জমির কাগজপত্রে ‘একসনা বন্দোবস্ত’ কিংবা ‘স্থায়ী বন্দোবস্ত’ লেখা থাকলে অনেকেই ধরে নেন, দুটি একই ধরনের জমির অধিকার। বাস্তবে এদের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। একসনা বন্দোবস্তে সাধারণত নির্দিষ্ট এক বছরের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে স্থায়ী বন্দোবস্তে প্রযোজ্য নীতিমালা ও দলিলের শর্ত অনুসারে দীর্ঘস্থায়ী স্বত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশে সরকারি খাসজমি, কৃষিজমি ও হাটবাজারের জমির জন্য আলাদা বিধান রয়েছে। কোনো জমি একসনা ভিত্তিতে ব্যবহার করা গেলেও সেটি স্থায়ীভাবে পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার স্থায়ী বন্দোবস্ত মানেই ইচ্ছামতো জমি বিক্রি বা অন্য কাজে ব্যবহার করার অবাধ অধিকার নয়।
একসনা বন্দোবস্ত কী?
একসনা বন্দোবস্ত হলো নির্ধারিত শর্তে সাধারণত এক বছরের জন্য সরকারি জমি ব্যবহার বা ভোগদখলের অনুমতি। এটি অনেক ক্ষেত্রে বার্ষিক ইজারা হিসেবেও পরিচিত। চুক্তির মেয়াদ, নির্ধারিত অর্থ, জমির ব্যবহার এবং নবায়নের সুযোগ জমির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। কেবল একসনা বন্দোবস্ত পাওয়ার কারণে জমির স্থায়ী মালিকানা সৃষ্টি হয় না।
উদাহরণ হিসেবে হাটবাজারের চান্দিনা ভিটির কথা বলা যায়। এখানে প্রকৃত ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা অস্থায়ী দোকানের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। আবার কিছু কৃষি খাসজমিও এক বছরের জন্য চাষাবাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
স্থায়ী বন্দোবস্ত কী?
স্থায়ী বন্দোবস্ত বলতে এখানে সরকারি খাসজমির এমন অনুমোদিত বন্দোবস্ত বোঝানো হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রাপক নির্দিষ্ট শর্তে দীর্ঘস্থায়ী ভূমিস্বত্ব লাভ করেন। ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে কৃষি খাসজমি বিতরণের নীতিতে এ ধরনের বন্দোবস্তের ব্যবস্থা রয়েছে। অনুমোদনের পর কবুলিয়ত সম্পাদন, নিবন্ধন, খতিয়ান প্রস্তুত ও জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তবে ‘স্থায়ী’ শব্দটি শর্তহীন অধিকার বোঝায় না। কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত জমি উত্তরাধিকার ছাড়া অন্যভাবে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শর্ত লঙ্ঘন করলে বন্দোবস্ত বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ফলে স্থায়ী বন্দোবস্তের জমিকে সাধারণ ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে পুরোপুরি এক করে দেখা উচিত নয়।
আরও পড়ুনঃ জমির নকশা ও দাগসূচি বোঝার সহজ উপায়
একসনা বন্দোবস্ত ও স্থায়ী বন্দোবস্তের মূল পার্থক্য
সহজ তুলনার জন্য নিচের ছকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখানো হলো। তবে নির্দিষ্ট জমির ক্ষেত্রে সর্বশেষ আইন, বন্দোবস্তের আদেশ ও কবুলিয়তের শর্তই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য।
| বিষয় | একসনা বন্দোবস্ত | স্থায়ী বন্দোবস্ত |
|---|---|---|
| মেয়াদ | সাধারণত এক বছর | প্রযোজ্য শর্তে দীর্ঘস্থায়ী |
| অধিকারের ধরন | সীমিত সময়ের ব্যবহার বা ইজারাস্বত্ব | অনুমোদিত স্থায়ী ভূমিস্বত্ব |
| মালিকানা | ইজারার কারণে মালিকানা হয় না | দলিল ও নীতির শর্তে স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় |
| নবায়ন | জমির ধরন ও বিধি অনুযায়ী | সাধারণ বার্ষিক ইজারার মতো নয় |
| ব্যবহার | অনুমোদিত সাময়িক কাজ | নির্ধারিত স্থায়ী উদ্দেশ্য |
| হস্তান্তর | সাধারণত অনুমতি ছাড়া করা যায় না | বিশেষত কৃষি খাসজমিতে কঠোর সীমাবদ্ধতা |
| প্রধান কাগজ | ইজারা আদেশ, রসিদ ও প্রযোজ্য চুক্তি | অনুমোদন, নিবন্ধিত কবুলিয়ত ও খতিয়ান |
হাটবাজারের জমিতে একসনা বন্দোবস্তের বর্তমান নিয়ম
হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩-এর ৬ ধারায় হাটবাজারের কোনো জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে জেলা প্রশাসক নির্ধারিত পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ০.০০৫ একর, অর্থাৎ অর্ধ শতক চান্দিনা ভিটি একসনা ভিত্তিতে দিতে পারেন। বিধানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দোকান দীর্ঘদিন চালালেও শুধু সেই কারণে ব্যবসায়ী জমির স্থায়ী মালিক হন না।
হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী হাটবাজারের বার্ষিক ইজারার সময়কাল বাংলা বছরের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত। তবে চান্দিনা ভিটির ক্ষেত্রে অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত মেয়াদ, ব্যবহার ও নবায়নের শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে বিধিমালার ১৮(১)(১৭) উপবিধিতে নির্ধারিত হার ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ থেকে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। তাই অর্থ পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে বর্তমান হার নিশ্চিত করা উচিত।
কৃষি খাসজমির স্থায়ী বন্দোবস্ত কারা পেতে পারেন?
কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা, ১৯৯৭ মূলত যোগ্য ভূমিহীন কৃষিনির্ভর পরিবারের জন্য প্রণীত। সাধারণভাবে যাদের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নেই, অথবা নীতিতে নির্ধারিত সীমিত বসতভিটা থাকলেও চাষযোগ্য জমি নেই, তাদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়। আবেদনকারীর পারিবারিক অবস্থা, প্রকৃত ভূমিহীনতা এবং জমির প্রাপ্যতা বিবেচিত হয়।
২০২২ সালের সংশোধনী অনুযায়ী জমির প্রাপ্যতাসাপেক্ষে সমতল এলাকায় পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ ০.৩৩ একর এবং নির্ধারিত উপকূলীয় চরাঞ্চলে সর্বোচ্চ ০.৫০ একর কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের বিধান রয়েছে। এগুলো সর্বোচ্চ সীমা, প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এত জমি পাবেন এমন নয়। উপযুক্ত জমি ও প্রশাসনিক অনুমোদন থাকা আবশ্যক।
বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন কোথায় এবং কীভাবে করবেন?
কৃষি খাসজমির স্থায়ী বন্দোবস্তের জন্য সাধারণত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়। ভূমিহীনতার সনদ, পরিচয়পত্র, ছবি এবং স্থানীয় দপ্তর চাওয়া অন্যান্য কাগজ সঙ্গে রাখতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কমিটি আবেদনকারীর যোগ্যতা, জমির শ্রেণি, দখল ও সরকারি নথি যাচাই করে প্রস্তাব পরবর্তী অনুমোদনের জন্য পাঠায়।
একসনা বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে আগে নিশ্চিত হতে হবে জমিটি কৃষি খাসজমি, হাটবাজারের চান্দিনা ভিটি নাকি অন্য শ্রেণির সরকারি সম্পত্তি। দোকানের জায়গা হলে ব্যবসার প্রমাণ ও প্রযোজ্য অনুমতিপত্র লাগতে পারে। আবেদন গ্রহণের রসিদ সংগ্রহ, জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে নেওয়া এবং অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত স্থায়ী নির্মাণ থেকে বিরত থাকা নিরাপদ পদক্ষেপ।
কোন কাগজে আসল অধিকার বোঝা যায়?
স্থায়ী বন্দোবস্ত যাচাইয়ে অনুমোদন আদেশ, নিবন্ধিত কবুলিয়ত, সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দখল হস্তান্তরের কাগজ মিলিয়ে দেখা জরুরি। জমির শ্রেণি বা দাগ নম্বর বদলেছে কি না, নিষেধাজ্ঞা আছে কি না এবং নথিতে কোনো বাতিল আদেশ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা উচিত। সন্দেহ থাকলে লিখিতভাবে ভূমি অফিসের কাছে নথি যাচাইয়ের আবেদন করা যায়।
নবায়ন, উত্তরাধিকার ও জমি বিক্রির ক্ষেত্রে সতর্কতা
একসনা বন্দোবস্তের মেয়াদ শেষ হলে আগের বছরের রসিদ দেখিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমি ব্যবহারের অধিকার দাবি করা যায় না। হাটবাজারের চান্দিনা ভিটির ক্ষেত্রে নবায়নের ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রযোজ্য নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। অন্য শ্রেণির সরকারি জমির ক্ষেত্রে নবায়নের নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে নবায়নের শর্ত যাচাই করা উচিত।
দুটি বাস্তবধর্মী উদাহরণে পার্থক্য বুঝুন
ধরা যাক, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সরকারি হাটে অনুমোদিত চান্দিনা ভিটি এক বছরের জন্য পেলেন। তিনি নির্ধারিত শর্তে সেখানে দোকান চালাতে পারবেন। কিন্তু দোকানের ভিটি নিজের নামে বিক্রি করতে কিংবা অনুমতি ছাড়া পাকা ভবন তুলতে পারবেন না। মেয়াদ শেষে নতুন অনুমতি বা বৈধ নবায়নের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
অন্যদিকে একটি যোগ্য ভূমিহীন কৃষক পরিবার সরকারি কৃষি খাসজমির স্থায়ী বন্দোবস্ত পেল। অনুমোদন, নিবন্ধিত কবুলিয়ত ও খতিয়ানের মাধ্যমে পরিবারের অধিকার নথিভুক্ত হলো। তারা নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী জমি ব্যবহার করবে এবং উত্তরাধিকার সম্পর্কিত বিধান মানবে।
ঐতিহাসিক চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সঙ্গে বিভ্রান্তি কেন হয়?
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল ব্রিটিশ শাসনামলের ভূমি রাজস্ব ও জমিদারি সম্পর্কিত ব্যবস্থা। বর্তমান বাংলাদেশের সরকারি খাসজমির স্থায়ী বন্দোবস্ত সেই ঐতিহাসিক ব্যবস্থার সমার্থক নয়। বর্তমানে খাসজমি বন্দোবস্তের অধিকার ও শর্ত নির্ধারিত হয় প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্তের দলিল অনুযায়ী।
বন্দোবস্তের কাগজ যাচাইয়ের আগে যে কাজগুলো করবেন
প্রথমে জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানে আছে কি না এবং কোন দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে, তা নিশ্চিত করুন। এরপর দাগ, মৌজা, জমির পরিমাণ, বন্দোবস্তের মেয়াদ ও অনুমোদিত ব্যবহার একসঙ্গে মিলিয়ে নিন। সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে নবায়ন বা হস্তান্তরের বিধি জেনে নিন। জমি নিয়ে লেনদেন বা নির্মাণের সিদ্ধান্তের আগে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর মতামত নেওয়া বিচক্ষণতা।
তথ্যসূত্র: নিচের সরকারি আইন, বিধিমালা ও নীতিমালা যাচাই করে নিবন্ধটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
- হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩, ধারা ৬
- হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫
- ২০২৬ সালের সংশোধনীসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি
- কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা, সংশোধনী ২০২২
- ভূমি প্রশাসন ম্যানুয়াল, কৃষি ও অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত
একসনা ও স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্পর্কে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর
বন্দোবস্তের ধরন নির্ধারণে জমির শ্রেণি, মেয়াদ ও দলিল একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। নিচে প্রচলিত দশটি প্রশ্নের ব্যবহারিক উত্তর দেওয়া হলো।
১. একসনা বন্দোবস্তের জমি কি নিজের জমি বলা যায়?
না, শুধু একসনা বন্দোবস্তের কারণে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রাপক নির্দিষ্ট মেয়াদে ও অনুমোদিত উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার করতে পারেন। স্থায়ী স্বত্বের দাবি করতে হলে উপযুক্ত সরকারি অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দলিল থাকতে হবে।
২. একসনা বন্দোবস্তের মেয়াদ কতদিন?
একসনা বন্দোবস্তের মেয়াদ সাধারণত এক বছর। হাটবাজারের বার্ষিক ইজারার ক্ষেত্রে বাংলা বছরের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সময় বিবেচিত হয়। তবে চান্দিনা ভিটিসহ নির্দিষ্ট কোনো সরকারি জমির কার্যকর মেয়াদ জানতে অনুমোদন আদেশ ও প্রযোজ্য বিধি যাচাই করা উচিত।
৩. একসনা বন্দোবস্ত কি প্রতিবছর নবায়ন হয়?
সব ক্ষেত্রে নয়। নবায়নের সুযোগ জমির শ্রেণি, সংশ্লিষ্ট নীতি এবং পূর্ববর্তী বন্দোবস্তের শর্তের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে কৃষি খাসজমি ও হাটবাজারের জমির নিয়ম আলাদা হতে পারে। নবায়ন অনুমোদিত হয়েছে কি না লিখিত প্রমাণ রাখুন।
৪. স্থায়ী বন্দোবস্তের জমি কি বিক্রি করা যায়?
বন্দোবস্তের ধরন না জেনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ভূমিহীনদের বরাদ্দ করা কৃষি খাসজমিতে উত্তরাধিকার ছাড়া অন্যভাবে হস্তান্তরের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্য ধরনের সরকারি জমিতে আলাদা শর্ত থাকতে পারে। দলিল পরীক্ষা অপরিহার্য।
৫. স্থায়ী বন্দোবস্ত পেতে কি ভূমিহীন হতে হবে?
ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত প্রকল্পে যোগ্য ভূমিহীন কৃষিনির্ভর পরিবার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে সব ধরনের সরকারি অকৃষি জমির বন্দোবস্ত একই যোগ্যতার ভিত্তিতে হয় না। কোন নীতিমালায় আবেদন করছেন, সেটি আগে নির্ধারণ করুন।
৬. হাটবাজারের দোকানের জমি কি স্থায়ী বন্দোবস্ত পাওয়া যায়?
বর্তমান হাট ও বাজার আইন অনুযায়ী হাটবাজারের জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া যায় না। নির্দিষ্ট শর্তে চান্দিনা ভিটি একসনা ভিত্তিতে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বহু বছর দোকান পরিচালনা করলেও এ আইনগত সীমাবদ্ধতা বদলে যায় না।
৭. একসনা বন্দোবস্তের রসিদ থাকলে কি মালিকানা প্রমাণ হয়?
রসিদ সাধারণত নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের প্রমাণ। এটি জমি কেনার দলিল কিংবা স্থায়ী বন্দোবস্তের নিবন্ধিত কবুলিয়তের বিকল্প নয়। মালিকানা বা স্বত্ব নির্ধারণে মূল আদেশ, রেকর্ড এবং জমির আইনগত শ্রেণি পরীক্ষা করতে হবে।
৮. স্থায়ী কৃষি খাসজমি কতটুকু পাওয়া যায়?
২০২২ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী সমতল এলাকায় সর্বোচ্চ ০.৩৩ একর এবং নির্ধারিত উপকূলীয় চরাঞ্চলে সর্বোচ্চ ০.৫০ একর পর্যন্ত দেওয়া যেতে পারে। জমির প্রাপ্যতা ও আবেদনকারীর যোগ্যতার কারণে প্রকৃত বরাদ্দ কমও হতে পারে।
৯. বন্দোবস্ত বাতিল হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?
প্রথমে বাতিলের লিখিত আদেশ ও কারণ সংগ্রহ করুন। তারপর সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখায় প্রযোজ্য আপত্তি বা প্রতিকারের পথ জেনে নিন। নির্ধারিত সময়সীমা থাকলে তা মেনে আবেদন করুন।
১০. পুরোনো বন্দোবস্তের কাগজ কীভাবে যাচাই করবেন?
পুরোনো আদেশের নম্বর, জমির দাগ, মৌজা ও প্রাপকের পরিচয় নিয়ে ভূমি অফিসে নথি মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজন হলে নিবন্ধিত কবুলিয়তের অনুলিপি এবং বর্তমান খতিয়ান সংগ্রহ করুন। শুধু হাতে লেখা রসিদ বা দখল দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।
উপসংহার
একসনা বন্দোবস্ত মূলত সময়সীমাবদ্ধ জমি ব্যবহারের সুযোগ, আর স্থায়ী বন্দোবস্ত নির্ধারিত শর্তে দীর্ঘস্থায়ী ভূমিস্বত্বের ব্যবস্থা। মেয়াদ, নবায়ন, হস্তান্তর ও দলিলের দিক থেকে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে খাসজমি ও হাটবাজারের ক্ষেত্রে অনুমান না করে সরকারি নথি এবং সর্বশেষ আইন যাচাই করাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি।

