কোনো শিশু উত্তরাধিকার, দান কিংবা অন্য বৈধ উপায়ে জমি বা বাড়ির মালিক হতে পারে। কিন্তু বাবা, মা বা অন্য আত্মীয় তা ইচ্ছামতো বিক্রি করতে পারেন না। বাংলাদেশের আইনে নাবালকের সম্পত্তি রক্ষার জন্য অভিভাবকের ক্ষমতার ওপর নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
অনেক পরিবার চিকিৎসা, পড়াশোনা বা জরুরি খরচ মেটাতে সন্তানের জমি বিক্রির কথা ভাবেন। ক্রেতারাও কখনো বুঝতে পারেন না, দলিলে সইকারীর বিক্রির অধিকার আছে কি না। ভুল সিদ্ধান্তের ফলে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলতে পারে।
বিক্রির আগে তিনটি বিষয় যাচাই করা জরুরি: সম্পত্তির প্রকৃত মালিক কে, বিক্রেতা কোন ধরনের অভিভাবক এবং আদালতের অনুমতি প্রয়োজন কি না। নিচে আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত ও কাগজপত্রের আলোকে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা হলো।
আইনের চোখে নাবালক বলতে কাকে বোঝায়?
বাংলাদেশের সাবালকত্ব আইন, ১৮৭৫-এর ৩ ধারা অনুযায়ী সাধারণভাবে ১৮ বছর পূর্ণ হলে একজন ব্যক্তি সাবালক হন। তবে ১৮ বছর হওয়ার আগে আদালত তাঁর ব্যক্তি বা সম্পত্তির অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করলে, আইনে নির্ধারিত ক্ষেত্রে ২১ বছর পূর্ণ হলে তিনি সাবালক হন। শুধু মামলা পরিচালনার জন্য অভিভাবক নিযুক্ত হওয়া এই ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়।
নাবালকের মালিকানাধীন সম্পত্তি কীভাবে শনাক্ত করবেন?
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিতে নাবালকের অংশ আলাদা করে হিসাব করতে হবে। ধরুন, একই জমির কিছু অংশ মায়ের এবং কিছু অংশ নাবালক সন্তানের। মা নিজের বৈধ অংশ বিক্রি করতে পারলেও সন্তানের অংশ বিক্রির ক্ষমতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ওয়ারিশ সনদ ও আগের হস্তান্তরের তথ্য মিলিয়ে দেখুন। শুধু শিশুর নামে নামজারি নেই বলেই উত্তরাধিকারসূত্রে তার প্রাপ্য অংশ নেই, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বাবা, মা বা আত্মীয়ের মধ্যে কে সম্পত্তির অভিভাবক?
শিশুর দেখাশোনা করা আর তার সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক হওয়া এক নয়। মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে সম্পত্তির অভিভাবক হিসেবে নির্দিষ্ট ক্রমে বাবা, বাবার উইলে নিযুক্ত নির্বাহক, পিতামহ এবং পিতামহের উইলে নিযুক্ত নির্বাহককে বিবেচনা করা হয়। মা শুধু সন্তানকে লালনপালন করেন বলেই সন্তানের জমি বিক্রির ক্ষমতা পান না। তবে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে আদালত মাকে সম্পত্তির অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন। অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত আইনের বিধান যাচাই করতে হবে।
২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ে মাকে নাবালক সন্তানদের সম্পত্তির অভিভাবক নিযুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেন, এমন নিয়োগ সম্পত্তি বিক্রির অবাধ অধিকার দেয় না; অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের সীমাবদ্ধতা মানতে হয়।
আদালত নিযুক্ত অভিভাবক কি জমি বিক্রি করতে পারেন?
অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ২৯ ধারা অনুযায়ী আদালত নিযুক্ত বা ঘোষিত সম্পত্তির অভিভাবক, আইনে উল্লিখিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, আগাম আদালতের অনুমতি ছাড়া নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, দান, বিনিময় বা বন্ধক রাখতে পারেন না। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদে অথবা নাবালকের সাবালক হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পর্যন্ত ইজারা দিতে হলেও ওই অনুমতি প্রয়োজন। উইল বা অন্য দলিলের মাধ্যমে নিযুক্ত অভিভাবকের ক্ষেত্রে ২৮ ধারার বিধিনিষেধ আলাদাভাবে প্রযোজ্য।
কোন পরিস্থিতিতে বিক্রির অনুমতি পাওয়া যেতে পারে?
আইনটির ৩১ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা অথবা নাবালকের সুস্পষ্ট সুবিধা না থাকলে আদালত অনুমতি দেবেন না। যেমন, শিশুর অপরিহার্য চিকিৎসার খরচ জোগানো বা ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি রক্ষা করার যুক্তি প্রমাণসহ উপস্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু পরিবারের সাধারণ ব্যবসায় লোকসান বা অন্য সদস্যের ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধকে শিশুর স্বার্থ বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রতিটি আবেদন প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়।
কোন আদালতে আবেদন করতে হবে?
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের উদ্দেশ্যে পারিবারিক আদালত জেলা আদালত হিসেবে গণ্য হয়। অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০-এর ৯ ধারা অনুযায়ী সম্পত্তির অভিভাবকত্বের আবেদন শিশুর সাধারণ বাসস্থান অথবা সম্পত্তি যেখানে অবস্থিত, সেখানকার এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে করা যেতে পারে। তবে পারিবারিক আদালত আইন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় প্রযোজ্য নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ার আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত করুন।
আদালতের অনুমতি নেওয়ার বাস্তব ধাপ
যে ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন, সেখানে প্রথমে আবেদনকারী সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক কি না, তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবক নিয়োগের আবেদন করতে হয়। এরপর জমির বিবরণ, শিশুর অংশ, সম্ভাব্য মূল্য, বিক্রির কারণ এবং অর্থ শিশুর কল্যাণে কীভাবে ব্যয় বা সংরক্ষণ করা হবে, তা জানিয়ে অনুমতি চাইতে হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শুনে প্রকাশ্য নিলাম, বিক্রি সম্পন্ন করার আগে পুনরায় অনুমোদন বা বিক্রির অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার মতো শর্ত আরোপ করতে পারেন।
আবেদনের জন্য সাধারণত যেসব কাগজ দরকার
শিশুর জন্মনিবন্ধন, অভিভাবকের পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য অভিভাবকত্বের আদেশ, মালিকানার দলিল, খতিয়ান, নামজারির কাগজ, ওয়ারিশ সনদ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং জমির অবস্থান ও মূল্যের প্রমাণ প্রস্তুত রাখা সহায়ক। চিকিৎসার কারণ দেখালে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, শিক্ষার প্রয়োজনে ব্যয়ের কাগজ যুক্ত করা যায়। সব নথি প্রত্যেক মামলায় বাধ্যতামূলক নয়; আদালত ও ঘটনার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন বদলায়।
বিক্রয়দলিল ও নিবন্ধনের নিয়ম
আদালতের অনুমতি প্রযোজ্য হলে সেই আদেশের শর্ত মেনে বিক্রয়দলিল তৈরি করতে হবে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়ে নিবন্ধিত দলিল প্রয়োজন। শুধু টাকা নেওয়া, দখল দেওয়া বা সাদা কাগজে সম্মতি লেখা মালিকানা হস্তান্তরের বিকল্প নয়। নিবন্ধনের পর প্রয়োজনীয় নামজারির পদক্ষেপ নিতে হয়, তবে নামজারি নিজে ত্রুটিপূর্ণ বিক্রয়কে বৈধ করে না।
২০২৬ সালের নিবন্ধন সংশোধনী আইনে স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়চুক্তি সম্পাদনের তারিখ থেকে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময় ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন করা হয়েছে। এটি বিক্রয়চুক্তির সময়সীমা, চূড়ান্ত বিক্রয়দলিলের জন্য একই নিয়ম নয়। নাবালকের সম্পত্তি বিক্রিতে যেখানে আদালতের অনুমতি প্রয়োজন, এই সময়সীমা সেই অনুমতির বিকল্প নয়।
অনুমতি ছাড়া বিক্রি হলে ফল কী?
অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইনের ২৮ বা ২৯ ধারা লঙ্ঘন করে সম্পত্তি হস্তান্তর হলে ৩০ ধারা অনুযায়ী তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনে বাতিলযোগ্য হতে পারে। অন্যদিকে মুসলিম আইনে আইনগত ক্ষমতাহীন কেবল দেখাশোনাকারী ব্যক্তির করা নাবালকের জমি বিক্রি শুরু থেকেই অবৈধ হতে পারে। ২০২৩ সালের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায়ে এ ধরনের হস্তান্তরের আইনগত প্রভাব আলোচনা করা হয়েছে। তাই শুধু নিবন্ধিত দলিল বা দলিলে ‘অভিভাবক’ লেখা আছে বলে বিক্রিকে বৈধ ধরে নেওয়া যাবে না।
বিক্রি চ্যালেঞ্জ করার সময়সীমা ও প্রতিকার
নাবালক সাবালক হওয়ার পর বেআইনি হস্তান্তরের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের একটি সিদ্ধান্তে তামাদি আইনের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিভাবকের করা হস্তান্তর বাতিলের মামলায় সাবালক হওয়া থেকে তিন বছরের সময়সীমার কথা বলা হয়েছে। তবে দলিল শুরু থেকেই অবৈধ কি না, মামলায় কী প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে এবং দখলের অবস্থা কেমন, এসব অনুযায়ী তামাদির বিশ্লেষণ বদলাতে পারে। দেরি না করে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ক্রেতা ও পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
জমি কেনার আগে শিশুর জন্মতারিখ, উত্তরাধিকারের হিসাব, বিক্রেতার ক্ষমতা এবং আদালতের আদেশের সত্যতা যাচাই করুন। নির্দিষ্ট দাগের অনুমতি থাকলে তার বাইরে জমি কিনবেন না। বিক্রির টাকা নাবালকের নামে সংরক্ষণ বা ব্যবহারের শর্ত থাকলে সেই হিসাবও রাখুন। ক্রেতার কাছে নিবন্ধিত দলিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিক্রেতার আইনগত ক্ষমতার ঘাটতি শুধু নিবন্ধন দিয়ে পূরণ হয় না।
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাবা কি নিজের নাবালক সন্তানের জমি বিক্রি করতে পারেন?
শুধু বাবা হওয়াই সব পরিস্থিতিতে অবাধ বিক্রির অনুমতি নয়। সন্তানের সম্পত্তির আইনি অভিভাবক হিসেবে তাঁর অবস্থান, প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন এবং বিক্রির বাস্তব প্রয়োজন বিবেচ্য। আদালত তাঁকে সম্পত্তির অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত বা ঘোষণা করে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ বিশেষভাবে যাচাই করতে হবে।
২. মা কি সন্তানের জমি বিক্রির দলিলে সই করতে পারবেন?
মা শিশুর যত্ন নিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমি বিক্রির ক্ষমতা পান না। বিশেষত মুসলিম আইনে সম্পত্তির অভিভাবকত্বের আলাদা নিয়ম আছে। আদালত তাঁকে অভিভাবক নিযুক্ত করলে এবং প্রয়োজনীয় বিক্রির অনুমতি দিলে আদেশের শর্ত অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
৩. বাবা মারা গেলে সন্তানের উত্তরাধিকারী জমি কে দেখাশোনা করবেন?
কে আইনগত অভিভাবক হবেন, তা প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। মুসলিম আইনে বাবার উইলে নিযুক্ত নির্বাহক, পিতামহ বা পিতামহের উইলে নিযুক্ত নির্বাহকের অবস্থান বিবেচ্য হতে পারে। উপযুক্ত অভিভাবক না থাকলে আদালতে নিয়োগের আবেদন করা যায়। তবে জমি দেখাশোনার অধিকার থাকলেই তা বিক্রি করার ক্ষমতা তৈরি হয় না।
৪. আদালতের অনুমতি পেতে কত দিন লাগে?
সব আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট একক সময় বলা যায় না। নোটিশ, আপত্তি, দলিল যাচাই, মূল্যসংক্রান্ত প্রমাণ এবং আদালতের কার্যতালিকা সময়কে প্রভাবিত করে। তাই জরুরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগে থেকেই নথি প্রস্তুত করে আইনজীবীর সঙ্গে সম্ভাব্য সময় ও বিকল্প ব্যবস্থা আলোচনা করা উচিত।
৫. চিকিৎসার খরচ মেটাতে নাবালকের জমি বিক্রি করা যাবে?
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বিক্রির যুক্তি হতে পারে, কিন্তু অনুমতি পাওয়া নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকের কাগজ, সম্ভাব্য ব্যয়, অন্য অর্থের উৎস এবং কেন জমি বিক্রি ছাড়া উপায় নেই তা দেখাতে হতে পারে। আদালত মূলত শিশুর কল্যাণ এবং প্রস্তাবিত বিক্রির যৌক্তিকতা পরীক্ষা করবেন।
৬. নাবালকের অংশসহ যৌথ জমি বিক্রি করা কি নিরাপদ?
যৌথ জমির সব মালিকের অধিকার এক নয়। সাবালক অংশীদার নিজের বৈধ অংশ হস্তান্তর করতে পারলেও নাবালকের অংশের ক্ষেত্রে আলাদা ক্ষমতা ও অনুমতির প্রশ্ন আসে। অংশ নির্ধারণে ভুল থাকলে ভবিষ্যতে দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
৭. আদালতের অনুমতি থাকলে কি যেকোনো দামে বিক্রি করা যায়?
না। আদালত অনুমতির আদেশে সম্পত্তির বিবরণ, বিক্রির পদ্ধতি, মূল্যসংক্রান্ত শর্ত বা অর্থ ব্যবহারের নির্দেশ দিতে পারেন। কম দামে আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠতে পারে। তাই ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৮. শুধু নিবন্ধিত দলিল থাকলে ক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত হবে?
নিবন্ধন জরুরি হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়। বিক্রেতার মালিকানা বা প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা না থাকলে নিবন্ধিত দলিলও বিরোধমুক্ত হয় না। ক্রেতাকে পূর্বের দলিল, শিশুর অংশ, প্রযোজ্য আদালতের আদেশ এবং কোনো মামলা চলমান আছে কি না যাচাই করতে হবে।
৯. সাবালক হওয়ার পরে আগের বিক্রি বাতিল করতে কী করতে হবে?
প্রথমে বিক্রয়দলিল, জন্মতারিখের প্রমাণ, অভিভাবকত্বের নথি ও দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর কোন ধরনের দেওয়ানি প্রতিকার প্রযোজ্য এবং তামাদির সময়সীমা কত, তা আইনজীবীর মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। নিজে থেকে বিক্রি অকার্যকর ঘোষণা করলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না।
১০. নাবালকের জমি বিক্রি না করে অন্য উপায় আছে কি?
অনেক সময় জমির আয়, বৈধ ভাড়া বা পরিবারের অন্য সম্পদ থেকে প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতে পারে। আদালত নিযুক্ত অভিভাবক সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনাও চাইতে পারেন। বিক্রির আগে কম ক্ষতিকর বিকল্প বিবেচনা শিশুর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করতে সাহায্য করে।
উপসংহার
নাবালকের সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে পরিবারের সম্মতি যথেষ্ট নয়; প্রকৃত মালিকানা, অভিভাবকের আইনগত ক্ষমতা, শিশুর কল্যাণ এবং প্রযোজ্য আদালতের অনুমতি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। দলিল নিবন্ধনের আগেই এসব যাচাই করলে ভবিষ্যতের বিরোধের ঝুঁকি কমে। এটি সাধারণ আইনি তথ্য; নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

