বেসরকারি স্কুল-কলেজে ৬৭ হাজার শূন্য পদে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬

বেসরকারি স্কুল-কলেজে ৬৭ হাজার শূন্য পদে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি

২০২৬ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় খবর এসেছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ খুব শিগগিরই ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে। এই গণবিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশের বেসরকারি স্কুল ও কলেজে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এবারও আবেদন করতে পারবেন না। ফলে নতুন ও নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের জন্য এটি বড় একটি সুযোগ হয়ে এসেছে।

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬ কী জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে ঘিরে এনটিআরসিএ সূত্র থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের গণবিজ্ঞপ্তিতে আগের নিয়মের পাশাপাশি কিছু নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আবেদন ও সুপারিশ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে। বিশেষ করে পছন্দ দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই গণবিজ্ঞপ্তিতে যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে-ইনডেক্সধারীরা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগ রাখা হয়েছে, যা অনেক প্রার্থীর জন্য স্বস্তির খবর।

ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা কেন আবেদন করতে পারবেন না

এনটিআরসিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী,যেসব শিক্ষক বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠানে ইনডেক্স সুবিধা পাচ্ছেন, তারা ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন না। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে দেখা গেছে,ইনডেক্সধারীরা বারবার সুপারিশ পেয়ে যাচ্ছেন, ফলে নতুনদের জন্য জায়গা কমে যাচ্ছে।

তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কেউ যদি স্কুল পর্যায়ে ইনডেক্সধারী হন কিন্তু কলেজ পর্যায়ে ইনডেক্স না থাকে এবং তার বৈধ নিবন্ধন সনদ থাকে, তাহলে তিনি কলেজ পর্যায়ে আবেদন করতে পারবেন। একইভাবে, কেউ যদি কলেজে ইনডেক্সধারী হন এবং স্কুল পর্যায়ে ইনডেক্স না থাকে, তবে স্কুল পর্যায়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

আরও জানতে পারেনঃ ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনুমতি চলতি সপ্তাহেই

নিবন্ধন সনদের মেয়াদ থাকছে তিন বছর

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২6-এ নিবন্ধন সনদের মেয়াদ নিয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী, নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছরই থাকছে। অর্থাৎ, যাদের নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তারা এই গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন না।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত সনদ বৈধ থাকবে। এই নিয়ম আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে, যাতে সনদের মেয়াদ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।

বয়স গণনার নিয়ম কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে

বয়স গণনা নিয়ে অনেক প্রার্থীই প্রশ্ন করেন। ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ বয়স গণনা করা হবে ২০২৫ সালের ৪ জুন থেকে। ওই তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। কারণ, সেদিনই ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে।

এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বয়স গণনার ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী বয়স সীমার মধ্যে থাকলেই কেবল আবেদন গ্রহণ করা হবে। তাই আবেদন করার আগে প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজের বয়স হিসাব করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শূন্য পদের সংখ্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন

এবারের ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৬৭ হাজার ২০৮টি। এসব পদ বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভক্ত থাকবে। বিষয়ভিত্তিক ও স্তরভিত্তিক পদসংখ্যা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় সংখ্যক শূন্য পদের বিপরীতে গণবিজ্ঞপ্তি আসায় শিক্ষকপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে যারা একাধিকবার নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু সুপারিশ পাননি, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ।

পছন্দ দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পছন্দ দেওয়ার নিয়মে। আগে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যা কমিয়ে সর্বোচ্চ সাতটি প্রতিষ্ঠানে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এনটিআরসিএ মনে করছে, কম সংখ্যক পছন্দ রাখলে প্রার্থীরা আরও সচেতনভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবেন। এতে করে সুপারিশ প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমবে।

‘Other Option’ কী এবং কেন যুক্ত করা হয়েছে

নতুন নিয়মে যুক্ত করা হয়েছে ‘Other Option’। এটি মূলত তাদের জন্য, যারা পছন্দের বাইরে অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী। ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে থাকা এই অপশনে প্রার্থী চাইলে ‘Yes’ বা ‘No’ নির্বাচন করতে পারবেন।

যদি কেউ সাতটি পছন্দের বাইরে অন্য কোথাও নিয়োগ পেতে আগ্রহী হন, তাহলে তাকে ‘Yes’ নির্বাচন করতে হবে। আর যারা নির্ধারিত পছন্দের বাইরে কোথাও যেতে চান না, তারা ‘No’ নির্বাচন করবেন। এতে করে সুপারিশের সময় প্রার্থীর আগ্রহ স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

সুপারিশ প্রক্রিয়া সহজ হবে কেন

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন পছন্দ ও Other Option যুক্ত হওয়ায় সুপারিশ প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হবে। আগে দেখা যেত, অনেক প্রার্থী ৪০টি পছন্দ দিয়েও শেষ পর্যন্ত যোগদান করতেন না। এতে করে পদ ফাঁকা থাকত এবং পুনরায় সুপারিশ করতে সময় লাগত। নতুন নিয়মে সীমিত পছন্দ দেওয়ার কারণে প্রার্থীরা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সময়ও কম লাগবে।

আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬-এ আবেদন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জন্য কিছু বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত, নিজের নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ও বয়স যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইনডেক্স সংক্রান্ত অবস্থান পরিষ্কারভাবে বুঝে আবেদন করতে হবে। এছাড়া পছন্দ দেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, যাতায়াত সুবিধা এবং নিজের আগ্রহ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। কারণ, একবার সুপারিশ পেলে পরে তা বাতিল করলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন-উত্তর সেকশন

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২6-এ কারা আবেদন করতে পারবেন?

যাদের বৈধ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ আছে, বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে এবং যারা ইনডেক্সধারী নন, তারা আবেদন করতে পারবেন।

ইনডেক্সধারীরা কি কোনোভাবেই আবেদন করতে পারবেন না?

সাধারণভাবে পারবেন না। তবে স্কুলে ইনডেক্স থাকলেও কলেজে ইনডেক্স না থাকলে কলেজে আবেদন করা যাবে, যদি নিবন্ধন থাকে।

বয়স গণনা কোন তারিখ থেকে হবে?

বয়স গণনা করা হবে ২০২৫ সালের ৪ জুন থেকে।

সর্বোচ্চ কতটি প্রতিষ্ঠানে পছন্দ দেওয়া যাবে?

সর্বোচ্চ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দ দেওয়া যাবে।

Other Option না দিলে কী সমস্যা হবে?

সমস্যা হবে না। তবে দিলে পছন্দের বাইরে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

শেষ কথা

৭ম গণবিজ্ঞপ্তি ২০২৬ বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে যাচ্ছে। ৬৭ হাজারের বেশি শূন্য পদ, নতুন পছন্দের নিয়ম এবং স্পষ্ট বয়স ও সনদ নীতিমালা মিলিয়ে এটি নিবন্ধনধারী প্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। যারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন, তাদের উচিত এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া। সঠিক তথ্য জেনে এবং নিয়ম মেনে আবেদন করলে কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *