জমির খতিয়ানে নামের বানান ভুল, পিতা বা স্বামীর নাম ভুল, দাগ নম্বর ভুল, জমির পরিমাণে হিসাবগত ত্রুটি অথবা কোনো তথ্য ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই রেকর্ড সংশোধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খতিয়ানে ভুল দেখলেই সরাসরি নতুন নামজারি বা আদালতে মামলা করতে হয় না। ভুলের ধরন বুঝে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিসকেসের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৯ জুলাই ২০২১ তারিখের রেকর্ড সংশোধনসংক্রান্ত পরিপত্র গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। এছাড়া ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন বা বাতিলসংক্রান্ত আরও নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। তাই রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে পুরোনো প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের বর্তমান পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
মিসকেস আসলে কী?
মিসকেস বা বিবিধ মামলা হলো ভূমি প্রশাসনের এমন একটি কার্যক্রম যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের রেকর্ড, খতিয়ান বা নামজারি সংক্রান্ত ভুল তদন্ত, শুনানি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সংশোধন বা বাতিল করা যায়। সাধারণ আদালতের মামলার মতো সব ধরনের মালিকানা বিরোধ মিসকেসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় না। এটি মূলত এমন বিষয়ে ব্যবহারযোগ্য যেখানে সংশোধনের আইনগত ক্ষমতা রাজস্ব কর্মকর্তার রয়েছে।
২০২৩ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী নাগরিকের আবেদনে অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ উদ্যোগে খতিয়ান সংশোধন বা বাতিল করার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মিসকেস রেজিস্টারে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মিসকেস নম্বর এবং কী সংশোধন করা হয়েছে সেই তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত হওয়ার কথা।
কোন ধরনের ভুল মিসকেসে সংশোধন হতে পারে?
চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধনের আইনগত ভিত্তি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এবং প্রজাস্বত্ব বিধিমালা, ১৯৫৫ এর সংশ্লিষ্ট বিধানে রয়েছে। নামের বানান, অংশ বা হিস্যার হিসাব এবং গাণিতিক হিসাবের মতো করণিক ভুল সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, জমির শ্রেণি বা অন্য কোনো তথ্যের পরিবর্তন চাওয়া হলে ভুলটির প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং এতে অন্য কারও স্বত্ব প্রভাবিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে মূল প্রশ্ন হলো সংশোধনের ফলে অন্য ব্যক্তির মালিকানা বা স্বত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না। শুধু একটি সংখ্যা বা নাম পরিবর্তন মনে হলেও সেটি যদি অন্য ব্যক্তির জমির অংশ কমিয়ে দেয়, অন্য কাউকে নতুন মালিকানা দেয় অথবা প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে, তাহলে বিষয়টি সাধারণ করণিক ভুলের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
সব রেকর্ড সংশোধনেই কি মিসকেস করতে হয়?
না। এটিই রেকর্ড সংশোধন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির একটি জায়গা। ২০২১ সালের সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কিছু সরল প্রকৃতির যথার্থ ভুল আলাদা মিসকেস না খুলেও নামজারি কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে। আবার জটিল যথার্থ ভুলের ক্ষেত্রে মিসকেস সৃষ্টি করে কাগজপত্র ও প্রতিবেদনসহ বিষয়টি ভূমি আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানোর বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের ডিজিটাল নির্দেশনা অনুযায়ী খতিয়ানের সংশোধন বা বাতিলের ধারাবাহিকতা সংরক্ষণের জন্য মিসকেস রেজিস্টারে তথ্য অন্তর্ভুক্ত এবং মিসকেস নম্বর ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন সেটি ভুলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করলেও সংশোধনের প্রশাসনিক ইতিহাস এখন আরও স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
রেকর্ড সংশোধনের মিসকেস কোথায় করতে হবে?
সাধারণভাবে যে এলাকার জমির রেকর্ড সংশোধন করা হবে, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে আবেদন করতে হয়। অনলাইন ব্যবস্থায় প্রস্তুত খতিয়ানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ভূমিসেবা ব্যবস্থায় আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। আর পুরোনো বা ম্যানুয়াল রেকর্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া উচিত।
মিসকেসের আবেদন কীভাবে লিখবেন?
আবেদনে আবেদনকারীর পরিচয়, জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং বর্তমানে রেকর্ডে কী লেখা আছে তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত। এরপর সঠিক তথ্য কী হওয়া উচিত এবং কোন দলিল বা পূর্ববর্তী রেকর্ডের ভিত্তিতে সংশোধন চাওয়া হচ্ছে তা লিখতে হবে। আবেদনটি অস্পষ্ট না রেখে নির্দিষ্ট প্রতিকার চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২০২১ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও দাবির পক্ষে থাকা কাগজপত্রের অনুলিপি আবেদনের সঙ্গে দেওয়া উচিত। আবেদনকারী নিজে অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আবেদন করতে পারেন এবং যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আবেদন গ্রহণের পর মিসকেস নম্বরসহ প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
মিসকেসের ক্ষেত্রে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে?
- সংশোধন চেয়ে লিখিত আবেদনপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি
- সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বা পর্চার কপি
- মূল দলিলের অনুলিপি বা প্রয়োজন হলে সার্টিফায়েড কপি
- আগের জরিপের খতিয়ান ও প্রাসঙ্গিক রেকর্ড
- সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান, যদি থাকে
- ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা
- প্রয়োজন হলে মৌজা নকশা বা দাগ সূচি
- ওয়ারিশ সূত্রে দাবি হলে ওয়ারিশ সনদ
- আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সংশোধন চাইলে রায়, আদেশ বা ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
সব মামলায় সব কাগজ প্রয়োজন হয় না। ভুলটির ধরন অনুযায়ী প্রমাণপত্র নির্বাচন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সরকারি সিটিজেন চার্টারেও দাবির স্বপক্ষে দলিল, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং আদালতের রায় থাকলে তার কপি জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
আবেদন করার পর কী হয়?
আবেদন পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি কর্মকর্তা, কানুনগো বা সার্ভেয়ারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন চাইতে পারেন। ২০২১ সালের নির্দেশনায় প্রয়োজন অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন সংগ্রহের কথা রয়েছে। এরপর আবেদনকারী ও যাদের স্বার্থ প্রভাবিত হতে পারে তাদের নোটিশ দিয়ে শুনানি করা হতে পারে।
আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত, রেকর্ড যাচাই, প্রতিবেদন সংগ্রহ ও শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। ২০২১ সালের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে অনধিক নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নোটিশ জারি, প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংগ্রহ বা অন্য দপ্তরের মতামতের প্রয়োজন হলে বাস্তবে সময়ের তারতম্য হতে পারে।
বর্তমান সরকারি ফি কত?
ভূমি তথ্য বাতায়নের বর্তমান কেন্দ্রীয় ফি তালিকা অনুযায়ী খতিয়ান সংশোধনের আবেদন ফি ২০ টাকা। একই তালিকায় নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ এবং অন্যান্য ভূমিসেবার ফি আলাদাভাবে নির্ধারিত রয়েছে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য সরকারি পোর্টালে দেখানো সর্বশেষ ফি যাচাই করে পরিশোধ করা উচিত।
সরকারি নির্ধারিত অর্থের বাইরে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইন ব্যবস্থায় যে অর্থ পরিশোধ করা হয় তার রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত।
কখন মিসকেসে সমাধান হবে না?
সংশোধনের ফলে যদি এক ব্যক্তির মালিকানা কমে এবং অন্য ব্যক্তির মালিকানা বাড়ে, অথবা শুনানিতে প্রকৃত স্বত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তখন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রশাসনিক সংশোধনের এখতিয়ার সীমিত হয়ে যেতে পারে। সরকারি নির্দেশনায় এমন পরিস্থিতিকে দেওয়ানি স্বত্বের বিরোধ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করতে পারেন। তবে তদন্তে প্রকৃত মালিকানা বা স্বত্ব নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলে প্রশাসনিকভাবে রেকর্ড সংশোধন না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল বা উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
আদেশ হওয়ার পর রেকর্ড সত্যিই সংশোধন হয়েছে কি না যাচাই করুন
শুধু সংশোধনের আদেশ পাওয়াই শেষ ধাপ নয়। আদেশ কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বহিতে সংশোধন এবং রেকর্ড রুম ও ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে তথ্য হালনাগাদের ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২১ সালের নির্দেশনায় আবেদনকারীকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশোধিত খতিয়ানের কপি দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংশোধনের তথ্য পৌঁছানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেকর্ড হালনাগাদের নির্দেশনা রয়েছে। তাই আদেশ পাওয়ার পর সংশোধিত খতিয়ান সংগ্রহ করে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখা উচিত।
ডিজিটাল খতিয়ানের ক্ষেত্রে সংশোধনের পর অনলাইন ব্যবস্থায় নতুন তথ্য সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না যাচাই করা উচিত। কিউআর কোডযুক্ত ই-নামজারি খতিয়ানের সত্যতা সরকারি ই-নামজারি ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করার সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
১. নামের বানান ভুল হলে কি মিসকেস করা যায়?
হ্যাঁ, যদি এটি প্রকৃত করণিক ভুল হয় এবং সংশোধনের ফলে অন্য কারও মালিকানা বা স্বত্ব পরিবর্তিত না হয়, তাহলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। সঠিক নাম প্রমাণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, দলিল এবং আগের খতিয়ানসহ নির্ভরযোগ্য কাগজপত্র দিতে হবে।
২. দাগ নম্বর ভুল হলে কী করতে হবে?
দাগ নম্বরের ভুল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ভুল দাগ অন্য জমিকে নির্দেশ করতে পারে। তাই আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, নকশা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হতে পারে। ভুলের ধরন অনুযায়ী মাঠ তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতেরও প্রয়োজন হতে পারে। শুধু আবেদন করার ভিত্তিতে দাগ নম্বর পরিবর্তন করা হয় না।
৩. অন্য ব্যক্তির নামে আমার জমি রেকর্ড হলে মিসকেস করা যাবে?
ভুলটি কীভাবে হয়েছে তার ওপর উত্তর নির্ভর করবে। প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক সংশোধনের বিধান রয়েছে। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি সাধারণ মিসকেসের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য নাও হতে পারে।
৪. মিসকেস করতে আইনজীবী বাধ্যতামূলক কি?
সাধারণ আবেদন করার জন্য আইনজীবী থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারী নিজে কাগজপত্রসহ আবেদন করতে পারেন। তবে স্বত্ব বিরোধ, একাধিক দলিল, জালিয়াতির অভিযোগ, আদালতের পুরোনো রায় বা একাধিক ওয়ারিশের জটিলতা থাকলে ভূমি আইনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া কার্যকর হতে পারে।
৫. মিসকেস নিষ্পত্তিতে কতদিন সময় লাগে?
২০২১ সালের নির্দেশনায় আবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তদন্ত, প্রতিবেদন সংগ্রহ ও শুনানিসহ কার্যক্রম সম্পন্ন করে অনধিক নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নোটিশ জারি, মাঠ তদন্ত, পুরোনো রেকর্ড সংগ্রহ বা অন্য দপ্তরের মতামতের প্রয়োজন হলে বাস্তবে সময়ের তারতম্য হতে পারে।
৬. মিসকেসের আবেদন ফি কত?
ভূমি তথ্য বাতায়নের বর্তমান ফি তালিকা অনুযায়ী খতিয়ান সংশোধনের আবেদন ফি ২০ টাকা। সংশোধনের পর নামজারি, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান সরবরাহ বা অন্য কোনো সেবা প্রযোজ্য হলে নির্ধারিত অতিরিক্ত সরকারি ফি থাকতে পারে।
৭. আবেদন করার পর মিসকেস নম্বর নেওয়া জরুরি কেন?
মিসকেস নম্বর আবেদনটির সরকারি পরিচয়। এর মাধ্যমে মামলার নথি, প্রতিবেদন, শুনানি এবং চূড়ান্ত আদেশ অনুসরণ করা সহজ হয়। ২০২১ সালের নির্দেশনায় আবেদন গ্রহণের দিনই মিসকেস নম্বরসহ প্রাপ্তিস্বীকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৮. জমির শ্রেণি ভুল হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরাসরি সংশোধন করতে পারেন?
সব ক্ষেত্রে সরাসরি সংশোধন করা যায় না। জমির শ্রেণি ভুলভাবে লেখা হয়েছে নাকি বাস্তবে জমির ব্যবহার বা অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হয়। ভুলটির প্রকৃতি এবং সংশোধনের ফলে স্বত্ব বা রেকর্ডে কী প্রভাব পড়বে তার ওপর নির্ভর করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেন।
৯. মিসকেসের আদেশে সন্তুষ্ট না হলে কী করা যায়?
আইনে রিভিউ এবং উচ্চতর রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে রিভিশনের সুযোগ রয়েছে। কোন আদেশের বিরুদ্ধে কোন কর্তৃপক্ষের কাছে এবং কত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে তা আদেশের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা উচিত। তাই আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া ভালো।
১০. সংশোধনের আদেশ পেলেই কি কাজ শেষ?
না। সংশোধিত খতিয়ান বাস্তবে প্রস্তুত হয়েছে কি না, রেকর্ড রুম এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে তথ্য পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং ডিজিটাল খতিয়ানে সংশোধিত তথ্য দেখা যাচ্ছে কি না যাচাই করা উচিত। ভবিষ্যতে নামজারি, বিক্রয় বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সংশোধিত খতিয়ান ও আদেশের কপি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
রেকর্ড সংশোধনের জন্য মিসকেস করার আগে প্রথম কাজ হলো ভুলটির প্রকৃতি নির্ধারণ করা। যেখানে সংশোধনের ফলে অন্য ব্যক্তির স্বত্ব সরাসরি প্রভাবিত হয়, সেখানে শুধু মিসকেসের ওপর নির্ভর না করে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার নির্ধারণ করা উচিত। সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার আবেদন, নির্ভরযোগ্য দলিল এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ানের তথ্য জমা দিলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা অনেকটাই এড়ানো যায়।
আবেদন করার পর মিসকেস নম্বর, শুনানির কাগজ, আদেশ এবং সংশোধিত খতিয়ান সংরক্ষণ করুন। আর যেখানে সংশোধনের ফলে অন্য ব্যক্তির স্বত্ব সরাসরি প্রভাবিত হয়, সেখানে শুধু মিসকেসের ওপর নির্ভর না করে উপযুক্ত আইনগত প্রতিকার নির্ধারণ করা উচিত।
তথ্যসূত্র: এই লেখার তথ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৯ জুলাই ২০২১ তারিখের খতিয়ান সংশোধনসংক্রান্ত নির্দেশনা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখের খতিয়ানের করণিক ভুল সংশোধন বা বাতিলসংক্রান্ত নির্দেশনা, ভূমি তথ্য বাতায়নের বর্তমান ভূমিসেবা ফি এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম, ফি বা আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবায় সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই লেখা সাধারণ তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, জরিপের ইতিহাস ও মালিকানার অবস্থা অনুযায়ী করণীয় ভিন্ন হতে পারে। জটিল স্বত্ব বিরোধ, জালিয়াতির অভিযোগ বা আদালতে বিচারাধীন বিষয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি ভূমি অফিস অথবা ভূমি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

