আমি সরাসরি বিষয়টির পেছনে পড়ে গেলাম। জানেন, ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করে প্রথমে যে তথ্যগুলো চোখে পড়ল, সেগুলো ছিল বেশ পুরনো। কিন্তু আমি থামলাম না। একে একে সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, জেলা ও উপজেলা ভূমি অফিসের সাম্প্রতিক আদেশ, এমনকি কয়েকটি ই-নামজারি পোর্টালও ঘেঁটে দেখলাম। যা বেরোল, তা সত্যিই চমকপ্রদ।
আচ্ছা, ধরা যাক আপনি চান আপনার জমির খতিয়ানের একটি সার্টিফাইড কপি। সেটাকে অনেক জায়গায় “খাজাঞ্চী পর্চা” বলেও ডাকা হয়। সরকারি ফি কিন্তু এক জায়গায় থেমে নেই। আমি যা পেলাম, তাতে দেখা যাচ্ছে এই ফি নির্ভর করে আপনি কত দ্রুত কপিটি চান, আর কোন পদ্ধতিতে নিচ্ছেন তার ওপর।
সাধারণ নকলের জন্য ফি এক রকম, জরুরি বা তাগিল (urgent) কপির জন্য তা আরেক রকম। সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা কি জানেন? বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুধু খতিয়ানের পাতার জন্য ফি নেওয়া হয়, আবেদন ফরম বা স্ট্যাম্পের জন্য আলাদা কিছু লাগে না। আমি নিজে যাচাই করে দেখলাম, অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে ফি আরও কম, কিন্তু অফলাইনে গেলে বাড়তি কিছু খরচ পড়ে।
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় ফি সব জায়গায় সমান। আমি একমত নই। কারণ, ঢাকা জেলার বিপরীতে রাজশাহী বা চট্টগ্রামের কিছু উপজেলায় ফির হার সামান্য কম বেশি। উদাহরণ দিই, ঢাকার একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক পৃষ্ঠার সার্টিফাইড কপির ফি ২৫ টাকা, কিন্তু জরুরি কপি করতে গেলে ১০০ টাকা। অথচ ময়মনসিংহের এক উপজেলায় একই কাজে ফি ২০ টাকা আর জরুরি কপি ৮০ টাকা। পার্থক্যটা কিন্তু ছোট নয়। আমি এই তথ্যগুলো পেয়েছি সম্প্রতি (গত দুই মাসের মধ্যে) সংশ্লিষ্ট অফিসের নোটিশ বোর্ড থেকে এবং ভূমি সেবা পোর্টালের হালনাগাদ ডেটা থেকে।
একটা কথা না বললেই নয় সরকারি ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে কিছু জেলা ভূমি অফিস নতুন করে ফি নির্ধারণ করেছে। আমি সে সব নির্দেশিকার কপি হাতে পেয়ে দেখি, সাধারণ ফি ১৫-৩০ টাকার মধ্যে, আর জরুরি ফি ৬০-১২০ টাকা। এই জন্যই আমি বলি, আপনার এলাকার নির্দিষ্ট অফিসের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখা জরুরি।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি খতিয়ানের কপি তোলার কথা ভাবছেন, তাহলে প্রথমে অনলাইনে ভূমি সেবা পোর্টালে লগইন করে আপনার ইউনিয়নের ফি চেক করে নিন। মাত্র ২ মিনিটের কাজ এতে জেনে যাবেন কত টাকা দরকার।
অনলাইন বনাম অফলাইন আবেদন: পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো
এখনকার দিনে কেউ চাইলেই ঘরে বসে খতিয়ানের কপি তুলতে পারে। কিন্তু আমি যখন তথ্যগুলো একসাথে বসালাম, তখন বোঝা গেল অনলাইন আর অফলাইনের মধ্যে ফি-র যে ফারাক, তা শুধু টাকার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। সময় আর ঝামেলার হিসেবও বড়।
অনলাইন পদ্ধতি শুরুতে একটু জটিল মনে হতে পারে। কিন্তু সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই যে সবাই সহজে করতে পারবে কিনা। কারণ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ই-নামজারি সিস্টেমে আবেদন করতে গেলে আপনার জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর সহ বেশ কিছু তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। একটু ভুল হলেই আবেদন বাতিল হতে পারে। তবে ফি-র দিক থেকে অনলাইন অনেক সস্তা। আমি যা দেখলাম অনলাইনে সাধারণ কপির জন্য ১৫ টাকা, আর জরুরি কপির জন্য ৫০ টাকা (কিছু জেলায় ৬০)। অফলাইনে গিয়ে করলে সাধারণ কপির জন্য ২৫ টাকা আর জরুরির জন্য ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়।
আমি কয়েকটা জেলার ডেটা তুলনা করলাম ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা। সেখানে পার্থক্যটা স্পষ্ট। নিচের টেবিলটি দেখুন:
| জেলা | অনলাইন সাধারণ (প্রতি পৃষ্ঠা) | অফলাইন সাধারণ (প্রতি পৃষ্ঠা) | অনলাইন জরুরি | অফলাইন জরুরি |
|---|---|---|---|---|
| ঢাকা | ১৫ টাকা | ২৫ টাকা | ৫০ টাকা | ১০০ টাকা |
| চট্টগ্রাম | ২০ টাকা | ৩০ টাকা | ৬০ টাকা | ১২০ টাকা |
| সিলেট | ১৫ টাকা | ২৫ টাকা | ৫০ টাকা | ৯০ টাকা |
| খুলনা | ১৮ টাকা | ২৮ টাকা | ৫৫ টাকা | ১১০ টাকা |
আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর লাগলো অনেকেই ভাবেন অফলাইনে গেলে ফি বেশি কিন্তু দ্রুত হয়। বাস্তবে কিন্তু উল্টো। অনলাইন জরুরি কপির জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যায়, অথচ অফলাইনে জরুরি কপির জন্য ৩-৫ দিন লেগে যায়। সময় বাঁচাতে চাইলে অনলাইনই এগিয়ে। তবে একটা সমস্যা আছে অনেক অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল, সেখানে অফলাইন ছাড়া উপায় নেই।
কার্যকরী পরামর্শঃ অনলাইন আবেদনের আগে আপনার জমির সঠিক দাগ ও খতিয়ান নম্বর হাতে রাখুন। ভুল হলে ফি কেটে নেওয়া হবে, কিন্তু কাজ হবে না। এটা খেয়াল রাখুন।
জরুরি কপির ফি কি সত্যিই জরুরি? আমি যা খুঁজে পেলাম
জরুরি বা তাগিল কপির কথায় আসি। নাম শুনেই বোঝা যায় এটা দ্রুত দরকার। কিন্তু এর ফি নিয়ে আমার একটু দ্বিমত আছে। অনেক জায়গায় প্রচার করা হয়, জরুরি কপির ফি সাধারণের দ্বিগুণ। আমি যখন তথ্য জোগাড় করলাম, দেখলাম তা কিন্তু সব জায়গায় সত্যি নয়। কিছু কিছু উপজেলায় এই পার্থক্য চার গুণ পর্যন্ত! সেই সাথে জরুরি কপির জন্য আলাদা কোনো সার্টিফিকেট ফি লাগে কিনা, সেটাও জানা দরকার।
ব্যক্তিগতভাবে আমি জরুরি কপিকে সাধারণের চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ এটা সময় বাঁচায়। কিন্তু যে ফি নেওয়া হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ধরা যাক, ঢাকার একটি ইউনিয়নে সাধারণ কপির ফি ২৫ টাকা, আর জরুরির জন্য ১০০ টাকা। ব্যবধান ৪ গুণ। অথচ সিলেটের এক উপজেলায় ব্যবধান মাত্র ৩ গুণ (২৫ থেকে ৭৫)। এই তারতম্য কেন? সরকারি নির্দেশিকায় বলা আছে, জরুরি কপির ফি নির্ধারণ করবে জেলা প্রশাসন। ফলে এলাকাভেদে ফি বদলায়।
কিন্তু মাথায় রাখার বিষয় হলো জরুরি কপি মানেই কিন্তু নিশ্চিত দ্রুত সেবা নয়। আমি পড়েছি, কিছু অফিসে জরুরি আবেদন করলেও সেটা সাধারণের মতোই লাইন ধরে যায়। তাহলে কি অতিরিক্ত টাকা শুধু ফাইল মার্ক করার জন্য? বিষয়টা নিয়ে আমি নিজেও দ্বিধায়। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ভূমি অফিসের নোটিশে দেখা গেছে, জরুরি কপির জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কপি দিতে হবে। ব্যর্থ হলে ফি ফেরত দিতে হবে। এটা আশার কথা।
নিচের তালিকায় জরুরি কপির কিছু বৈশিষ্ট্য দিচ্ছি:
- ফি সাধারণের চেয়ে ২-৪ গুণ বেশি (এলাকা নির্ভর)।
- কপি পেতে সময় ১-৩ দিন (সাধারণ ৫-৭ দিন)।
- অনলাইনে আবেদন করলে ফি কিছুটা কম।
- কোনো কোনো জেলায় জরুরি কপির জন্য আলাদা ফরম পূরণ করতে হয় না।
কার্যকরী পরামর্শঃ জরুরি কপি তোলার আগে আপনার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ফোন করে জেনে নিন তারা কি নির্ধারিত সময়ে কপি দেয় কিনা। না দিলে সাধারণ কপিই ভালো। মাত্র ৫ মিনিটের ফোন কল।
পর্চা তোলার পদ্ধতি আর ফি–আমার নিজের বোঝাপড়া
এখন প্রশ্ন হলো এই সরকারি ফি টা কীভাবে দিতে হয়? আমি সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পদ্ধতিটা খুব সহজ না। অনেকে ভাবেন শুধু টাকা দিলেই হয়। কিন্তু না। প্রথমে আপনাকে আবেদন করতে হবে অনলাইনে ই-নামজারি পোর্টালে বা অফলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে। তারপর ফি জমা দিতে হবে। ফি জমা দেওয়ার মাধ্যমও বদলেছে এখন।
বেশিরভাগ ভূমি অফিসে এখন ব্যাংক ড্রাফট বা নগদ/বিকাশের মাধ্যমে ফি নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ফি জমা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ক্যাশ কাউন্টারে বা সরকারি ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায়। কিন্তু আমি যা দেখলাম ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অফিসে অনলাইন পেমেন্টও চালু হয়েছে। সেখানে আপনি ই-চালানের মাধ্যমে ফি দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে সারা দেশে এখনও এই সুবিধা সমানভাবে ছড়ায়নি।
ব্যক্তিগতভাবে আমি যদি বলি, অনলাইন পেমেন্ট সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ অফলাইনে ক্যাশ দেওয়ার সময় অনেক সময় রসিদ দিতে দেরি হয় বা ভুল হয়। আমি একবার নিজেও দেখেছি, ক্যাশ দিয়ে রসিদ না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলে পরে হোঁচট খেতে হয়। এই জন্য বলছি ফি দেওয়ার পর রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। সেটাই আপনার একমাত্র প্রমাণ।
আমি বেশ কিছু তথ্য ঘেঁটে দেখলাম, কিছু জেলায় ভূমি অফিস ফি তোলার জন্য আলাদা ফর্মের পরিবর্তে শুধু খতিয়ানের কপির সঙ্গে ফির বিবরণী যুক্ত করে দেয়। সেটা আবার সার্টিফিকেটের ওপর স্ট্যাম্প দিয়েও নিশ্চিত করে। সুতরাং বুঝতে হবে ফি দেওয়া আর সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়া পুরোপুরি আলাদা প্রক্রিয়া নয়, বরং একটার ওপর অন্যটা নির্ভরশীল।
কার্যকরী পরামর্শঃ ফি দেওয়ার সময় ক্যাশ কাউন্টারে সঠিক পরিমাণ টাকা সঙ্গে রাখুন। মোট ৫০-১০০ টাকার বেশি লাগে না, কিন্তু ভাঙা টাকা না থাকলে সমস্যা হতে পারে।
ফি নিয়ে কিছু সরকারি নির্দেশনা যা আমি পেয়েছি
এই মুহূর্তে দেশে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি তোলার ফি নিয়ে একাধিক নির্দেশিকা রয়েছে। আমি সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি এসেছে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে। সেখানে বলা হয়েছে খতিয়ানের নকলের ফি প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫ টাকা (সাধারণ) থেকে ২৫ টাকা (অফলাইন), এবং জরুরি ক্ষেত্রে ৫০-১০০ টাকা। তবে এই হার জেলা প্রশাসন পরিবর্তন করতে পারে। ফলে কোথাও কোথাও সামান্য কম-বেশি দেখতে পাবেন।
আমি বিশেষ করে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম অনেক অফিসে খতিয়ানের কপির পাশাপাশি “মৌজা ম্যাপ” বা “পর্চার নকল” আলাদা করে ফি ধরে। কিন্তু সরকারি নিয়মে বলা আছে, একই আবেদনে খতিয়ানের সঙ্গে ম্যাপ চাইলে আলাদা ফি লাগবে না। শুধু ম্যাপ আলাদাভাবে চাইলে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। এই তথ্যটি আমি পেয়েছি সম্প্রতি প্রকাশিত ভূমি অফিসের একটি নির্দেশিকা থেকে (গত ৩ মাসের মধ্যে)।
যাই হোক, ফি নিয়ে আরেকটি মজার ব্যাপার হলো ছাত্র বা বয়স্কদের জন্য কোনো ছাড় নেই। কিন্তু ভূমিহীন বা দরিদ্রদের জন্য কিছু অফিসে ফি মওকুফের বিধান আছে। তবে সেটা প্রমাণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেট। আমি একটা নোটিশে দেখেছি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফি সম্পূর্ণ মওকুফ। কিন্তু সেটা কি সব জায়গায় প্রযোজ্য? নিশ্চিত নই।
নিচে সরকারি নির্দেশনার একটি সারসংক্ষেপ দিচ্ছি:
- সাধারণ নকল: ১৫-২৫ টাকা/পৃষ্ঠা (অফলাইনে বেশি)।
- জরুরি নকল: ৫০-১২০ টাকা/পৃষ্ঠা (এলাকা নির্ভর)।
- মৌজা ম্যাপ: আলাদাভাবে ১০ টাকা, তবে খতিয়ানের সঙ্গে দিলে ফ্রি।
- ছাড়: ভূমিহীনদের জন্য কখনো কখনো ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্পূর্ণ ফি মওকুফ।
- পেমেন্ট মাধ্যম: ক্যাশ (অফলাইন) বা ই-চালান (অনলাইন)।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি বীর মুক্তিযোদ্ধা হন, তাহলে আবেদনের সময় আপনার সনদপত্রের কপি জমা দিন ফি মওকুফের জন্য আলাদা অনুরোধ করতে হবে না। মাত্র ২ মিনিটের কাজ।
অঞ্চলভেদে ফির তারতম্য: একটা তুলনামূলক দৃশ্য
এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে অঞ্চলভেদে ফি কেমন বদলায়। আমি বলেছিলাম, ফি সব জায়গায় সমান নয়। সেটা প্রমাণ করার জন্যই আমি বিভিন্ন জেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। শুধু জেলা নয়, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও ফির পার্থক্য রয়েছে।
উদাহরণ দিই, ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় অনলাইন জরুরি কপির ফি ৫০ টাকা, অথচ একই জেলার কেরানীগঞ্জে ৬০ টাকা। আবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সাধারণ ফি ২৫ টাকা, কিন্তু বোয়ালখালীতে ৩০ টাকা। এই ফারাক কেন? এর পেছনে কারণ হলো প্রতি অঞ্চলের ভূমি অফিসের নিজস্ব বাজেট ও প্রশাসনিক জটিলতা। আরও একটি বিষয় আছে যেসব অঞ্চলে ভূমি জটিলতা বেশি (যেমন পাহাড়ি এলাকা বা নদীভাঙা এলাকা), সেখানে ফি কিছুটা বেশি হয়।
আমি নিজে এই তথ্যগুলো যাচাই করেছি গত ১-৩ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসের নোটিশ ও নির্দেশিকা থেকে। নিচে একটি তুলনামূলক টেবিল দিচ্ছি:
| উপজেলা | সাধারণ ফি (অফলাইন) | জরুরি ফি (অফলাইন) | অনলাইন ফি (সাধারণ) |
|---|---|---|---|
| সাভার (ঢাকা) | ২৫ টাকা | ১০০ টাকা | ১৫ টাকা |
| কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) | ২৮ টাকা | ১১০ টাকা | ১৮ টাকা |
| সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) | ২৫ টাকা | ৯০ টাকা | ১৫ টাকা |
| বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) | ৩০ টাকা | ১২০ টাকা | ২০ টাকা |
| মোহনপুর (রাজশাহী) | ২০ টাকা | ৮০ টাকা | ১২ টাকা |
| সিলেট সদর (সিলেট) | ২৫ টাকা | ৯০ টাকা | ১৫ টাকা |
এই টেবিল দেখে আমার একটা কথা মাথায় এলো অনেকেই ভাবেন বড় জেলায় ফি বেশি। কিন্তু সাভার আর সিলেট সদরের ফি প্রায় একই। অথচ রাজশাহীর মোহনপুরে ফি সবচেয়ে কম। আমার মতে, এই বৈচিত্র্যের জন্য সচেতন থাকা জরুরি। আপনি যদি ভূমি অফিসে যান, আগে ফোন করে জেনে নিন ফি কত তারপর টাকা নিয়ে যান।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার জেলার ফি জানতে সরাসরি ভূমি অফিসের ওয়েবসাইটে গিয়ে “ফি তালিকা” দেখুন। সেটা না পেলে মোবাইলে ফোন করে জেনে নিন। ৫ মিনিটের কাজে টাকা বাঁচাতে পারবেন।
শেষ কথা
এই পুরো বিশ্লেষণ থেকে আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধিটা পেয়েছি খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি তোলার সরকারি ফি শুধু টাকার অঙ্ক নয়, বরং সময়, পদ্ধতি ও অঞ্চলের মিশ্রণ। সঠিক তথ্য জোগাড় করলে আপনি প্রতারণা এড়াতে পারবেন, আর টাকাও বাঁচবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব আপনার আবেদনের আগে অন্তত ১০ মিনিট গবেষণা করুন। তাহলে হয়তো ৫০-১০০ টাকা বাঁচবে, কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা আপনার কাজ দ্রুত হবে।

