের ভেতরে গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক মাশুলসহ মোট ১৪০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সরকারি তালিকায় খতিয়ান সংশোধনের আবেদন ফি ২০ টাকা দেখানো হয়েছে। এসব ফি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়া বা অর্থ পরিশোধের আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি-ই চূড়ান্ত হিসেবে অনুসরণ করুন।

ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে সিস্টেমে দেখানো সরকারি পরিশোধ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারী অনলাইন খতিয়ান বের করে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অতিরিক্ত অর্থ চাইলে আগে সরকারি ফি যাচাই করুন। ভূমি তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী নাগরিকদের অনলাইনে ভূমিসেবার আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সাধারণ একটি খতিয়ান অনুসন্ধান বা আবেদন করার আগে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

অনলাইনে খতিয়ান পাওয়া না গেলে কী করবেন?

সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও অনেক সময় অনলাইনে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া যায় না। এর অর্থ এই নয় যে জমিটির কোনো রেকর্ড নেই। প্রথমে বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, জরিপের ধরন এবং মৌজা সঠিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে কি না তা আবার যাচাই করুন। বিশেষ করে একই এলাকার জন্য একাধিক জরিপের রেকর্ড থাকলে ভুল জরিপ নির্বাচন করার কারণে অনুসন্ধানে ফলাফল নাও আসতে পারে।

খতিয়ান নম্বর দিয়ে ফলাফল না পেলে সেবাটিতে থাকা অন্যান্য অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধানের সুবিধা থাকলে পুরোনো রেকর্ডে নামটি যেভাবে লেখা আছে সেই বানান ব্যবহার করে চেষ্টা করুন। একইভাবে দাগ নম্বরভিত্তিক অনুসন্ধানের সুবিধা পাওয়া গেলে সেটিও কাজে লাগতে পারে। তবে অনলাইন ব্যবস্থায় কোন কোন অনুসন্ধান পদ্ধতি পাওয়া যাবে তা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও সেবার বর্তমান সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারে।

এরপরও প্রয়োজনীয় রেকর্ড পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা রেকর্ড রুমের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। সরকারি ভূমিসেবা সম্পর্কে সহায়তার জন্য বর্তমানে প্রকাশিত সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম বা হটলাইন ব্যবহার করুন। যোগাযোগের নম্বর বা সেবার তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে বলে প্রয়োজনের সময় সরকারি ভূমি সেবা পোর্টাল থেকে বর্তমান যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা ভালো। গুরুত্বপূর্ণ জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা আইনি প্রয়োজনে শুধু অনলাইন অনুসন্ধানে রেকর্ড না পাওয়ার ভিত্তিতে জমির মালিকানা বা রেকর্ডের অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

খতিয়ান নম্বর না জানলে কীভাবে খুঁজবেন?

খতিয়ান নম্বর না জানা জমির মালিকদের একটি সাধারণ সমস্যা। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হলো নিজের কাছে থাকা জমির দলিল, পুরোনো পর্চা, নামজারি সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ভূমি উন্নয়ন করের নথি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে দলিলের তফসিলে মৌজা, দাগ, খতিয়ান এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এসব তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন অনুসন্ধান শুরু করলে সঠিক রেকর্ড শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হয়।

অনলাইন সেবায় মালিকের নাম, দাগ বা অন্য তথ্য দিয়ে অনুসন্ধানের যে সুবিধা বর্তমানে প্রদর্শিত হয়, সেগুলো ব্যবহার করেও সম্ভাব্য খতিয়ান শনাক্ত করা যেতে পারে। একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন বলে শুধু নামের মিলকে যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। সম্ভাব্য রেকর্ড পাওয়ার পর মৌজা, দাগ, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পুরোনো কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দাগ নম্বর ও খতিয়ান নম্বরের মধ্যে পার্থক্য

অনলাইনে ভূমি রেকর্ড খোঁজার সময় দাগ নম্বর এবং খতিয়ান নম্বরকে একই বিষয় মনে করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, জরিপের সময় একটি নির্দিষ্ট ভূমিখণ্ডকে শনাক্ত করার জন্য যে নম্বর দেওয়া হয় সেটি দাগ নম্বর হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে নির্দিষ্ট রেকর্ডীয় স্বত্বের অধীনে জমির বিবরণ যে রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে সেটি খতিয়ান। একটি খতিয়ানে একাধিক দাগের জমি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আবার বিভিন্ন জরিপে দাগ নম্বর পরিবর্তিত হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

পুরোনো দলিলে থাকা দাগ নম্বর বর্তমান রেকর্ডের নম্বরের সঙ্গে না মিললেই জমিটি আলাদা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন জরিপে দাগ নম্বর বা রেকর্ডের তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে। পুরোনো ও পরবর্তী রেকর্ডের সম্পর্ক বোঝার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দলিল ও মৌজা ম্যাপ মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি যাচাই বা লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর অথবা যোগ্য ভূমি বা আইন পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

অনলাইন কপি ও সার্টিফাইড খতিয়ানের মধ্যে পার্থক্য কী?

অনলাইনে ভূমি রেকর্ড দেখার পর ব্যবহারকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে হবে অনলাইন থেকে তথ্য দেখা বা অনলাইন কপি সংগ্রহ এবং আনুষ্ঠানিক সার্টিফাইড কপি সব ক্ষেত্রে একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় না। নিজের জমির প্রাথমিক তথ্য যাচাই, খতিয়ান শনাক্ত করা বা ব্যক্তিগতভাবে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অনলাইন সেবা অত্যন্ত সুবিধাজনক। কিন্তু কোনো দপ্তর, আদালত বা আনুষ্ঠানিক কাজে খতিয়ানের প্রত্যয়িত অনুলিপি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে হতে পারে।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জরিপের চূড়ান্ত প্রকাশনা শেষ হওয়ার পর রেকর্ড জেলা প্রশাসকের দপ্তরে হস্তান্তর করা হয় এবং জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকে। তাই যে প্রতিষ্ঠানে খতিয়ান জমা দেবেন, সেখানে কোন ধরনের কপি গ্রহণযোগ্য তা আগে জেনে নেওয়া ভালো। এতে প্রয়োজনের সময় ভুল ধরনের কপি সংগ্রহ করে পুনরায় আবেদন করার ঝামেলা কমে।

খতিয়ানে ভুল তথ্য থাকলে কী করবেন?

অনলাইনে খতিয়ান দেখার সময় নামের বানান, জমির পরিমাণ, দাগ বা অন্য কোনো তথ্য আপনার কাগজপত্রের সঙ্গে না মিললে নিজের মতো করে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা যাবে না। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে আপনি সঠিক মৌজা, জরিপ এবং খতিয়ানই দেখছেন কি না। একই নাম বা একই ধরনের নম্বর থাকার কারণে অন্য ব্যক্তির রেকর্ড দেখার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

সঠিক খতিয়ান শনাক্ত করার পরও রেকর্ডে ভুল আছে বলে মনে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংশোধন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এই নিবন্ধটি হালনাগাদের সময় সরকারি ভূমি সেবা পোর্টালের প্রকাশিত তালিকায় খতিয়ান সংশোধনের আবেদন ফি ২০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশোধনের ধরন, প্রয়োজনীয় নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং ফি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত বর্তমান নির্দেশনা ও ফি যাচাই করুন।

জমি কেনার আগে শুধু অনলাইন খতিয়ান যাচাই কি যথেষ্ট?

না, জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অনলাইনে একটি খতিয়ান পাওয়া যথেষ্ট যাচাই নয়। খতিয়ান জমির রেকর্ড যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সম্পূর্ণ যাচাই প্রক্রিয়ার একটি উপাদান মাত্র। জমির বর্তমান মালিকানা ও লেনদেনের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট দলিল, পূর্ববর্তী দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য, দাগ, মৌজা এবং বাস্তব দখলের অবস্থাও প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত।

বিশেষ করে বিক্রেতার নাম কোনো খতিয়ানে পাওয়া গেলেই শুধু সেই তথ্যের ভিত্তিতে তার বর্তমান মালিকানা বা জমি হস্তান্তরের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। খতিয়ান প্রস্তুতের পর উত্তরাধিকার, বিক্রয়, হস্তান্তর, নামজারি বা অন্য পরিবর্তন ঘটে থাকতে পারে। তাই জমি কেনার আগে প্রাসঙ্গিক দলিল ও রেকর্ডের ধারাবাহিকতা সংশ্লিষ্ট সরকারি উৎস থেকে যাচাই করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য আইনজীবী বা ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

অনলাইনে খতিয়ান যাচাইয়ের সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

অনলাইনে খতিয়ান খোঁজার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো কোনো ওয়েবসাইটকে যাচাই না করে সরকারি ভূমি সেবা হিসেবে ধরে না নেওয়া। সার্চ ইঞ্জিন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফলাফলে সরকারি সাইটের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটও দেখা যেতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, আবেদন করা বা অর্থ পরিশোধের আগে ওয়েবসাইটটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কি না যাচাই করুন। সম্ভব হলে সরকারি ভূমি সেবা পোর্টাল থেকেই প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশ করুন।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভুল হলো শুধু খতিয়ান নম্বরের মিল দেখে রেকর্ড নির্বাচন করা। একটি সঠিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে জরিপ, মৌজা, মালিকের তথ্য, দাগ এবং জমির পরিমাণও মিলিয়ে দেখা দরকার। তৃতীয়ত, পুরোনো দলিলের তথ্য এবং বর্তমান রেকর্ডের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য দেখলে সঙ্গে সঙ্গে কোনো পক্ষকে ভুল ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন জরিপ, হস্তান্তর বা নামজারির কারণে রেকর্ডে পরিবর্তন থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথির ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করুন।

নিরাপদে অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবহারের উপায়

অনলাইনে ভূমিসেবা ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তার দিকেও সতর্ক থাকুন। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, যাচাইকরণ কোড, আবেদনসংক্রান্ত গোপন তথ্য বা অর্থ পরিশোধের সংবেদনশীল তথ্য অপরিচিত ব্যক্তি বা অনির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে দেবেন না। কেউ সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে OTP, PIN, পাসওয়ার্ড বা অন্য গোপন তথ্য চাইলে সংশ্লিষ্ট সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আগে পরিচয় ও অনুরোধের সত্যতা যাচাই করুন।

অনলাইনে কোনো আবেদন বা অর্থ পরিশোধ করলে আবেদন নম্বর, রসিদ এবং প্রয়োজনীয় নিশ্চিতকরণ তথ্য সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে রসিদের ডিজিটাল কপির পাশাপাশি আলাদা একটি কপি রাখুন। পরবর্তীতে আবেদনের অবস্থা জানতে বা কোনো সমস্যা সমাধান করতে এসব তথ্য কাজে আসতে পারে।

অনলাইনে খতিয়ান অনুসন্ধানের আগে একটি কার্যকর যাচাই তালিকা

বাস্তবে দ্রুত খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো অনুসন্ধান শুরু করার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় রাখা। জমির দলিল সামনে রেখে প্রথমে জেলা, উপজেলা বা থানা, মৌজা, জরিপের ধরন, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং রেকর্ডীয় মালিকের নাম লিখে নিন। এরপর অনলাইন সেবায় একে একে তথ্য নির্বাচন করুন। ফলাফল আসার পর নিজের লিখে রাখা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বারবার পেছনে গিয়ে দলিল খোঁজা বা ভুল মৌজায় অনুসন্ধান করার ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।

আরেকটি কার্যকর অভ্যাস হলো পুরোনো এবং বর্তমান নথিকে আলাদা করে রাখা। উদাহরণস্বরূপ, পুরোনো জরিপের খতিয়ান ও দাগ এক পাশে এবং পরবর্তী রেকর্ড বা নামজারির তথ্য অন্য পাশে লিখে তুলনা করা যেতে পারে। এতে কোন তথ্য কোন সময়ের রেকর্ড থেকে এসেছে তা বোঝা সহজ হয়। বিশেষ করে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পুরোনো জমির কাগজপত্র যাচাই করার সময় এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. অনলাইনে খতিয়ান বা পর্চা বের করতে কি ভূমি অফিসে যেতে হয়?

প্রাথমিকভাবে খতিয়ান অনুসন্ধান, তথ্য দেখা এবং প্রযোজ্য অনলাইন কপির জন্য আবেদন করতে সাধারণত সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। সরকারি ভূমি সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অনেক কাজ করা যায়। তবে অনলাইনে কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড না পাওয়া, রেকর্ডে অসঙ্গতি থাকা, সার্টিফাইড কপি প্রয়োজন হওয়া বা জটিল মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করতে হতে পারে। তাই অনলাইন সেবা অনেক কাজ সহজ করলেও সব পরিস্থিতিতে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গেছে, এমনটি বলা ঠিক হবে না।

২. মোবাইল দিয়ে অনলাইনে খতিয়ান বের করা যায় কি?

হ্যাঁ, স্মার্টফোনের ব্রাউজার ব্যবহার করে সরকারি ভূমি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে খতিয়ান অনুসন্ধান করা যায়, যদি সংশ্লিষ্ট সেবাটি মোবাইল ব্রাউজারে সঠিকভাবে চালু থাকে। মোবাইলে কাজ করার সময় স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ এবং আপডেট করা ব্রাউজার ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া দলিলের তথ্য আগে লিখে রাখলে ছোট পর্দায় বারবার অন্য নথি খুলে তথ্য মিলানোর ঝামেলা কমে যায়।

৩. খতিয়ান নম্বর না জানলে কি অনলাইনে পর্চা খুঁজে পাওয়া সম্ভব?

খতিয়ান নম্বর না জানা মানেই যে অনলাইনে কোনোভাবে রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যাবে না, তা নয়। আপনার কাছে যদি মৌজা, জরিপ, মালিকের নাম, দাগ নম্বর বা পুরোনো দলিলের অন্য তথ্য থাকে, সেগুলো থেকে সম্ভাব্য খতিয়ান শনাক্ত করার চেষ্টা করা যায়। তবে কোন অনুসন্ধান পদ্ধতি পাওয়া যাবে তা বর্তমান সরকারি সেবার সুবিধার ওপর নির্ভর করে। একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন বলে সম্ভাব্য রেকর্ড পাওয়ার পর দাগ, জমির পরিমাণ এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখা জরুরি।

৪. অনলাইনে পাওয়া খতিয়ান কি জমির মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ?

না। অনলাইনে পাওয়া একটি খতিয়ানকে এককভাবে জমির বর্তমান মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রেকর্ড হলেও জমি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য, উত্তরাধিকার বা হস্তান্তরের নথি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য রেকর্ডও বিবেচনা করতে হয়। জমি কেনাবেচার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য আইন পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

৫. সি এস, এস এ, আর এস ও বি এস খতিয়ানের মধ্যে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

একটি জরিপের খতিয়ানকে সব পরিস্থিতিতে অন্য সব জরিপের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় না। প্রতিটি জরিপ ভিন্ন সময়ের ভূমি রেকর্ডের অবস্থা তুলে ধরে। পুরোনো মালিকানার ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য সি এস বা এস এ রেকর্ড কাজে লাগতে পারে, আবার পরবর্তী সময়ের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য আর এস বা বি এস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কোনো জমি যাচাইয়ের সময় সম্ভব হলে পুরোনো ও পরবর্তী রেকর্ডের ধারাবাহিকতা মিলিয়ে দেখা ভালো। এতে মালিকানা বা দাগের পরিবর্তন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

৬. অনলাইনে খতিয়ান খুঁজে না পাওয়ার প্রধান কারণ কী?

অনলাইনে খতিয়ান না পাওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। ভুল মৌজা নির্বাচন, ভুল জরিপ নির্বাচন, খতিয়ান নম্বরের ভুল লেখা, মালিকের নামের বানান ভিন্ন হওয়া বা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনলাইন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিতভাবে না পাওয়া তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। প্রথমে নিজের দেওয়া তথ্য আবার যাচাই করা উচিত। পুরোনো দলিলের তফসিল থেকে মৌজা, দাগ ও জরিপের তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় চেষ্টা করুন। তবুও রেকর্ড না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহায়তা নেওয়া যুক্তিসঙ্গত।

৭. অনলাইন কপি এবং সার্টিফাইড কপির মধ্যে কোনটি ব্যবহার করব?

কোন কপি প্রয়োজন হবে তা আপনার কাজের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। নিজের জমির তথ্য দেখা, প্রাথমিক যাচাই বা ব্যক্তিগত রেফারেন্সের জন্য অনলাইন কপি অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু আদালত, সরকারি দপ্তর, আনুষ্ঠানিক যাচাই বা এমন কোনো কাজে যেখানে প্রত্যয়িত নথি চাওয়া হয়, সেখানে সার্টিফাইড কপি প্রয়োজন হতে পারে। তাই কপি সংগ্রহের আগে যে প্রতিষ্ঠানে জমা দেবেন, তারা কোন ধরনের কপি গ্রহণ করবে তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে ভালো।

৮. খতিয়ানে নামের বানান ভুল থাকলে অনলাইনে ঠিক করা যায় কি?

খতিয়ানে নামের বানান ভুল দেখা গেলে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে সেটি সত্যিই রেকর্ডের ভুল কি না। অনেক পুরোনো রেকর্ডে নামের বানান বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র বা আধুনিক দলিলের বানানের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে। সঠিক খতিয়ান নিশ্চিত হওয়ার পর সংশোধনের প্রয়োজন হলে সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়। প্রয়োজনীয় নথি, প্রমাণ এবং আবেদন পদ্ধতি ভুলের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু অনলাইনে দেখা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অনুমান না করে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

৯. অনলাইনে খতিয়ান বের করার সময় প্রতারণা থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকব?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সেবা গ্রহণ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অপরিচিত ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংক ব্যবহার করার আগে ঠিকানাটি সরকারি কি না যাচাই করুন। কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আপনার গোপন কোড, অর্থ পরিশোধের তথ্য বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চাইলে তা সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া উচিত নয়। আবেদন করার পর সরকারি রসিদ, আবেদন নম্বর এবং নিশ্চিতকরণ তথ্য সংরক্ষণ করুন। সন্দেহ হলে সরকারি হটলাইন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন।

১০. জমি কেনার আগে অনলাইন খতিয়ান কীভাবে কাজে লাগাব?

অনলাইন খতিয়ানকে জমি কেনার আগের প্রাথমিক রেকর্ড যাচাইয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করুন। বিক্রেতার দেওয়া মৌজা, খতিয়ান, দাগ, রেকর্ডীয় নাম ও জমির পরিমাণ মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে শুধু এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য নথিও যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা যোগ্য আইন পেশাজীবীর সহায়তা নিন।

শেষ কথা

অনলাইন ভূমিসেবার মাধ্যমে খতিয়ান বা পর্চা অনুসন্ধানের অনেক কাজ এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব। সঠিক মৌজা, জরিপ, খতিয়ান নম্বর, দাগ বা সংশ্লিষ্ট তথ্য জানা থাকলে কাঙ্ক্ষিত রেকর্ড শনাক্ত করা সহজ হয়। তবে অনলাইনে কোনো রেকর্ড পাওয়া গেলেই সেটিকে যাচাই ছাড়া বর্তমান মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা আইনগত প্রয়োজনে প্রাসঙ্গিক দলিল ও সরকারি রেকর্ড মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

অনলাইনে ভূমিসেবা নেওয়ার সময় সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করুন এবং আবেদন, ফি ও প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে সেখানে প্রকাশিত বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করুন। কোনো তথ্য না মিললে বা জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সহায়তা নিন। এতে ভুল রেকর্ড নির্বাচন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *