জমি কেনা, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কিংবা দান হিসেবে গ্রহণের পর অনেকেই মনে করেন, দলিল হাতে থাকলেই সব কাজ শেষ। বাস্তবে জমির সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের তথ্য হালনাগাদ করাও জরুরি। এই কাজকেই সাধারণভাবে নামজারি বা খারিজ বলা হয়। নিয়ম জানা থাকলে ভুল আবেদনের ঝুঁকি কমে।
বাংলাদেশে এখন নামজারির আবেদন অনলাইনে করা যায়। আবেদন জমা, তদন্ত, সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদনের পর খতিয়ান সংগ্রহের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে কেনা জমি ও ওয়ারিশের জমির কাগজপত্র সব সময় এক রকম নয়। তাই জমি পাওয়ার সূত্র আগে নিশ্চিত করুন।
এই নির্দেশিকায় সরকারি ফি, প্রয়োজনীয় কাগজ, আবেদনের ধাপ, সম্ভাব্য সময়, আপত্তি ও সংশোধনের উপায় তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যাতে তথ্য যাচাই করাও সহজ হয়।
নামজারি, খতিয়ান ও দলিলের পার্থক্য
দলিল জমি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নথি। খতিয়ান হলো জমির রেকর্ড, যেখানে মালিকের নাম, দাগ, জমির পরিমাণ ও অংশের তথ্য থাকে। নামজারি হলো মালিকানা পরিবর্তনের ভিত্তিতে রাজস্ব রেকর্ড হালনাগাদের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে নামজারি খতিয়ান একাই নিরঙ্কুশ মালিকানার প্রমাণ নয়; দলিলের ধারাবাহিকতা, পূর্বের রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন জমির খতিয়ানে নাম ওঠাতে হয়
রেজিস্ট্রি দলিলে জমি কেনা, উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়া, বৈধ দান বা হেবা, বণ্টন এবং প্রযোজ্য আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নামজারি দরকার হতে পারে। জমি পাওয়ার পর রেকর্ড মিলিয়ে আবেদন করুন। বিশেষ করে একই দাগে একাধিক মালিক থাকলে নিজের প্রাপ্য অংশের চেয়ে বেশি জমি আবেদনে দেখানো যাবে না।
নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সাধারণভাবে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, সচল মুঠোফোন নম্বর, সংশ্লিষ্ট দলিল, পূর্ববর্তী খতিয়ান, জমির দাগ ও মৌজার বিবরণ এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা প্রস্তুত রাখতে হয়। প্রয়োজনে বায়া দলিল, অর্থাৎ আগের মালিকদের দলিলের ধারাবাহিকতার কাগজ, লাগতে পারে। উত্তরাধিকার হলে ওয়ারিশ সনদ, পৃথক ভাগের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বণ্টননামা এবং আদালতের আদেশভিত্তিক আবেদনে সংশ্লিষ্ট আদেশের অনুলিপি প্রয়োজন হতে পারে। জমির ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত প্রমাণও চাওয়া সম্ভব।
আবেদনের আগে চারটি তথ্য মিলিয়ে নিন
ভুল কমানোর কার্যকর উপায় হলো চারটি তথ্য পাশাপাশি মিলিয়ে দেখা: দলিলে বর্ণিত মালিকানার সূত্র, পুরোনো খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং আবেদনকারীর হিস্যা। উদাহরণস্বরূপ, দলিলে ৮ শতাংশ জমি কেনা থাকলেও বিক্রেতার বৈধ অংশ ৬ শতাংশ হলে বিষয়টি যাচাই ছাড়া ৮ শতাংশের নামজারি চাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। একই মৌজার পুরোনো ও নতুন জরিপের দাগ আলাদা হতে পারে; সে ক্ষেত্রে দাগের মিলও নিশ্চিত করতে হবে।
অনলাইনে জমির নামজারির আবেদন করার নিয়ম
প্রথম ধাপ: সরকারি ভূমিসেবা পোর্টালে প্রবেশ
প্রথমে সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়নে প্রবেশ করুন। এরপর নামজারি বা মিউটেশন সেবা নির্বাচন করে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী নাগরিক নিবন্ধন অথবা অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন। প্রয়োজনে সরাসরি সরকারি নামজারি ব্যবস্থায় যেতে পারেন। নিবন্ধন ও আবেদন করার সময় সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং সচল মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: জমি ও মালিকানার বিবরণ দিন
বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগের তথ্য সঠিকভাবে লিখুন। জমি অর্জনের ধরন নির্বাচন করে নিজের প্রাপ্য পরিমাণ উল্লেখ করুন। তারপর চাওয়া দলিল ও প্রমাণের পরিষ্কার অনুলিপি সংযুক্ত করুন। জমার আগে বানান, পরিমাণ ও দলিল নম্বর যাচাই করুন।
তৃতীয় ধাপ: আবেদন জমা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ
প্রথম পর্যায়ের সরকারি ফি অনলাইনে পরিশোধ করে আবেদন জমা দিন। আবেদন নম্বর ও পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করুন। পরে ওই নম্বর দিয়ে আবেদনের অবস্থা দেখা যায়। ভূমি অফিস প্রয়োজনীয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেয়; অতিরিক্ত তথ্য বা শুনানি প্রয়োজন হলে জানাতে পারে। অনুমোদনের পর নির্ধারিত বাকি ফি দিয়ে নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ করা যায়।
জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে
সরকারি নির্ধারিত ফি অনুযায়ী আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, অর্থাৎ শুরুতে ৭০ টাকা। আবেদন মঞ্জুর হলে রেকর্ড সংশোধন বাবদ ১,০০০ টাকা ও খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকা, মোট আরও ১,১০০ টাকা দিতে হয়। সব মিলিয়ে মূল সরকারি নামজারি ফি ১,১৭০ টাকা। প্রযোজ্য সেবাকেন্দ্রের সহায়তা খরচ বা লেনদেনের চার্জ থাকলে তা আলাদা হতে পারে। সরকারি রসিদ ছাড়া কাউকে টাকা দেওয়া উচিত নয়।
নামজারি সম্পন্ন হতে কত দিন লাগে
নামজারি সম্পন্ন হতে কত দিন লাগবে, তা জমির কাগজপত্র, তদন্ত, শুনানি ও আপত্তির ওপর নির্ভর করে। সরকারি নামজারি ব্যবস্থায় ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রদর্শিত বিগত ৩০ দিনের পরিসংখ্যানে গড় নিষ্পত্তির সময় ছিল ১৯ দিন। তবে এটি নির্দিষ্ট সময়ের গড় হিসাব, প্রতিটি আবেদন একই সময়ে নিষ্পত্তি হবে এমন নিশ্চয়তা নয়। বর্তমান তথ্য জানতে সরকারি পোর্টাল দেখুন। আবেদন দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকলে আবেদন নম্বর দিয়ে অগ্রগতি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
ওয়ারিশের জমিতে যৌথ ও পৃথক নামজারি
মৃত ব্যক্তির সব বৈধ ওয়ারিশ একসঙ্গে খতিয়ানে নাম তুলতে চাইলে ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে যৌথ নামজারি সম্ভব; শুধু যৌথ নামজারির জন্য বণ্টননামা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু প্রত্যেকে আলাদা খতিয়ান ও পৃথকভাবে কর দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চাইলে সাধারণত নিবন্ধিত বণ্টননামা বা প্রযোজ্য আদালতের মাধ্যমে বণ্টনের ভিত্তি প্রয়োজন। প্রত্যেক ওয়ারিশের সঠিক অংশ নিশ্চিত না করে আবেদন করা উচিত নয়।
২০২৬ সালের নতুন নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যৌথ খতিয়ানের সম্পূর্ণ জমির ভূমি উন্নয়ন কর একসঙ্গে পরিশোধ করা সম্ভব না হলে নির্ধারিত শর্তে করের দাখিলা ছাড়াই নিবন্ধিত বণ্টননামা বা আদালতের মাধ্যমে বণ্টনের ব্যবস্থা করা যায়। সেই বণ্টনের ভিত্তিতে পৃথক নামজারির আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। পৃথক খতিয়ান তৈরি হলে প্রত্যেক মালিককে নিজের অংশের প্রযোজ্য বকেয়া ও চলতি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হবে।
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আরেক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, একই দাগের একাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন ও অন্য অংশ সরকারি হলে আগে সীমানা চিহ্নিত করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি করতে হবে। এতে সরকারি অংশের ওপর কোনো ব্যক্তিগত অধিকার তৈরি হয় না। সংশ্লিষ্ট পরিপত্রগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে।
নামজারির আবেদনে আপত্তি উঠলে কী করবেন
নামজারির আবেদনে অন্য কোনো পক্ষ আপত্তি জানালে আপত্তির কারণ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করুন। কর্তৃপক্ষ শুনানির জন্য ডাকলে দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে উপস্থিত থাকুন। নিজের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
আবেদন নামঞ্জুর হলে করণীয়
নামজারির আবেদন নামঞ্জুর হলে প্রথমে অনলাইনে প্রকাশিত লিখিত আদেশ দেখে সুনির্দিষ্ট কারণ জানুন। প্রয়োজনীয় তথ্য বা কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা জানিয়ে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু অনলাইন আবেদনের কাগজের ছাপানো অনুলিপি ভূমি অফিসে জমা না দেওয়ার কারণে আবেদন নামঞ্জুর করা যাবে না। তথ্যের ঘাটতি পূরণ হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা বা আগের আবেদন পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। মালিকানা, হিস্যা বা দাগ নিয়ে বিরোধ থাকলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল অথবা আইনগত প্রতিকার নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
অনুমোদনের পর যা অবশ্যই পরীক্ষা করবেন
নতুন খতিয়ান হাতে পেয়ে নাম, পিতামাতার পরিচিতি, মৌজা, দাগ, জমির পরিমাণ ও হিস্যা মিলিয়ে নিন। ডিসিআর এবং পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করুন। ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধনের আবেদন করুন। এরপর নতুন রেকর্ড অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য হালনাগাদ হয়েছে কি না দেখুন। নামজারি সম্পন্ন করলেও জমির দলিল, আগের খতিয়ান ও বণ্টনের কাগজ ফেলে দেওয়া যাবে না।
জমির খতিয়ানে নাম উঠানো নিয়ে ১০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. জমির দলিল থাকলে কি নামজারি না করলেও চলে?
দলিল থাকলেও নামজারি করানো গুরুত্বপূর্ণ। দলিলের মাধ্যমে জমি অর্জনের তথ্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, কিন্তু সরকারি রাজস্ব রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয় না। ভবিষ্যতে কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর বা রেকর্ড যাচাইয়ের সময় সমস্যা কমাতে দ্রুত নামজারি করা ভালো।
২. নামজারি কি সম্পূর্ণ ঘরে বসে করা যায়?
আবেদন, নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং অগ্রগতি দেখার কাজ অনলাইনেই করা যায়। আবেদন মঞ্জুর হলে খতিয়ান ও ডিসিআরও অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে কাগজে অসংগতি, আপত্তি বা বিশেষ যাচাইয়ের দরকার হলে কর্তৃপক্ষ শুনানিতে উপস্থিত হতে বলতে পারে। তাই সব আবেদনে অফিসে যেতে হবে না, আবার কখনোই যেতে হবে না—এমনও নয়।
৩. নামজারি করতে কি দালাল বা মধ্যস্থতাকারী লাগে?
না, আবেদনকারী নিজেই সরকারি পোর্টালে আবেদন করতে পারেন। যাঁদের অনলাইনে কাজ করতে অসুবিধা হয়, তাঁরা অনুমোদিত ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র থেকে সাহায্য নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকারি ফি ও সহায়তা বাবদ প্রযোজ্য খরচ আলাদা করে জেনে রসিদ নেবেন। আবেদন নম্বর নিজে সংরক্ষণ করুন।
৪. বাবা বা মায়ের মৃত্যুর পর জমির নাম কীভাবে উঠবে?
প্রথমে মৃত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, উত্তরাধিকার প্রমাণ ও বৈধ ওয়ারিশদের তালিকা সংগ্রহ করুন। সব ওয়ারিশের যৌথ নামজারির আবেদনে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ উল্লেখ করা যায়। আলাদা খতিয়ান চাইলে বণ্টনের আইনগত ভিত্তি প্রস্তুত করতে হবে। কোনো ওয়ারিশকে বাদ দেবেন না।
৫. একাধিক ওয়ারিশের জন্য কি বণ্টননামা বাধ্যতামূলক?
সব ক্ষেত্রে নয়। সবাইকে একই খতিয়ানে নিজ নিজ হিস্যা অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করার যৌথ নামজারিতে শুধু বণ্টননামা নেই বলে আবেদন নামঞ্জুর করার কথা নয়। কিন্তু জমি ভাগ করে প্রত্যেকের নামে পৃথক খতিয়ান তৈরি করতে নিবন্ধিত বণ্টননামা বা প্রযোজ্য আদালতের বণ্টন প্রয়োজন হতে পারে।
৬. পুরোনো খতিয়ানের দাগ ও দলিলের দাগ না মিললে কী করবেন?
আগে যাচাই করতে হবে এটি পুরোনো ও নতুন জরিপের নম্বরের পার্থক্য, নাকি প্রকৃত ভুল। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, মৌজা নকশা এবং দলিলের তফসিল পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে ভূমি অফিস থেকে দাগের সম্পর্ক নিশ্চিত করুন। অনুমান করে ভুল দাগ দিয়ে আবেদন করলে নামজারি জটিল হতে পারে।
৭. নামজারির আবেদনে ভুল হলে কি সংশোধন সম্ভব?
ভুলের ধরন এবং আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, তার ওপর করণীয় নির্ভর করে। কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য চাইলে সঠিক নথি জমা দেওয়া যায়। মঞ্জুর হওয়া খতিয়ানে করণিক ভুল ধরা পড়লে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নামজারি খতিয়ান বা ডিসিআরের ত্রুটি সংশোধনের জন্য পৃথক ফি প্রযোজ্য নয়।
৮. আবেদন নামঞ্জুর হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, তবে কারণ না জেনে একই ভুলসহ নতুন আবেদন করা ঠিক নয়। আদেশে কাগজের ঘাটতি উল্লেখ থাকলে আগে তা সংগ্রহ করে পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা নিন। মালিকানা, হিস্যা বা দাগ নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আপিল কিংবা আইনগত প্রতিকার লাগতে পারে। আবেদন নম্বর ও আগের আদেশ সংরক্ষণ করা জরুরি।
৯. নামজারি খতিয়ান কি জমির মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ?
না। নামজারি মূলত সরকারি রাজস্ব রেকর্ড হালনাগাদের ব্যবস্থা। জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ে নিবন্ধিত দলিল, পূর্ববর্তী মালিকানার ধারাবাহিকতা, প্রযোজ্য খতিয়ান ও আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শুধু নতুন খতিয়ান দেখে জমি কিনবেন না।
১০. নামজারির সমস্যা হলে সরকারি সহায়তা কোথায় পাবেন?
প্রথমে আবেদনের অবস্থা ও আদেশ সরকারি পোর্টালে দেখুন। এরপর সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারের ভূমি অফিসে আবেদন নম্বরসহ যোগাযোগ করতে পারেন। ভূমিসেবা সম্পর্কে তথ্য বা অভিযোগের জন্য সরকারি সহায়তা নম্বর ১৬১২২ ব্যবহার করা যায়। অভিযোগ করার সময় জমির বিবরণ, আবেদন নম্বর ও রসিদের তথ্য কাছে রাখুন।
উপসংহার
জমির খতিয়ানে নাম ওঠানোর মূল কাজ হলো সঠিক মালিকানার ভিত্তিতে সরকারি রেকর্ড হালনাগাদ করা। দলিল, দাগ, খতিয়ান ও হিস্যা আগে মিলিয়ে নিলে আবেদন অনেক সহজ হয়। নির্ধারিত ফি অনলাইনে দিন, আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং অনুমোদিত খতিয়ানের তথ্য যাচাই করুন। জটিল মালিকানা বিরোধ থাকলে প্রয়োজনমতো আইনগত পরামর্শ নিন।

