বাংলাদেশে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যারা দেখেন, তাদের জন্য ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করে Non-Government Teachers’ Registration and Certification Authority, যা সংক্ষেপে NTRCA নামে পরিচিত। বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য এই নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। সঠিক তথ্য জানা না থাকলে অনেক যোগ্য প্রার্থীও আবেদন থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন। তাই এই লেখায় ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত, সহজ ও নির্ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যাতে আপনি শুরু থেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার গুরুত্ব
১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৫ জানা শুধু আবেদন করার জন্য নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনার জন্যও জরুরি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। ফলে যারা শিক্ষকতা পেশাকে পেশাগতভাবে নিতে চান, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নিয়ম, পদ্ধতি ও যোগ্যতায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। তাই পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে হালনাগাদ যোগ্যতা জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।
স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা
সাধারণ প্রার্থীদের জন্য যোগ্যতা
স্কুল পর্যায়ে ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে অবশ্যই উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অথবা স্নাতক সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। যারা সদ্য স্নাতক পরীক্ষা শেষ করেছেন, তারা সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত প্রশংসাপত্র, মার্কশিট ও প্রবেশপত্র দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাজীবনে সর্বোচ্চ একটি তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের মধ্যে শুধুমাত্র একবার তৃতীয় শ্রেণি থাকলে আবেদন করা যাবে। বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদন থাকতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা
মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পড়াশোনা করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর ফাজিল ডিগ্রি থাকলে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করা যাবে। এখানেও ডিগ্রির স্বীকৃতি ও শিক্ষাজীবনের শ্রেণিভাগের নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে।
বয়সসীমা
স্কুল পর্যায়ে আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স গণনা করা হবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী। আরও জানতে পারেনঃ
স্কুল পর্যায়-২, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ও জুনিয়র শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা
সাধারণ প্রার্থীদের জন্য
এই স্তরের ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পাস অথবা ডিগ্রি বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়েই তৃতীয় শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কারিগরি HSC ভোকেশনাল বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায়ে একটির বেশি তৃতীয় শ্রেণি থাকলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন আবশ্যক।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আলিম বা সমমানের ডিগ্রি থাকলে স্কুল পর্যায়-২ বা ইবতেদায়ী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করা যাবে। এখানেও বয়স ও শ্রেণিভাগের শর্ত একইভাবে প্রযোজ্য।
কারিগরি শিক্ষার যোগ্যতা
কারিগরি শাখার জন্য ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল বা সমমানের প্রযুক্তিগত ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই প্রার্থীকে মূল্যায়ন করা হবে।
বয়সসীমা
এই পর্যায়েও বয়সসীমা ন্যূনতম ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছর নির্ধারিত।
কলেজ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা
সাধারণ প্রার্থীদের জন্য
কলেজ পর্যায়ে ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক পাশের পর স্নাতক সম্মান বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করলে অবশ্যই বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন থাকতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রার্থীদের জন্য ফাজিল বা কামিল সমমানের ডিগ্রি থাকলে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় আবেদন করা যাবে।
বয়সসীমা
কলেজ পর্যায়েও প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ধাপ ও কাঠামো
১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬ পূরণ করার পাশাপাশি পরীক্ষার কাঠামো জানা অত্যন্ত জরুরি। এই পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।
MCQ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাধারণ অংশ থেকে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এখানে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসে। সাধারণত ৪০ শতাংশ নম্বর পেলেই প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ধরা হয়।
লিখিত পরীক্ষা
প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এখানে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও উপস্থাপন দক্ষতা যাচাই করা হয়।
আরও জানতে পারেনঃ Kazi Farms Job Circular
ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা
সবশেষ ধাপে থাকে ভাইভা পরীক্ষা, যেখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
সাধারণ অংশের নম্বর বণ্টন
বাংলা ২৫, ইংরেজি ২৫, গণিত ২৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ২৫ নম্বর নিয়ে মোট ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই অংশে ভালো করতে পারলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পথ অনেক সহজ হয়।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নতুন পদ্ধতি
নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি তিন বিভাগের জন্যই ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে জেনারেল ও সাবজেক্টিভ অংশের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কোনো বিভাগের সঙ্গে বৈষম্য না হয়। এই পরিবর্তন ১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৬-এর পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বণ্টন ও প্রস্তুতি
ভাইভা পরীক্ষা মোট ২০ নম্বরের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সার্টিফিকেট যাচাইয়ে ১২ নম্বর, পোশাক ও উপস্থাপনায় ৪ নম্বর এবং প্রশ্নোত্তরে ৪ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ভাইভায় ভালো করতে হলে নিজের বিষয়ের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা দরকার।
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল
নিয়মিত পড়াশোনা, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ, নোট তৈরি এবং মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ করলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার দিন সুস্থ শরীর ও স্থির মন আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা
স্কুল পর্যায়-২ বা ইবতেদায়ী শিক্ষক নিবন্ধন কী?
শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কত বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়া যায়?
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের বেতন কত?
১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সময়সূচি কবে?
শেষ কথা
১৯তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার যোগ্যতা ২০২৫ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত সাফল্য পর্যন্ত পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় সফল হতে হলে শুধু যোগ্যতা পূরণ করলেই চলবে না, বরং নিয়মিত অনুশীলন, সঠিক কৌশল ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং ধৈর্য আপনাকে একজন সফল শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
